fbpx
কলকাতাহেডলাইন

পুরসভায় কর্মীদের ১০০ শতাংশ হাজিরা নিয়ে ফিরহাদের নিশানায় বাম-বিজেপি

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: ‘বাম ও বিজেপির সঙ্গে কোর্টেই দেখা হবে।’ কড়া হুশিয়ারি দিলেন পুর মন্ত্রী তথা পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। রবিবার এক সক্ষাতকারে সাংবাদিক দের মুখোমুখি হয়ে বাম ও বিজেপি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন ফিরহাদ।

সোমবার থেকে ১০০ শতাংশ হাজিরা দিয়ে পুরসভার কর্মীদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পুর কর্তৃপক্ষ। এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর স্বাভাবিকভাবেই সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে যা নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধীরাও। এই প্রসঙ্গে বাম ও বিজেপি কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম এর বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আর তাই রাজ্যের দুই বিরোধী দলের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন পুর প্রশাসক ফিরহাদ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাম ও রাম এখন এক হয়ে গেছে। ওরা আমার বিরুদ্ধে আগেও সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল।’

 

 

ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে ৮ জুন অর্থাৎ সোমবার থেকে কলকাতা পুরসভার সমস্ত বিভাগ খুলে যাচ্ছে। সেইমতো ১০০ শতাংশ কর্মী দিয়ে কাজ শুরু হবে পুরসভায়। যারা কাজে যোগ দেবেন না তাদের অনুপস্থিত বলে ধরে নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে ওই বিজ্ঞপ্তিতে। পৌরসভার কর্মীরা যদি আগামীকাল থেকে কেউ উপস্থিত না থাকেন তাহলে তাদের বেতন কাটার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যে সমস্ত কর্মীরা দূরে থাকেন তাদেরকে কলকাতায় স্থানীয় অঞ্চলে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকার কথা বলা হয়েছে।

 

 

এদিকে প্রশ্ন উঠছে এখনো ঠিকমতো শুরু হয়নি গণপরিবহন। লোকাল ট্রেন যেমন এখনও চালু হয়নি ঠিক তেমনি বাস পরিষেবা শুরু হলেও তা সংখ্যায় অত্যন্ত কম। এই পরিস্থিতিতে কিভাবে কর্মীরা হাজিরা দেবেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পাশাপাশি আরও একটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তা হল, যেখানে রাজ্য সরকার ৭০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ চালাচ্ছে সেখানে কলকাতা পুরসভা ১০০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ চালানোর কড়াকড়ি কেন করছে। এই প্রসঙ্গে অবশ্য ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, ‘রস্টার অনুযায়ী কর্মীদের আসার বিষয়টি ঠিক হবে। তাদের উপস্থিত থাকার বিষয়টিও রস্টার মেনেই করা হবে।’ ফিরহাদ আরও বলেন, ‘সাফাই কর্মী বা স্বাস্থ্যকর্মীদের যদি ৭০ শতাংশ দিয়ে কাজ করানো হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে কলকাতা ঠিকমতো পরিষ্কার হবে না ও শহরের মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবা ঠিক করে পাবে না। তাই আমরা সবার আগে মানুষকে সুস্থ রাখতে তাদের পরিষেবা দিতে বাধ্য।’

 

 

এদিন কেএমসি শ্রমিক-কর্মচারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক অশোক সিনহা গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেএমসি ১০০ শতাংশ স্টাফ এবং অফিসারদের হাজিরার বিষয়টি তুঘলকি সিদ্ধান্ত। যেখানে রাজ্য সরকার তরফে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ৭০ শতাংশ হাজিরা এবং সপ্তাহে তিন দিন উপস্থিত থাকার কথা বলেছেন। সেখানে কেএমসির কমিশনার কিভাবে এই সার্কুলার জারি করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। তিনি সরাসরি স্টেট গভমেন্ট এর অর্ডারকে ডিফাই করে নতুন অর্ডার বের করলেন। যা কেএমসি ইতিহাসে বিরল। এমত অবস্থায় সমাজিক দূরত্ব বিধি লংঘিৎ হবে। সেই সঙ্গে এখনো পর্যন্ত শহরজুড়ে বাস, ট্রেন ও অন্যান্য পরিষেবা ঠিকমতো চালু হয়নি। কেএমসি তে কর্মরত ৭০ শতাংশ স্টাফ দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদীয়া, বর্ধমান, এবং পুর্ব ও পশ্চিম মেদিনিপুর থেকে এসে থাকেন। তাই যেখানে পরিবহন ব্যবস্থা এখনো ঠিক মত পরিষেবা দিতে পারছে না। সেখানে এইসব মানুষেরা কিভাবে এসে পৌঁছাবে। তাই আমরা এই কালা সার্কুলার অবিলম্বে তুলে নেওয়ার জন্য কমিশনারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।

 

 

ইতিমধ্যেই কেএমসি স্বাস্থ্য দফতরের ১১ জন আধিকারিকের মাইনে কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লকডাউনে কাজে যোগ না দেওয়ায়। প্রাথমিক ভাবে তারা ১১ জোনের তালিকা প্রকাশ করলেও পরে এক জনকে বাদ দেওয়া হয় সেই তালিকা থেকে। কিন্তু যে সময় লকডাউনে স্তব্ধ কলকাতা ঠিক সে সময়ে তাদের কাজে যোগ দিতে বলা হয়। এমন কি এমএমআইসি রাও আসতে পারছিলেন না। এ প্রসঙ্গে অশোক সিনহা বলেন, ‘আমরা এই অর্ডার এর তীব্র বিরোধিতা করছি। সিনিয়ার এডুকেশন অফিসার ডিপার্টমেন্ট এই তুঘলকী আচরণ চালাচ্ছেন। বেআইনিভাবে পেছনের দরজা দিয়ে কেএমসিতে ঢুকে এখানে তানাশাহি চালাচ্ছেন। নিজেকে শুধরে না নিলে এডুকেশন দফতরের বিরুদ্ধে আগামী দিনে আমরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলব।’

Related Articles

Back to top button
Close