fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

কৃষকদের সমর্থনে অনশনের হুমকি আন্না হাজারের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: কেন্দ্র কৃষকের সমস্যার সমাধান না করলে তিনি অনশন ধর্মঘটে যাবেন আন্না হাজারে। সোমবারই ভারতের কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমারকে পাঠানো এক চিঠিতে এ কথা লেখেন তিনি।গত ৮ ডিসেম্বর বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলে দাবিতে কৃষকদের ভারত বনধ কর্মসূচির সমর্থনে দিনব্যাপী অনশনে বসেছিলেন আন্না হাজারে। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘এই আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে হবে। যাতে সরকার কৃষকের পক্ষে কাজ করতে বাধ্য হয়।’এর আগে, ২০১৪ সালে ফেব্রুয়ারিতে মহারাষ্ট্রের আহমেদনগরের রালেগাঁও সিদ্ধি গ্রামে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনশনে বসেছিলেন তিনি।

একদিকে কৃষকদের দিনভর অনশন। অন্যদিকে, অনড় নরেন্দ্র মোদি সরকার। কৃষি আইন নিয়ে রাজধানীর সীমানায় সংঘাতের আঁচ আরও তীব্রতর হচ্ছে। সরকার স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে, আইন প্রত্যাহার হবে না। এরপরও ফাঁক থেকেই যাচ্ছে। কারণ, কেন্দ্র যে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে মরিয়া, তা সোমবার আরও একবার প্রকাশ হয়েছে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমারের বক্তব্যে। তিনি বলেছেন, ‘আইনের সমর্থনে বহু কৃষক সংগঠন রয়েছে। তবে আন্দোলনকারী কৃষকদের সঙ্গে সরকারের আলোচনার দরজা সবসময় খোলা। আইনে কী সংশোধন সরকার করতে চায়, তা আন্দোলনকারীদের কাছে প্রস্তাবাকারে পাঠানো হয়েছে। আমরা আলোচনার অপেক্ষায় আছি।

সোমবার শুরুতেই কৃষকেরা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ‘সারা দিন জল স্পর্শ করব না। না খেয়ে মরে যাব, তবু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’ দিনের শেষে দিল্লি-জয়পুর হাইওয়েতে মিছিল আটকে দেওয়ায় পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বেধেছে কৃষকদের। জল্পনা, কৃষক আন্দোলনের নতুন কেন্দ্রস্থলে পরিণত হতে চলেছে রাজস্থান-হরিয়ানা সীমানা। সিংঘু, তিক্রি, গাজিপুর সীমানার মতো দিল্লি সংলগ্ন একাধিক সীমানা এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে অনশন ধর্নায় বসেছেন আন্দোলনকারী কৃষকেরা।কৃষকদের সমস্যা সমাধান না করলে অনশনে বসবেন আন্না হাজারে। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীকে চিঠি লিখে হুঁশিয়ারি প্রবীণ সমাজসেবকের।

আরও পড়ুন: রাজ্যে একটার পর একটা বিজেপি কর্মীকে খুন করাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিস্ফোরক রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়

তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে সরকারের উপর ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে কৃষক সংগঠনগুলি। কয়েক লাখ কৃষক রাস্তায় নেমেছেন। আর এবার কৃষকদের আন্দোলনে সামিল হয়েছেন আন্না। আরও একবার অনশনের রাস্তা নিয়েছেন তিনি।তিনি বলেছেন, ”দিল্লির আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া উচিত। সরকারের উপর ক্রমাগত চাপ দেওয়া উচিত। যাতে সরকার কৃষদকদের কথা শুনতে বাধ্য হয়। নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে কৃষকদের আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আন্দোলন হবে অহিংস। সেখানে হিংসার ছড়ালে চলবে না। আমার সমর্থন রয়েছে কৃষকদের এই আন্দোলনে। সরকার অবিলম্বে কৃষকদের দাবি মেনে নিক। কৃষি আইন হিতকর হলে কৃষকরা এভাবে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করত না।”

আন্না হাজারে তোমারকে দেওয়া চিঠিতে রাধা মোহন সিংয়ের চিঠিটিও সংযুক্ত করে দিয়েছেন। যেখানে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, উচ্চতর কমিটি প্রতিবেদন তৈরি করে ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে জমা দেবে।‘কেন্দ্র তখন আশ্বাস দিয়েছিল কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দাবির বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’হাজারে তোমারকে পাঠানো চিঠিতে লিখেছেন, ‘যেহেতু আজ অবধি কিছুই করা হয়নি, তাই আমি ২০১৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারিতে যে অনশন বন্ধ করেছিলাম তা আবার শুরু করার চিন্তা করছি।’অনশনের জায়গা ও তারিখ খুব শিগগির জানতে পারবে কেন্দ্র।

Related Articles

Back to top button
Close