fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

করোনা ও মমতার করুণা থেকে বাঁচার উপায় আপনারাই খুঁজে নিন

দিলীপ ঘোষ: যদি শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যেত তাহলে অনেকেই ভুল করে পার পেয়ে যেতেন কিন্ত বাস্তবে সেটা খুব একটা সম্ভব হয় না। তাই আমাদের মুখ্যমন্ত্রী চীনকে অনুকরণ করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা চেপে বা ভুল তথ্য দিয়ে গত পাঁচ মাস ধরে রাজ্যবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে আখেরে কোন লাভ নেই জেনেও তিনি এবং তার ধামাধারী কিছু সরকারি আমলা পরিকল্পনামাফিক এই কাজ করে আসছেন যা আমাদের রাজ্যের সমস্ত মানুষকে এক চরম বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। আজ আমাদের রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা লক্ষাধিক এবং বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থার যা হাল তার থেকে এটা পরিষ্কার যে আগামী দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে। এর থেকে বাঁচার কি উপায় তা আমাদের জানা নেই কিন্তু আমরা যে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। এর থেকে বেরিয়ে আসার পথ আমাদেরই খুঁজে নিতে হবে কারণ এই মুহূর্তে রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থার যা হাল তাতে করোনা রুগীদের পরিষেবা দেওয়া তো দূরে থাক, এই সরকার খুব সাধারণ রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা দিতে পারবে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

আমরা মনে করি সরকারের অদূরদর্শিতা, অতি তৎপরতা এবং পরিকল্পনাহীন লকডাউন আজকের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। শুধু করোনা মহামারী নয়, এই সরকার প্রায় সমস্ত রোগের ডেটা প্রকাশ করতে ভয় পায় পাছে স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল দশা মানুষের সামনে বেরিয়ে পড়ে। ডেঙ্গু জ্বরের সময় তথ্য লোকানোর বহু অভিযোগ বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে হয়েছে কিন্তু স্বাস্থ্যবিভাগ সব কিছু জেনে শুনেও মুখ বুজে এই অন্যায়কে প্রশ্রয় দিচ্ছে। শুধু মাত্র মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে খুশি করতে গিয়ে তারা নিজেদেরকে একটা ষড়যন্ত্রের শিকার করছেন যার ফলস্বরূপ গোটা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাটাই আজ এক বিপর্যয়ের সম্মুখীন। তার মানে এই নয় যে আমাদের রাজ্যের সমস্ত ডাক্তার বা মেডিক্যাল স্টাফ এই সরকারের কাছে নতি স্বীকার করেছে। তারা এই দুর্নীতিগ্রস্থ এবং নীতিহীন সরকারের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান বহুবার প্রমাণিত করে প্রতিবাদে ফেটে পড়ছেন কিন্তু স্বৈরাচারী শাসক দমননীতির মাধ্যমে সেই সব আন্দোলনগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। এর থেকে বোঝা যায় যেসব ধান্দাবাজ স্বাস্থ্যকর্মী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় দিনের পর দিন অন্যায় ভাবে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করছেন তারা সবাই তাদেরই সহকর্মীদের কাছে ঘৃণার পাত্র। পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত ডাক্তারদের উপর আক্রমণ নতুন কোনো ঘটনা নয় কিন্তু তৃণমূলের আমলে তার মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যের যে মমতা বন্দোপাধ্যায় নিজে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ।

কিন্তু এই কঠিন বিপর্যয়ের মধ্যে বহু স্বাস্থ্যকর্মী সমস্ত কিছু ভুলে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিজেদের সপেঁ দিয়েছেন। আর মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে করোনা যোদ্ধাদের নিয়মিত প্রতারণা করে চলেছেন। আমরা সেই সব মহান স্বাস্থকর্মীদের কুর্নিশ জানাই যাঁরা নিজেদের প্রাণের তোয়াক্কা না করে এই কঠিন পরিস্থিতিতে কোনরকম সরকারি সাহায্য ছাড়া নিরলস পরিশ্রম করে করোনা রুগীদের প্রাণ ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ওনাদের সমাজসেবা সবাই মাথায় রাখবে সঙ্গে এটাও মনে রাখবে কি ভাবে এই সরকার স্বাস্থ্যকর্মীদের ন্যূনতম সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তা সে আধুনিক পিপিই কিট সরবরাহ করা হোক বা চিকিৎসার উপযুক্ত পরিকাঠামোর ব্যবস্থা, সরকার কোনোটাই নিশ্চিত করতে পারেনি।

