fbpx
কলকাতাহেডলাইন

‘বিজেপি রাজনৈতিক দল নয়, সন্ত্রাসবাদী’, নবান্ন অভিযান নিয়ে তোপ ফিরহাদের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিজেপির নবান্ন অভিযান কর্মসূচি ঘিরে এদিন রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে রাজপথ। বেলা একটু গড়াতেই মিছিল আটকাতে শহরের সব প্রান্তে সক্রিয় হয়ে ওঠে পুলিশ। এরই মাঝে হাওড়া ময়দান থেকে নবান্নমুখী বিজেপির মিছিল থেকে মিলল অস্ত্র। আর তারপরই আরও বাড়ল আশঙ্কা। এই খবরে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী ঝাড়গ্রাম থেকে ফিরে প্রথমে নবান্নে ঢোকেন। সেখানে মিনিট পাঁচেক থাকার পরই চলে যান ভবানীভবনে। এ নিয়ে কথা বলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্রর সঙ্গে। এদিকে, বিজেপির অভিযান ঘিরে নজিরবিহীন অশান্তি নিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম তাদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে চিহ্নিত করেন।

বিজেপি যুব মোর্চার নবান্ন অভিযানে পুলিশি বাধা পেলে যে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হবে, সেই হুঁশিয়ারি আগেই দিয়েছিলেন বিজেপির ছোট, বড় স্তরের নেতারা। বাস্তবে হলও তাই। রাজ্য প্রশাসনের সদর দপ্তর ঘিরে জারি থাকা ১৪৪ ধারা ভেঙে যেভাবে এগোতে চাইলেন বিজেপি কর্মীরা আর তাতে পুলিশের বাধা পেয়ে যে পালটা প্রতিরোধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন, তাতে অর্জুন সিংয়ের বলা ‘গেরিলা কায়দা’র হুঁশিয়ারিই যেন বাস্তবায়িত হয়ে উঠল। মিছিলে বলবিন্দর সিং নামে এক বিজেপি কর্মীর কাছ থেকে মিলল আগ্নেয়াস্ত্র, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি, জখম পুলিশ কর্তা – দীর্ঘদিন পর এমন এক অশান্ত পরিস্থিতির সাক্ষী রইল মহানগর। এ নিয়ে পুর ও নগোরন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য, ‘বিজেপি রাজনৈতিক দল নয়, সন্ত্রাসবাদীদের দল। বাংলার শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে। এসব এখানে হবে না। অশান্তি আটকাতে যা যা করার, পুলিশকে বলেছি, সবরকম ব্যবস্থা নিতে। রাজনৈতিক দলের মিছিলে কখনও অস্ত্র থাকে না, স্লোগান থাকে, পোস্টার-ফেস্টুন থাকে।’

আরও পড়ুন: নজরে বিজেপির ‘নবান্ন অভিযান’, ঝাড়গ্রাম থেকে ফিরেই রাজ্য পুলিশের ডিজি-র সঙ্গে বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর

বিজেপির নবান্ন অভিযান ঘিরে এদিন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল কলকাতা ও হাওড়ার একাধিক রাজপথ। সে প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘রাজনেতিক দল আন্দোলন করবে, স্লোগান দেবে, মিছিল করবে, নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে বক্তব্য রাখবে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু আজ বিজেপি যা করেছে সেটা গুণ্ডামি বাদে কিছু নয়। কখনও কেউ শুনেছে, আন্দোলনে বোমা-আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে জড়ো হচ্ছেন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরা? রাজনৈতিক দলের মিছিল থেকে বোমা পড়ে না, বন্দুক উদ্ধার হয় না। আসলে সন্ত্রাসবাদীদের দল বিজেপি হিংসা তৈরি করতে চাইছে। গুজরাত, দিল্লিতে হিংসা করেছে। উত্তরপ্রদেশে হিংসা চালাচ্ছে। শান্ত বাংলাকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। সন্ত্রাসবাদী দলের যারা গুণ্ডামি করে রাজ্যকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে, পুলিশ-প্রশাসনকে বলব তাদের ঠাণ্ডা করতে যে-যে ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার, সেই সব ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

Related Articles

Back to top button
Close