fbpx
কলকাতাহেডলাইন

বাজারে আলুর দাম বৃদ্ধি কেন্দ্রের জন্য: ফিরহাদ

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: বাজারে আলুর দাম বৃদ্ধির জন্য সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার দায়ি। তোপ দাগলেন পুরো নগর উন্নয়নমন্ত্রী তথা পুরো প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম। রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয় আলুর দাম বৃদ্ধি জন্য কেন্দ্রের পেট্রল ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধিকে নিশানা করলেন ফিরহাদ। তিনি বলেন, ‘পুরোটাই কেন্দ্রীয় সরকারের দোষ।’ ইতিমধ্যে পেট্রল ও ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি, বেসরকারিকরণ সহ একাধিক ইস্যুতে প্রতিবাদেও নেমেছে তৃণমূল। এবার আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ রাজ্য সরকার সেই ইস্যুকে হাতিয়ার করল।

বিগত কয়েকদিনে আলুর দাম রাজ্যে আকাশ ছোঁয়া হয়েছে। দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। ধাপে ধাপে তা পৌঁছে গিয়েছে প্রায় চল্লিশ টাকায়। স্বভাবতই সাধারণ নাগরিকের মাথায় হাথ উঠেছে। কেন না বাঙালি আলু ছাড়া কিছুই বোঝে না। মূল্য বৃদ্ধি ইস্যুতে এদিন ফিরহাদ আরও বলেন, ‘মূল্যবৃদ্ধি এখন একটা বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেটা তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই বলেছেন। আপনি পেট্রোলের দাম বাড়াবেন। ডিজেলের দাম বাড়াবেন। যানবাহনের খরচ বাড়বে। আর  মূল্যবৃদ্ধির দায়িত্ব নেবে না কেন্দ্রীয় সরকার, এটা হতে পারে না। ট্রান্সপোর্টেশন খরচ এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি চাষিরা যে পাম্প চালায় তাতে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। ফলে আলু উত্পাদনের কস্টিং আগের তুলনায় বেড়ে গিয়েছে। আলুর দাম নিয়ন্ত্রণ করার বিষয় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে টাস্কফোর্স দেখছে।’

শহরের বাজারে এখন হাত ঠেকানোই দায় হয়েছে মধ্যবিত্তের। করোনাভাইরাসের দাপটে স্বল্প সঞ্চয়ে দিন গুজরানের আশায় এবার পড়েছে টান। এদিকে যোগান কম, চাহিদা বেশি। অন্যদিকে আনলক পর্বে পৌছে গেলেও নিয়মিত যোগান অনেকটাই কম। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী  আলু, পিঁয়াজ এবং শাকসবজির সব কিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে তুলনা মুলকভাবে। শহরের বাজার ঘুড়ে এমনটাই জানা গিয়েছে।

সাধারণ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা দেখা দিলে পাইকারি দাম হ্রাস পায় এবং খুচরো দাম বৃদ্ধি পায়। কিন্তু লকডাউন থেকে আনলক পর্বে গেলেও দেশে বৃদ্ধি পেয়েছে পাইকারি দামও। যদিও অর্থনীতিবিদ এবং কৃষি বিশেষজ্ঞদের মত, যেহেতু বেশ কিছু জায়গায় মজুত সামগ্রী রয়ে গিয়েছে প্রচুর পরিমাণে এবং বিক্রি কমেছে তাই সেই হারে বেড়েছে পাইকারি দামও। তবে শাকসবজির দাম এমন বৃদ্ধি পাওয়ার নেপথ্যে সরবরাহের ঘাটতিকেই দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। যেহেতু এসব ক্ষেত্রে শ্রমিকের সংখ্যা কমেছে, যাতায়াত ব্যবস্থাও সুগম নয় ফলে খুচরো বিক্রির ক্ষেত্রে বেড়েছে দামও। এদিকে শাকসবজির পাশাপাশি দাম বেড়েছে ভোজ্যতেলেরও।

খোলা বাজারে জ্যোতি আলু – ৩৪-৩৫ টাকা প্রতিকিলো, চন্দ্রমুখী আলু ৩৮ টাকা কিলো আলু, পেঁয়াজ ৩০-৪০ টাকা প্রতিকিলো, আদা ২০০ টাকা প্রতিকিলো, কুমড়ো ৩০ টাকা প্রতিকিলো, ফুলকপি প্রতি পিস ৩০ টাকা। উচ্ছে ৬০ টাকা প্রতিকিলো, পটল – ৪০-৫০ টাকা প্রতিকিলো, ঢেঁড়স – ৪০ টাকা প্রতিকিলো বেগুন – ৫০ টাকা প্রতিকিলো, টমেটো ৮০ টাকা প্রতি কিলো, লঙ্কা ১৫০ টাকা প্রতিকিলো, গাজর ৬০ টাকা প্রতিকিলো, বাঁধাকপি – ৩০ টাকা কিলো।

মাছ: প্রতিকেজি রুই (গোটা) ২০০ টাকা। রুই (কাটা) ২০০-২২০ টাকা, কাতলা (গোটা) ২৫০ টাকা, কাতলা (কাটা) ৩০০-৩৫০টাকা, বাটা-১৮০টাকা, ভেটকি ৩৫০-৫০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৮০০ টাকা, বাগদা ৮০০-১০০০ টাকা।
মাংস: মুরগি – ১৮০ টাকা কিলো। পাঁঠা – ৭০০-৭২০ টাকা প্রতি কিলো

পাইকারি বাজার

জ্যোতি আলু ১৬-১৭ টাকা প্রতিকিলো, পেঁয়াজ ১৫ টাকা প্রতিকিলো, আদা ৭০ টাকা প্রতিকিলো, কুমড়ো ১০ টাকা প্রতিকিলো, উচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা প্রতিকিলো, ঝিঙে ২০ টাকা প্রতিকিলো, বেগুন ১৫ টাকা প্রতিকিলো, টমেটো ২০ টাকা প্রতিকিলো, লঙ্কা ২৫-৩০ টাকা প্রতিকিলো, গাজর ২০-২৫ টাকা প্রতিকিলো, বাধা কপি ১২ টাকা প্রতিকিলো, ফুল কপি প্রতি পিস ১০-২৩ টাকা, বরবটি ৩৫–৪০ টাকা প্রতিকিলো, করলা ২৮–৪০ প্রতিকিলো, লাউ ৮ টাকা প্রতিকিলো৷ পেপে ১২-১৫ টাকা প্রতিকিলো,

Related Articles

Back to top button
Close