fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বাবা, সংক্রমিত মা ও বোনও, পারলৌকিক ক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পুত্র

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাবা মারা গিয়েছে। বাবার সংস্পর্শে আসায় মা ও বোনের শরীরেও করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। শনিবার রাতে সেই রিপোর্ট আসার পর রবিবার সকালে তাদের কোভিড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য। এই পরিস্থিতিতে ফাঁকা বাড়িতে একা অসহায় পূত্র শুভদীপ ভেবে পাচ্ছেন না বাবার পারলৌকিক ক্রীয়া কীভাবে করবেন বা আদৌ করতে পারবেন কি না। কেনা শুক্রবার তার রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও এ ক’দিন বাড়িতে মা ও বোনের সংস্পর্শে সে এসেছে। কাজেই পরবর্তী লালারসের নমূনা পরীক্ষায় যদি তার শরীরেও করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে তাহলে তাকেও হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। সেক্ষেত্রে বাবার পারলৌকিক ক্রীয়া করার সুযোগ নাও পেতে পারে।

শিলিগুড়ি পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসীন্দা শুভদীপ এই অন্ধকারের মধ্যেও ভুলতে পারছে না তাদের কোনও খবর না দিয়ে হাসপাতাল থেকে তার বাবার মৃতদেহ সৎকার করে দেওয়ার ঘটনা। তাই মা ও বোনকে এদিন হাসপাতালে প্রশাসনের থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় শুভদীপের চোখমুখে ছিল অন্য এক উদ্বেগ, আতঙ্ক। মুখে না বললে অভিব্যক্ততে বুঝিয়ে দিয়েছে তার সেই উদ্বেগের কারণ। ‘বাবার মতো অবস্থা মা ও বোনের হবে না তো? এই প্রশ্নটাই ভাবিয়ে তুলেছে হতভাগ্য শুভদীপকে।

বাবার মৃত্যুর খবর তাদের না জানিয়ে সৎকার করে দেওয়ার ঘটনায় স্বাস্থ্য দফতর চাপের মধ্যে রয়েছে। এনিয়ে শিলিগুড়িতে বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলনে নেমেছে। এই ওয়ার্ডেরই বাসিন্দা হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটে যাওয়ায় পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেবও অস্বস্তিতে পরে গিয়েছেন।

এদিন সকালে তিনি শুভদীপদের বাড়িতে গিয়েছিলেন। করোনা বিধি মেনে শুভদীপ ও তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে সব রকম সহযোগিতা ও পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ শুভদীপের বাবা বিমল পাল সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয় মারা গিয়েছেন তাঁর স্ত্রী এবং কন্যার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। ছেলের রিপোর্ট নেগেটিভ। এদিন তাঁদের চিকিৎসার জন্য ডিসান কোভিড হাসপাতালে পাঠানো হয়। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডাঃ দিপাঞ্জন বন্দোপাধ্যায়কে অনুরোধ করা হয়েছে তাদের চিকিৎসার ব্যাপারটি দেখভাল করার জন্য। তার ছেলে বাবার বাড়িতে পরলৌকিক ক্রিয়াকর্ম পালন করছে। ওয়ার্ড কমিটি এবং আমি নিজে তার বিষয়গুলো দেখভাল করছি। সে একা বাড়িতে আছে। পাড়ার সমস্ত মানুষজন তাকে ভরসা দিয়েছে।’

Related Articles

Back to top button
Close