fbpx
কলকাতাবিনোদনহেডলাইন

টলিপাড়ার পাশের কলেজে চলচ্চিত্র উৎসব

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিজয়গড়: করোনা পরিস্থিতিতে পিছিয়ে গিয়েছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। কিন্তু গতকাল বিজয়গড় কলেজের উদ্যোগে শুরু হল অভিনব অনলাইন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, অঙ্কুর ২০২০। দূরদর্শন কেন্দ্র, কলকাতার লাগোয়া ও টালিগঞ্জ স্টুডিও পাড়ার কাছের এই কলেজে, তরুণ সিনেমা নির্মাতাদের নিয়ে, আন্তর্জাতিক তথ্যচিত্র এবং স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজিত হল। দু’দিনব্যাপী এই উৎসব ও প্রতিযোগিতা ‘অঙ্কুর’ অঙ্কুরিত হয়েছে এই বছরই। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও চলচ্চিত্রানুরাগীদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে তাদের এই প্রচেষ্টা। আয়োজনে বিজয়গড় জ্যোতিষ রায় কলেজের সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগ ও ফিল্ম মেকিং (ডিপ্লোমা) বিভাগ বাংলাদেশের পুন্দ্রেনগর ফিল্ম সোসাইটি ও ভারতের ‘ইম্প্যাক্ট’ য়ের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ সফল করে। কলেজের অধ্যক্ষা ড. রাজশ্রী নিয়োগী জানান, কোনও সরকারি কলেজের এমন উদ্যোগ বাংলায় প্রথম। উৎসবের দুদিনে প্রাথমিকভাবে বাছাই দেশ-বিদেশের ১৬৮টির মধ্যে ২০টি চলচ্চিত্র দেখানো হয়। যার মধ্যে ১০টি বিভাগে সেরা ১০টি সিনেমাকে পুরষ্কৃত করা হল আজ।

জুম অ্যাপে প্রদর্শিত এবারের উৎসবের অধিকর্তা, খ্যাতনামা পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। ছিলেন উৎসবের চেয়ারম্যান, জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত পরিচালক অতনু ঘোষ এবং উৎসবের কো-অর্ডিনেটর তথা উৎসবের জুরি সদস্য পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য। উৎসবের প্রথমদিনে প্রধান অতিথি ছিলেন হিসাবে কলকাতা দূরদর্শনের প্রোগ্রামিং হেড অরুণাভ রায়ও। ছিলেন বাংলাদেশের বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক আবু সৈয়দ ও বিজ্ঞানভিত্তিক চলচ্চিত্র পরিচালক নন্দন খুদাইদি।

প্রধান উদ্যোক্তা সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগের প্রধান, অধ্যাপক ড. অর্ণব কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জানান অংকুর চলচ্চিত্র উৎসবের লক্ষ্যই হল ‘ নতুন প্রতিভাকে খুঁজে বের করা।

প্রথম দিনের সান্ধ্যকালীন সেশনে ছিল আন্তর্জাতিক স্তরে চলচিত্রের বিতরণ ব্যবস্থা, বিপনণ ব্যবস্থা এবং স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়ে আলোচনা। পুরনো দিনের চলচ্চিত্র উৎসব এবং বর্তমান যুগের চলচ্চিত্র উৎসবের তুলনামূলক আলোচনাও হয়।
আজ চলচ্চিত্র নির্মাতা জ্যোতির্ময় দেবের লেখা রুপালি পাবলিকেশন দ্বারা প্রকাশিত “তথ্যচিত্র পরিচয়” পুস্তকটির উদ্বোধন করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা সোমেশ্বর ভৌমিক এবং অধ্যাপিকা মৌসুমি ভট্টাচার্য্য। সোমেশ্বর ভৌমিকের কথায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের জীবন থেকে তথ্যচিত্রের ইতিহাস এখনও মুছে যায়নি। দুর্যোগের মধ্যেও তথ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে।

আরও পড়ুন:ষষ্ঠী থেকে খুলে যাচ্ছে কালীঘাট মন্দির, কোভিড বিধি মেনে গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে পারবে ভক্তরা

উৎসবের পুরস্কার বিতরণী পর্বের বিচারকমণ্ডলীতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতাগণ যথাক্রমে সুপ্রিয় সেন, অতনু ঘোষ এবং প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য। ছিলেন ভারত সরকারের বিজ্ঞান প্রসারের ডিরেক্টর নকুল পরাশর। ৪ টি বিভাগের মধ্যে বৈদেশিক তথ্যচিত্রের মধ্যে প্রথম পুরষ্কারে ভূষিত চলচ্চিত্র নৈনিসা দেধিয়া’র নির্মিত “পিরানা”, দ্বিতীয় পুরষ্কারে সন্মানিত হয় আযালিয়া মুছ্রান্সিয়াহ’র নির্মিত “বিগ ডুরিয়ান বিগ অ্যাপেল” এবং হিন্দল-হি-শিয়ান’র “দ্য টাইপরাইটার”। দ্বিতীয় বিভাগে বৈদেশিক স্বল্প দৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্রের মধ্যে প্রথম পুরষ্কার প্রাপক চলচ্চিত্র “এক্রেম অযজেন্স” এবং লালে গুরবানভা’র নির্মিত চলচ্চিত্র “দ্য ফ্রেম”, দ্বিতীয় পুরষ্কার পান ইশতিয়াক আহম্মদ জিহাদ, তার নির্মিত “রান অ্যাওয়ে” এবং প্যাত্রিস গুইলিয়ান, তার “লা দার দেস দার” জন্য। ভারতীয় স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রের মধ্যে প্রথম পুরষ্কার পেল রাকেশ মোইর্যাং দম’র নির্মিত “পি দ্য আম্ব্রেলা” এবং অভিষেক লাগাস’র নির্মিত “কুরদাই”। দ্বিতীয় পুরষ্কার প্রাপ্ত চলচ্চিত্র ছিল সুমানিন্দ্য সঙ্কর দাস’র নির্মিত “লুপ” এবং অর্জুন মুখোপাধ্যায়’র নির্মিত চলচ্চিত্র “দ্য সেভিয়র”। তৃতীয় পুরষ্কার প্রাপ্ত চলচ্চিত্র প্রতীক দে চৌধুরী’র “আই সি” ও চতুর্থ বিভাগে জুরি পুরষ্কার পায় চলচ্চিত্র স্বদেশ গাঙ্গুলি’র “সাইকেল” এবং জিতাংসু সর্মা’র “ফ্যান্টাসি ক্যাফে”।

Related Articles

Back to top button
Close