fbpx
কলকাতাহেডলাইন

দিলীপ ঘোষ বালখিল্যর মতো কথা বলেন: ফিরহাদ হাকিম

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: তৃণমূলের একুশে জুলাই-এর মর্ম দিলীপ ঘোষ বোঝেন না। কটাক্ষ করলেন পুরো প্রশাসক তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। মঙ্গলবার শহীদ দিবস উপলক্ষে ধর্ম তলায় এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানালেন ফিরহাদ। তিনি বলেন, ‘ বালখিল্য’র মতো কথা বলছেন দিলীপ ঘোষ। একুশে জুলাই এর অর্থ দিলীপ ঘোষের বোঝার কথা নয়। ৯৩ সালের একুশে জুলাই দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক জন্ম হয়নি। তাই সেদিনের  বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে লড়াই এর আবেগ বিজেপি রাজ্য সভাপতি বুঝবেন না। তাই তিনি একথা বলতে পারেন।’ কার্যত এদিন সকালেই দিলীপ ঘোষ তৃণমূলের শহিদ দিবস নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন ‘শেষ একুশে জুলাই’ বলে। আর তারই পাল্টা বললেন ফিরহাদ হাকিম।

একুশের নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে বিজেপি ও তৃণমূল এর বাকযুদ্ধ ততই বেড়ে চলেছে। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছে না। শহীদ দিবস তার রেস অব্যাহত। এদিন ফিরহাদ আরও বলেন, ‘ আজ দিলীপ ঘোষ যে ভোট টা দিচ্ছেন বা যে ভোটে বিজেপির ১৮ টা সাংসদ নির্বাচিত হয়েছে একুশে জুলাই তার প্রতীক। সেই প্র-ভোটার আইডেন্টিফিকেশন কার্ডের জন্য একুশে জুলাই এর লড়াই। যে বছর এই লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হয়েছিলেন ১৩ জন। ঠিক তার পরের বছরই জুলাই মাসে নির্বাচন কমিশন বাধ্য হয়েছিল ভোটার আইডেন্টি কার্ড বলবৎ করতে সারা ভারতের মানুষের জন্য। আর সেই শহীদের লড়াইয়ের জন্যই আজ সারা ভারতের মানুষ নিজের ভোট নিজে দিচ্ছে। সারা ভারত ভারতের মানুষ এর উপকার পেয়েছে যেটা ওনারা বানচাল করতে চাইছেন। এই শহীদের রক্তে ভোটার আইডেন্টিফিকেশন মান্যতা পেয়েছিল আর তার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’

অন্যদিকে এদিন লোকসভার বিরোধী দল নেতা কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী তৃণমূলের একুশে জুলাই এর শহীদ দিবস কে পিকনিক বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়ে ফিরহাদ বলেন, ‘অধীর বাবু বেশিরভাগ সময় দিল্লিতেই থাকেন। উনি তাই পিকনিক টা ভালো বোঝেন। সংগঠনের সঙ্গে ওনার কোন যোগাযোগ নেই। তাই মুর্শিদাবাদ শুধু নয় পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস শুয়ে পড়ছে তাতেও উনি নির্বিকার। আমরা সম্পূর্ণ নিরাপদ ভাবে ভার্চুয়াল সভা করে একুশে জুলাই পালন করছি। এর মধ্যে দিয়ে কোনো সংক্রমণ ছড়ানোর জায়গা নেই।’

পাশাপাশি ফিরহাদ আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে মাস গ্যাদারিং নিরাপদ না। তাই পরিস্থিতি বিবেচনা করে দল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একুশে জুলাই মঞ্চকে ভার্চুয়াল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। টিভির পর্দার মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। যে সম্মানের সঙ্গে আমরা প্রতিবার পালন করি, এবারও সেই ভাবেই পালন করব। একুশে জুলাই অঙ্গীকার। যতদিন বাচবো ভুলব না। একুশে জুলাই যারা মারা গিয়েছেন তাদের জায়গায় আমিও থাকতে পারতাম। আমিও ছিলাম কিন্তু ভাগ্য বাঁচিয়ে দিয়েছে। ফ্রন্ট লাইনে ছিলাম। এখনও বলতে গিয়ে গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। সেই আবেগ থেকেই এই লড়াই।’

 

Related Articles

Back to top button
Close