fbpx
কলকাতাহেডলাইন

তৃণমূল মানুষ খুনে নয়, মানুষের জন্য কাজে বিশ্বাসী: ফিরহাদ

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: ‘তৃণমূল ফর দি পিপল, বাই দ্যা পিপল, অফ দি পিপলের জন্য কাজ করে। মানুষ খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়।’ তোপ দাগলেন পুরমন্ত্রী তথা পুর প্রশাসক  ফিরহাদ হাকিম। শুক্রবার খিদিরপুরে ভূ কৈলাশ ময়দানে উপস্থিত হয়ে সংবাদ মাধ্যমকে একথা বলেন ফিরহাদ। তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দোপাধ্যায় স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করেন তৃণমূলের রাজনীতির নীতি মানব সেবা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন সভায় বলে থাকেন ফর দি পিপল, বাই দি পিপল ও অফ দি পিপল। তৃণমূল সেই নীতি মেনে চলে। বাংলা রবিন্দ্র নাথ ও বিবেকা নন্দের আদর্শে চলে।’
পাশাপাশি গত কয়েকদিনে দল বিরোধী আচরণের জন্য তৃণমূল থেকে শোকজ ও বহিষ্কার করা হয়েছে বেশ কিছু তাবড় তাবড় নেতাকে। সামনের বছর বিধানসভা ভোটের দিকে লক্ষ্য রেখেই এই ধরনের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে এবার কড়া অবস্থান নেওয়া শুরু করেছে শাসক দল তৃণমূল। হুগলির পঞ্চায়েত প্রধানকে বহিষ্কার করা হয়েছে দল থেকে। এদিকে বাগনানে তরুণীকে ধর্ষণ ও তাঁর মা কে ঠেলে ফেলে মেরে ফেলার অভিযোগে তৃণমূল নেত্রীর স্বামী কুশ বেড়া কেও বহিষ্কার করা হয় দল থেকে। এ বিষয়ে ফিরহাদ এদিন দলীয় কর্মীদের হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যারা মানব সেবা না করে নিজেদের সেবায় ব্যস্ত থাকে তাদের তৃণমূলে স্থান নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে নীতি তার বাইরে নিজের জন্য নীতি গ্রহণ করলে দলে থাকার দরকার নেই। তৃণমূলের থেকে জনসেবার বদলে নিজের সেবা করা যাবে না । তৃণমূল কংগ্রেস করা মানে মানুষের জন্য কাজ করা। কেউ যদি তৃণমূলে থেকে জনসেবার বদলে নিজের সেবায় ব্যস্ত থাকে তবে দলে তার কোনও জায়গা নেই। একই ভাবে পুরসভার ক্ষেত্রেও নিজের নীতি মেনে চললে তৃণমূলে তার স্থান নেই। এ বিষয়ে দলীয় সমিতি যথেস্ট কড়া। তারা যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে।’
এ ছাড়াও পরিযায়ী শ্রমিক, কেন্দ্রের কাছ থেকে পাওনা টাকা সহ একাধিক ইস্যুতে বাংলার নাম নেই। সে প্রসঙ্গে ফিরহাদ বলেন, ‘বাংলার বিরুদ্ধে বঞ্চনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও এই প্রথমবার নয়। একাধিক প্রকল্পের টাকা দিচ্ছে না। আমফান এর জন্য আলাদা করে প্যাকেজ দেয়নি। এমনকি কেন্দ্রের কাছে পাওনা ৫৩ হাজার কোটি টাকাও দিচ্ছে না। কিন্তু তা স্ব্ত্তেয় বাংলা নত স্বীকার করবে না। বাংলা ঠিক এগিয়ে যাবে। রবিন্দ্রনাথ ও বিবেকানন্দের বাংলা আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে। এই সব মনীষীদের পথে চলে।’
এদিন খিদিরপুরে ভূ-কৈলাশ ময়দানে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম বৃক্ষ রোপণ করে অনুস্ঠানের শুভ সূচনা করেন। ময়দান জুড়ে এদিন একাধিক গাছ লাগানো হয় পুর উদ্যোগে। উল্লেখ্য আম্ফান ঘূর্ণি ঝড়ের ফলে শহর জুড়ে বহু গাছ মাটি উপরে পরে যায়। প্রায় ১৫০০০ গাছ শহর থেকে উত্খতিