fbpx
দেশহেডলাইন

কৃষক বিক্ষোভে রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগের পথ অবরুদ্ধ, শাহের বাড়িতে জরুরি বৈঠকে তোমর-গোয়েল

দু'দিন ধরে নয়ডা-দিল্লি রোডের ওপরে অবস্থান কৃষকদের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  কৃষক দিল্লি যেতে হলে চিল্লা রুট এড়িয়ে চলুন। তার বদলে যান ডিএনডি অথবা কালিন্দি কুঞ্জ রোড দিয়ে। বুধবার অফিসযাত্রীদের এমনই নির্দেশ দিয়েছে নয়ডা ট্রাফিক পুলিশ। মঙ্গলবার থেকে আন্দোলনরত কৃষকরা বসে আছেন নয়ডা-দিল্লি সীমান্তে। ফলে নয়ডার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নয়ডা সীমান্তে যে কৃষকরা অবস্থান করছেন, তাঁরা এসেছেন পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ থেকে। তাঁরা রাজধানীতে গিয়ে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকদের সঙ্গে যোগ দিতে চান। বিতর্কিত কৃষি আইনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভে শামিল হওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ থেকে রাজধানী ঢোকার একাধিক রাস্তা আটকে বসে রয়েছে নয়া কৃষি আইন বিরোধী কৃষকরা। বিপুল সংখ্যায় পুলিস, ব্যারিকেড, জলকামান নিয়ে গিয়ে দিল্লি ঢুকতে অনড় কৃষকদের আটকে রেখেছে পুলিস।

কেন্দ্রের সঙ্গে প্রথম পর্বের আলোচনায় রফাসুত্র মেলেনি। ৩ ডিসেম্বর অর্থাৎ বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের সঙ্গে ফের বৈঠকে বসতে চলেছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। কিন্তু তার আগে আজ সকাল থেকেই বিক্ষোভের তীব্রতা যেন বৃদ্ধি পাচ্ছে।  সিঙ্ঘু সীমান্তে হরিয়ানা এবং পাঞ্জাব থেকে আসা কৃষকরা নতুন করে দিল্লিতে প্রবেশ করার চেষ্টা না করলেও গাজিপুর-গাজিয়াবাদ সীমান্ত দিয়ে উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা রাজধানীতে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। তাঁদের পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙতেও দেখা যায়। বাধ্য হয়ে দিল্লিতে ঢোকার পাঁচটি রাস্তা পুরোপুরি সিল করে দিয়েছে পুলিশ। কোনওরকম যানবাহন চলাচলেরও অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

কৃষকদের বিক্ষোভের তীব্রতা যত বাড়ছে, তত বাড়ছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও। এতদিন পর্যন্ত শোনা যাচ্ছিল, করোনা পরিস্থিতিতে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন বাতিল করতে পারে সরকার। তা জুড়ে দেওয়া হতে পারে আগামী বাজেট অধিবেশনের সঙ্গে। সরকারি সূত্র দাবি করেছিল, বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা করেই অধিবেশন বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে কেন্দ্র। কিন্তু কৃষকদের বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তেই উলটো সুর শোনা যাচ্ছে কংগ্রেসের গলায়। কৃষি আইন নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদের অধিবেশন ডাকার প্রস্তাব দিচ্ছে তারা। দলের বর্ষীয়ান নেতা তথা পাঞ্জাবের সাংসদ মণীশ তেওয়ারি  বলছেন,”কৃষকরা দিল্লিতে অবস্থান করছেন। অর্থনীতিতে সরকারিভাবে মন্দা চলছে। সরকারের যত দ্রুত সম্ভব লোকসভার অধিবেশন ডাকা উচিত।”

এর মধ্যেই কৃষক আন্দোলন নিয়ে অমিত শাহের সঙ্গে আলোচনায় বসলেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর ও রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। এনিয়ে বৃহস্পতিবার ফের আলোচনা হবে আন্দোলনকারী কৃষকদের সঙ্গে। মঙ্গলবার কেন্দ্রের সঙ্গে ৩৫ কৃষক নেতার টানা ৩ ঘণ্টার বৈঠকে কোনও সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসেনি। একটি কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করার প্রস্তাব দিয়েছিল কেন্দ্র। তা পত্রপাঠ নাকচ করে দেন কৃষক নেতারা।

আরও পড়ুন: যোগীরাজ্যের মডেলে বাংলা জিততে চান শাহ

কেন্দ্রের তরফে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলে সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়া হয় কৃষকদের তরফে। তাঁদের বক্তব্য, এখন আর কমিটি গড়ার সময় নেই। ৩ ডিসেম্বর ফের একবার কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন কৃষকরা। ফের একবার সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে। তবে কৃষকদের একটাই দাবি, কৃষি আইন প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা। বুধবারের বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। কৃষকদের তরফে কারা সেই কমিটিতে থাকবেন তার নাম দেওয়ার কথা বলা হয়। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটা ছোট দল চেয়েছিলাম। কিন্তু কৃষকরা জানালেন তাঁরা সবাই কথা বলবেন। আমরা তাতে কিছু মনে করিনি। আমরা চাই ওনারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে আলোচনা করুন। কিন্তু সবটাই কৃষকদের উপর নির্ভর করছে।’

বুধবার কৃষকদের ৩৫ সদস্যের একটি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন নরেন্দ্র তোমর, পীযূষ গোয়েল ও সোম প্রকাশ। বৈঠকের পরে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের প্রধান রূপ সিং সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বিশেষ কমিটি গঠন নিয়ে সরকারের প্রস্তাব আমরা মানিনি। আমরা দাবি করছি কৃষি আইন প্রত্যাহার করুক সরকার। যদি সরকার ক্ষমতার ব্যবহার করে তা হলেও আমরা পিছু হটব না। আমাদের আন্দোলন জারি থাকবে।’

 

Related Articles

Back to top button
Close