fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

উত্তরপ্রদেশ যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় মৃত্যু মেমারি নিবাসী বাবা ও ছেলের, জখম আরও  ৩  

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান:  চারচাকা গাড়ি চড়ে স্বপরিবার কর্মস্থল উত্তরপ্রদেশ যাওয়ার পথে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল বাবা ও ছেলের। মৃতরা হলেন ইসলাম সেখ (৪৫) ও ইনামুল সেখ (১৫)। গুরুতর জখম হয়েছেন ইসলামের স্ত্রী রেজিনা বিবি, মেয়ে তাসমিন খাতুন ও রেজিনার ভাই আলী সেখ। শনিবার দুর্ঘটনাটি ঘটেছে জাতীয় সড়কে বিহারের ঔরঙ্গাবাদে । মৃত ও জখমরা সকলেই পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার নিমো  ১ পঞ্চায়েতের কাঁঠালগাছি গ্রামের বাসিন্দা ।

 

রবিবার সকালে বাবা ও ছেলের মৃতদেহ পৌছায় কাঁঠালগাছি গ্রামের বাড়িতে ।  জখম পরিবার সদস্যদের বিহারের ঔরঙ্গাবাদ  থেকে উদ্ধার করে এনে এদিন ভর্তি করা হয়ে বর্ধমানের বাইপাশের ধারে একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে । এই ঘটনায় কাঁঠালগাছি গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে । মৃত ইসলাম সেখের ভাই দিলু সেখ এদিন বলেন ,উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে তাঁর দাদার সোনার গহনা ব্যবসার প্রতিষ্ঠান রয়েছে । সেই কারণে  স্বপরিবার ইসলাম ঝাঁসিতেই থাকতেন । করোনা অতিমারির কারণে দেশজুড়ে লকডাউন জারি হলে ইসলাম তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে স্বপরিবার কাঁঠালগাছি গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন । লকডাউন ওঠার পর বর্তমানে ঝাঁসিতে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে ।  দোকান বাজারও চালু হয়েছে ।

 

দিলু  বলেন, দীর্ঘদিন সোনার গহনা ব্যবসার প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাঁর দাদা ইসলামের আর্থিক ক্ষতির পরিমান বাড়ছিল । সেই কারণে দাদা ঝাঁসিতে ফিরে গিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করার  সিদ্ধান্ত নেন। দিলু জানান, আগে বাড়িতে আসলে  তাঁর দাদা পরিবার সদস্যদের নিয়ে ট্রেনে চড়েই ঝাঁসি যাতায়াত করতেন । কিন্তু এখন ট্রেন না চলায় ঝাঁসি  পৌছানোর জন্য তাঁর দাদাকে চারচাকা গাড়ি ভাড়া করতে হয় । শুক্রবার রাতে দাদা স্বপরিবার চারচাকা  গাড়িতে চড়ে মেমারির কাঁঠালগাছি থেকে ঝাঁসির উদ্দেশ্যে রওনা দেন । শনিবার ভোরে জাতীয় সড়কে বিহারের ঔরঙ্গাবাদে ঘটে যায় ভয়াভহ পথ দুর্ঘটনা । দিলু সেখ জানান,তাঁর দাদা স্বপরিবার যে গাড়িতে  ছিল সেই গাড়ি চালাতে চালাতেই চালক ঘুমিয়ে পড়ে। তখনই গাড়িটি স্বজোরে ধাক্কা মারে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরিতে । ঘটনাস্থলেই তাঁর দাদা ও ভাইপোর মৃত্যু হয় ।

 

গুরুতর জখম হয় দাদার স্ত্রী ,মেয়ে ও শ্যালক । তাঁদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক । চিকিৎসার জন্য জখমদের সবাইকে উদ্ধার করে বর্ধমানে আনা হয়েছে ।বিহারের হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে গাড়ির চালক । এদিনই কাঁঠালগাছি গ্রামের কবর স্থানে বাবা ও ছেলের মৃতদেহ কবরস্থ করা হয় ।  মেমারি থানার পুলিশও দুর্ঘটনার বিষয়ে সবিস্তার খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করেছে ।

Related Articles

Back to top button
Close