fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বাম আমলের হদিশ না মেলা টাকায় উন্নয়ন করছে তৃণমূল: ফিরহাদ

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: বাম আমলের হদিশ না মেলা টাকায় তৃণমূল উন্নয়ন করছে। কটাক্ষ করলেন পুরমন্ত্রী তথা পুরো প্রশাসক মন্ডলির চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম। মঙ্গলবার বিধান নগরে বৃদ্ধাবাস ও রবীন্দ্রাঙ্গন দ্বিতীয় পর্যায়ের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বামেদের কড়া ভাষায় নিন্দা করেন ফিরহাদ। তিনি বলেন, ‘বিধান নগরের মেলার উদ্বৃত্ত টাকাতেই এই প্রকল্প গুলি গড়ে তোলা হচ্ছে। বাম আমলে এই টাকার হদিস পাওয়া যেত না। পেতে হলে পার্টি অফিসে ধরনা দিতে হতো। সেই টাকা কি অল্প অল্প করে জমিয়ে আমরা উন্নয়নের কাজে লাগাচ্ছি। এর জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করেছি। আমি বামপন্থা কে ঘৃণা করিনা। ভালোবাসি। কিন্তু বামপন্থী রাজনীতির নামে যে পুঁজিবাদী পথ অবলম্বন করছে। তাতে আমি বিশ্বাসী নই। আর সে কারণেই বাম দল ছেড়ে একে একে সবাই বিজেপিতে গিয়ে যোগ দিচ্ছে। যা রাজ্যের জন্য অশনি সংকেত।’

এদিন বিধান নগরে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু ও বিধান নগরের মহানাগরিক কৃষ্ণা চক্রবর্তী উপস্থিতিতে ফিরহাদ হাকিম প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। উল্লেখ্য, বিধান নগরে এমন অনেক বাড়ি আছে যেখানে বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা একাকী বসবাস করেন। অনেকের ছেলেমেয়েরা বিদেশে থাকেন। তাই তাদের সুষ্ঠ দেখভালের কথা মাথায় রেখেই বিধান নগরে গড়ে তোলা হবে বৃদ্ধাশ্রম। এছাড়াও যেসব বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা আর্থিকভাবে সচ্ছল নয় তাদের কেও এই বৃদ্ধাশ্রমে রাখার ব্যবস্থা করা হবে আগামী দিনে। অন্যদিকে এদিন রবীন্দ্রঙ্গন প্রকল্পেরও দ্বিতীয় পর্যায়ের শুভ সূচনা করা হয়। যা আগামী দিনে বিধান নগর বাসীর কাছে শিক্ষা-সংস্কৃতি শিল্পকলার পীঠস্থান হয়ে উঠবে। এখানে লাইব্রেরী থেকে অডিটোরিয়াম ও রাবীন্দ্রিক চিন্তাভাবনার নিদর্শন সবই থাকবে। যাতে বিধান নগরের মানুষ শিল্প-সাহিত্যের চর্চায় নিজেদেরকে বিরত না করতে পারেন। আর সেই চিন্তায় আগামী প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে পরবে ধীরে ধীরে।

অন্যদিকে, কলকাতা পুরসভায় এদিন কেইআইআইপি প্রকল্পের জন্য যে সমস্ত রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলিকে পুজোর আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দিলেন কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। পাশাপাশি পুজোর অনেক আগেই কলকাতা পুরসভার অধীনস্থ সব ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা মেরামত করে ফেলা হবে বলে এদিন জানান তিনি।

এদিন কলকাতা পুরসভার সদর দফতরে শহরে ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা ও নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে কেইআইআইপি, কেএমডিএ, পূর্ত, সেচ, কলকাতা বন্দরের আধিকারিকদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন। বৈঠকের পর ফিরহাদ হাকিম বলেন, “পুজোয় যাতে মানুষের কোনো অসুবিধা না হয় এজন্য সব দফতরকে শহরে তাদের অধীনস্থ রাস্তাগুলি দ্রুত সারাই করে ফেলতে বলা হয়েছে”। কেইআইআইপি প্রকল্পের কাজের জন্য যে রাস্তাগুলি খোঁড়া হয়েছে সেগুলি দ্রুত মেরামত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হলেও এ দিন জানান তিনি।

ফিরহাদ হাকিম আরও বলেন, পুরসভার অধীনস্থ রাস্তাগুলি সারাইয়ের জন্য ইতিমধ্যেই টেন্ডার ডাকা হয়ে গিয়েছে। কলকাতা পুরসভার অধীনে বর্তমানে প্রায় ১৫০ টি রাস্তা, কেএমডিএর ৪ টি, পূর্ত দপ্তরের ৭ টি, সেচ দফতরের ৩ টি ও বন্দরের অধীনে ৯ টি রাস্তা বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্থ অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে, দক্ষিণ কলকাতার সংযুক্ত এলাকার অধীন ১২৫, ১২৬, ১২৭, ১৪০, ১৪১,১৪২ ও ১৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে কেইআইআইপি প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু করতে আর্থিক সহায়তার জন্য ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে ফিরহাদ হাকিম জানান।

Related Articles

Back to top button
Close