fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অবশেষে চণ্ডীপুরের পটচিত্র শিল্পীরা পেল ওবিসি শংসাপত্র

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক: অবশেষে স্বপ্ন সফল। বহুদিনের লড়াইয়ের পর বেশকিছু মানুষের আন্তরিক প্রচেষ্টায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটচিত্র শিল্পীরা অবশেষে পেল ওবিসি আদার ব্যাকওয়ার্ড কাস্ট সার্টিফিকেট। স্বভাবতই খুশি পটুয়াপাড়ার মানুষজন।বিশিষ্ট পটচিত্র শিল্পী আবেদ চিত্রকরের কথায় ‘এটা যেন আমাদের কাছে যুদ্ধ জয়ের পরম তৃপ্তি। বহুদিনের লড়াইয়ের ফসল অবশেষে ঘরে তুললাম’। চণ্ডীপুরের নানকারচক, হবিচকের এই পটুয়াপাড়া গড়ে উঠেছিল প্রায় ৩০০ বছর আগে। ভারতের অন্যান্য উপজাতিগুলির মধ্যে ‘পটিদার’ একটি অন্যতম উপজাতি। সরকারের ঘোষণা অনুসারে ‘পটিদার’ জাতি ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্ত। কিন্তু নানা নিয়মের বেড়াজালে দীর্ঘদিন আটকে পড়েছিল চন্ডীপুর ব্লকের পটচিত্র শিল্পীদের শংসাপত্র দেওয়ার বিষয়।

মূলতঃ চন্ডীপুর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অভিষেক দাসের প্রচেষ্টায় অসাধ্য সাধন হয়েছে বলে অভিমত পটুয়াদের। তিনি জানান, এই পটশিল্পীদের জাতি চিহ্নিতকরণ সংক্রান্ত কিছু  সমস্যার কারণে এই শংসাপত্র এতদিন দেওয়া সম্ভব হয়নি। অবেশেষে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক অমিয়কান্তি ভট্টাচার্য এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অপর্ণা ভট্টাচার্য পাশে ছিলেন বরাবরই। অবশেষে সেটি তাঁরা পেলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বিধায়ক অমিয়কান্তি ভট্টাচার্য বলেন, এখানকার গর্ব এই পটুয়াপাড়া। এঁদের পাশে থাকবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

[আরও পড়ুন- বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে মহানন্দা নদীর জল]

শংসাপত্র পাওয়ার এই লড়াইয়ে চন্ডীপুর ব্লকের অনগ্ৰসর কল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের ইনস্পেক্টর হিন্দোল পড়িয়াও সহায়ক হয়ে ওঠেন। তমলুক মহকুমাশাসক ড. কৌশিকব্রত দে এদিন ওবিসি সার্টিফিকেট তুলে দেন পটুয়াদের হাতে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটচিত্র শিল্পীদের যাবতীয় উন্নয়নে সর্বদা পাশে থাকেন শ্যামসুন্দরপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অরুনাংশু প্রধান। তিনি বলেন, এই শংসাপত্রটি খুব জরুরি ছিল এখানকার শিল্পীদের জন্য। এখানে প্রায় ১৫০ পরিবার পটচিত্রের কাজের সাথে যুক্ত। কিন্তু তেমনভাবে সরকারের বদান্যতা মেলেনি বলে অভিযোগ পটচিত্র শিল্পীদের। অবশেষে এই শংসাপত্র এখানকার পটিদারদের জীবনে অন্য সুযোগ তৈরি করে দেবে।

 

Related Articles

Back to top button
Close