গত পাঁচ মাসে একথা বহুবার প্রমাণিত যে মুখ্যমন্ত্রীর, যিনি কিনা আবার বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও বটেন, সমস্ত ঘোষণা মিথ্যে এবং বিভ্রান্তিকর। তিনি যা দাবি করেন মানুষ ঠিক তার উল্টোটা দেখতে পান। তা সে মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল বানানোর গল্প হোক বা স্বাস্থ্য পরিষেবায় দেশের মধ্যে এক নম্বর হওয়ার দাবি, সবটাই সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার একটা নিম্নমানের প্রয়াস মাত্র। এটা আজ সবার কাছে খুব পরিষ্কার তাই আমাদের রাজ্যের মানুষ মমতা ব্যানার্জীর স্বাস্থ্য নিয়ে কোন ঘোষণা বা দাবি এখন আর সিরিয়াসলি নেন না। যদি দেয়ালে নীল-সাদা রং করে দিলেই পুরনো একটা হাসপাতাল সুপার স্পেশালিটি হসপিটালে পরিণত হয়ে যেত তাহলে এতদিনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে অসহায় মানুষগুলোকে জমি জায়গা বিক্রি করে প্রাণ ফিরে পাওয়ার জন্য চেন্নাই বা বেঙ্গালুরুর প্রাইভেট হসপিটালে যেতে হতনা। মাননীয়া যতই গরম গরম ভাষণ দিয়ে নিজের দলের সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করুন না কেন গত ৯ বছরে পশ্চিমবঙ্গবাসী তাঁর মিথ্যাচার ধরে ফেলেছেন। কিন্তু তিনি নিজেকে মহান বানিয়ে রাখার প্রচেষ্টা থেকে এক ইঞ্চিও সরে আসেননি, তাতে যদি সাধারণ গরিব মানুষদের প্রাণ যায় তো যাক কারণ ওনার কাছে নিজের গদি টিকিয়ে রাখার রাজনীতির উর্ধে কিছু হয় না!

আপনাদের সকলেরই মনে আছে যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদিজি করোনার ভয়াল গ্রাস থেকে ভারতকে বাঁচানোর জন্য ২৪শে মার্চ দেশব্যাপী লোকডাউনের ঘোষণা করেছিলেন, সব রাজ্য সরকার তাঁর সিদ্ধান্তকে সসম্মানে গ্রহণ করলেও আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সেটাকে দিল্লি দাঙ্গার ঘটনা থেকে সবার নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বলেছিলেন। এর থেকে বোঝা যায় তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বা রাষ্ট্র গঠনের ক্ষমতা বলে কিছু নেই, সস্তা মন্তব্য করে কিছু মানুষের হাততালি কুড়োনোই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। আমাদের রাজ্য সরকার যদি প্রথম থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে, যোগ্য লোকেদের নিয়োগ করে একটা কমিটি গঠন করে কাজ করতো তাহলে আজ এই পরিস্থিতি তৈরী হত না। শুধু কি তাই? কম সংখ্যক টেস্ট করে এই সরকার প্রমাণ করতে চাইছে যে অন্যান্য রাজ্যের থেকে পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম। এটা একটা ষড়যন্ত্র। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কে এঁদের দিয়েছেন? সংবিধানকে সাক্ষী রেখে যাঁরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার চালানোর শপথ নিয়েছিলন তাঁরা কোন ক্ষমতায় জনগণের কাছে স্বাস্থ্যব্যবস্থার মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাইছেন না? এখানেই শেষ নয়, এই নির্লজ্জ সরকার এতটাই অকর্মণ্য যে করোনায় মৃতদের দেহ সৎকারের ব্যবস্থাটুকু পর্যন্ত করতে পারেনা। লাশগুলোকে রাতের অন্ধকারে মৃতের পরিবারগুলোর অজ্ঞাতে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দিয়ে আসে। আমরা সবাই দেখেছি বেওয়ারিশ লাশগুলোকে পৌরসভার গাড়িতে কিভাবে তোলা হয়ে থাকে! এই সরকার মানবতাহীন, তাই জীবিত বা মৃত কোন মানুষকেই যোগ্য সম্মানটুকু দিতে পারেনা।

একদিকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করছেন যে, তাঁর শাসনকালে নাকি সমস্ত রাজ্যবাসীকে তিনি বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধে পাইয়ে দিয়েছেন তাই কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের বাস্তবায়নের কোন প্রয়োজন এই রাজ্যে নেই। আজকের পরিস্থিতি কি তাঁর দাবিকে সমর্থন করে? যদি আজ আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধে এই রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য থাকতো তাহলে দেশের যে কোনো প্রান্তে গিয়ে তারা চিকিৎসার সুযোগ পেতেন। আপনারাই ভেবে দেখুন এর জন্য কে দায়ী? কার জন্য আপনারা স্বাস্থ্যের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন? এর পর মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কোন নৈতিক অধিকার নেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আসনে বসার। ওনার যদি সামান্য আত্মমর্যাদা বেঁচে থাকে তাহলে তিনি অবিলম্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে একজন পূর্ণমন্ত্রীকে সেই পদে বহাল করবেন।

আরও পড়ুন: ব্রহ্মের শব্দ প্রতীক: প্রণব

একদিকে যখন মহামারীর প্রকোপে আর সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামোর অভাবে নাগরিক জীবন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনি বেসরকারি হাসপাতালগুলির লাগাম ছাড়া বিলের দায়ে  সাধারণ মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। আজ স্বাস্থ্য পরিষেবায় সরকারি পরিকাঠামোর অভাবে রাজ্য জুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রগুলির ওপর আমাদের রাজ্য সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। অথচ ন্যূনতম স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে হলে সাধারণ নাগরিককে বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোমগুলিরই শরণাপন্ন হতে হয়। এই মহামারীর বিভ্রাট কালে এই সমস্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি সাধারণ শাসক দলের মদতে করোনা চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের কাছে থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা বিল করে পরিবারগুলিকে সর্বস্বান্ত করে দিচ্ছে। এর বিহিত কে করবে?

গোটা রাজ্যেরই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রায় একইরকম। জঙ্গলমহল এবং উত্তরবঙ্গের অবস্থা সবচেয়ে করুণ কারণ সেখানকার হাসপাতালে কোন পরিকাঠামো নেই, ডাক্তারদের নিরাপত্তা নেই তাই মানুষের জীবনেরও কোনো মূল্য নেই। এখানে তৃণমূলের একটাই কাজ বিজেপিকে আটকানো যাতে সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা কোন প্রতিবাদে সামিল না হতে পারি। এটাই তৃণমূলের রাজনীতি তাই তারা আপনাদের কেন্দ্রের কোন গঠনমূলক প্রকল্পের অংশীদার হতে বাধা প্রদান করে পাছে তাদের ভোটবাক্সে টান পড়ে! এই সরকার জনগণের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সত্যি কিছু করতে চায় নাকি আপনাদের জীবনকে বন্ধক রেখে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করে, গদি আঁকড়ে পড়ে থাকাটাই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য? সরকারের কাছে এর জবাবদিহিতার দাবি আপনাদেরই জানাতে হবে কিংবা আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনে নিজেদের মতপ্রকাশের মধ্যে দিয়ে এই মানবতা বিরোধী সরকারকে বিদায় জানান নাহলে আগামীদিন আরও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত হন। পশ্চিমবঙ্গকে সস্তা এবং সংকীর্ণ রাজনীতির বাইরে আনতেই হবে আর সেই কাজ একমাত্র বিজেপিই করতে পারে আর তার জন্য প্রয়োজন আপনাদের রাজনৈতিক সমর্থন।

