fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশবিজ্ঞান-প্রযুক্তিহেডলাইন

প্রত্যাশা পূরণের পথে ভারত, মহিলা বিজ্ঞানীর হাত ধরে ২০২২-এ মহাকাশে পাড়ি দেবে ভারতীয় মহাকাশচারী

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: গত কয়েক বছর আগে স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে যে কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, এবার সেই কথাই সত্যি হতে চলল। আর তার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে।

কি সেই প্রস্তুতি!!!
২০২০ সালে ভারতীয় মহাকাশচারী যাবে মহাকাশে। এবার সেই কথাই নিশ্চিতভাবে জানিয়েছেন, ইসরোর চেয়ারম্যান কে সিভান। ২০২২-এ এই অভিযানের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। এই কাজের দায়িত্ব ভার রয়েছে এক মহিলা বিজ্ঞানীর কাঁধে। তার গবেষণাই ভারতের মাথায় সেই জয়ের মুকুট এনে দেবে।

২০০৪ থেকে মহাকাশে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা নেয় ইসরো। এই মিশন সফল করার জন্য লাগাতার পরিশ্রম করে গিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এখনও চলবে নানা ধরনের কর্মসূচি। মহাকাশে মানুষ পাঠানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল মহাকাশচারীদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করলেই মহাকাশযানগুলি বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণে প্রবল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই তাপকে সহ্য করার মতো প্রযুক্তি তৈরিই মহাকাশে মানুষ পাঠানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তাই, এই অভিযানের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল ক্রু মডিউল। এটি একটি ক্যাপসুল, যা মানুষকে মাধ্যাকর্ষণের বাইরে নিয়ে যাবে, আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসবে পৃথিবীতে। সেই প্রযুক্তি সঠিকভাবে পরীক্ষা করাই গবেষক ললিথাম্বিকার দায়িত্ব। এছাড়া এই মিশনে ডিআরডিও, এয়ার ফোর্স ও একাধিক বেসরকারি সংস্থাকে যুক্ত করার কাজটিও করবেন তিনি।

কে সেই মহিলা বিজ্ঞানী

মহিলা বিজ্ঞানীর নাম ললিথাম্বিকা ভিআর। ১৯৬২ সালে বিজ্ঞানী ললিথাম্বিকা ভিআর তিরুবন্তপূরমে জন্ম। থুম্বা রকেট টেস্টিং সেন্টার কাছে তার বাড়ির কাছেই ছিল। তাই ছোট থেকে ইসরোর প্রতি তিনি আকৃষ্ট হন। পাশাপাশি তাঁর দাদু যিনি নিজে বাড়িতে লেন্স, মাইক্রোস্কোপ ইত্যাদির মতো গ্যাজেট বানাতেন। দাদু ছিলেন গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, গ্যাজেট-মেকার। বাবা ছিলেন একজন ইঞ্জিনিয়ার। মূলত বাড়ির পরিবেশ আর তাঁর নিজের বিজ্ঞানের প্রতি ভালোলাগাই পরবর্তী কালে ললিথাম্বিকাকে এই পেশায় নিয়ে আসে।

বর্তমানে ইসরোর বিজ্ঞানী ললিথাম্বিকা এর আগে রকেটের অটোপাইলট সিস্টেমের জন্য কাজ করছেন। জিএএলভি-এমকে-৩ রকেটের ডিজাইন তৈরির সময় টিমকে লিড করেছিলেন তিনি। ওই রকেটে চেপেই মহাকাশে মানুষ নিয়ে যাবে।  ললিথাম্বিকা ভিআর বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারের প্রাক্তন ডেপুটি ডিরেক্টর।

মহিলা রকেট সায়েনটিস্ট ললিথাম্বিকা ভিআর এর কাঁধেই ভারতের ‘হিউম্যান স্পেস ফ্লাইট প্রোগ্রাম’-এর দায়িত্ব রয়েছে। এই প্রজেক্টের জন্য খরচ হচ্ছে ১০,০০০ কোটি টাকা।

লঞ্চ ভেইকলের প্রযুক্তিতে বিশেষ দক্ষতার জন্য অ্যাস্ট্রোন্যটিক্যাল সোস্যাইটি অফ ইন্ডিয়া পুরস্কৃত করেছিল ললিথাম্বিকাকে। তাঁর হাত ধরেই বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে মহাকাশে মানুষ পাঠাবে ভারত। রাশিয়া, আমেরিকা ও চিন এর পরে ভারত সেই তালিকায় নিজেদের নাম লেখাতে চলেছে। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ভারতের মাথায় একটি নতুন পালক জুড়ে দেবে।

 

Related Articles

Back to top button
Close