প্রথম দফার লকডাউন শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারের পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানোর উদ্যোগকে যখন অন্যান্য রাজ্যগুলো সহযোগিতা করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল ঠিক তখনই মা, মাটি মানুষের সরকারের মমতাময়ী মুখ্যমন্ত্রী পেটের টানে ভিন রাজ্যে যাওয়া সেই সব মানুষ গুলোকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করেন, তাদের “করোনা এক্সপ্রেস” বলে অপমান করেন। যে রাজ্যের মানুষকে কাজের সন্ধানে অন্যস্থানে পাড়ি দিতে হয় সেখানে কর্মসংস্থানের কি হাল তা সহজেই অনুমেয়। পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা নতুন কিছু নয় কিন্তু তাদের কি ন্যূনতম মানবিক মর্যাদার অধিকার নেই? নাকি তারা পেটের ভাত জোগাড়ের তাগিদে ভিন রাজ্যে চলে যায় বলে তাদের সমস্ত নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার প্রক্রিয়াটি একবারে পরিকল্পনামাফিক? আশা করি আমার পরিযায়ী শ্রমিক ভাই, বোনেরা এর উত্তর আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ইভিএমে পদ্মফুল চিহ্নে বোতাম টিপে দেবেন।

আরও পড়ুন: ‘করোনাবিধি মেনেই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য’, শেষ শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রী, উপরাষ্ট্রপতির

আমরা জানি এক সময়ে দিল্লির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল, কিন্তু আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাননীয় শ্রী অমিত শাহ নিজের উদ্যোগে রাতারাতি ১০০০ বেডের একটি নতুন হাসপাতালের ব্যবস্থা করেন। আজ দিল্লির পরিস্থিতি আগের থেকে অনেক ভালো। কিন্তু আমরা পশ্চিমবঙ্গে কি দেখলাম? যখন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিভাগের একটি প্রতিনিধি দল আমাদের রাজ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য এবং সঠিক তথ্য সংগ্রহের কাজে এলো তাদের সাহায্য করা দূরের কথা, যাতে তারা ঠিকমতো ডেটা না পান তা নিশ্চিত করার জন্য পদে পদে তাদের বাধা দেওয়া হলো। পরিকল্পনাহীন ভাবে লকডাউন রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতির জন্য অনেকটা দায়ী। আমরা দেখেছি গত এক মাসে বারংবার মুখ্যমন্ত্রী লকডাউনের ডেট নিয়ে ছেলেখেলা করেছেন! এতে সাধারণ মানুষেকে যেমন চরম অসুবিধা ভোগ করতে হচ্ছে, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যের বিস্তর ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও খেটে খাওয়া মানুষদের কথা না হয় ছেড়েই দিলাম। দীর্ঘ ন’বছর ক্ষমতায় থাকার পর একটা রাজনৈতিক দলের একক সরকার কতটা পরিকল্পনাহীন ও অকর্মণ্য হতে পারে তার জলজ্যান্ত প্রমাণ পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার। তারা কেবলই কেন্দ্রীয় সরকারের অহেতুক সমালোচনা করতে জানে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার কিভাবে দৃঢ় পরিকল্পনার সাথে করোনা মোকাবিলা করছে তা থেকে কোনো শিক্ষা এনারা নিতে চান না।

মিথ্যাচারে তিনি চিরকালই সিদ্ধহস্ত ছিলেন এবং মিথ্যের উপর ভর করে তিনি অনেকবার রাজনৈতিক ফায়দা তুলেছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসার পর অনেকেই ভেবেছিলেন যে, তিনি মিথ্যে কথা বলার বদভ্যেস কিছুটা কমাবেন কিন্তু তা তিনি করেননি বরং তার প্রয়োগ বহুগুণ বাড়িয়েছেন। কিন্তু তা বলে করোনার মতো একটা বিপজ্জনক মহামারীর ব্যাপারেও সরকারি আসনে বসে ক্রমাগত তিনি মিথ্যাচার করে মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করবেন? দীর্ঘ ৯ বছর ধরে মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে তৃণমূল সরকার প্রতিনিয়ত মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস দিয়ে আসছে। এইরকম করে বেশিদিন চলতে পারেনা। করোনা মহামারীর মোকাবিলায় এই সরকার শুধু পুরোপুরি ব্যর্থ নয়, তারা মানুষকে ভুল বুঝিয়েছে, মিথ্যে কথা বলেছে, আর সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এই অন্যায় অমানবিক অত্যাচার কোনোদিন ভুলে যাবে না। তারা ২০২১’এ এর উপযুক্ত জবাব দেবেই দেবে।

Related Articles

Back to top button
Close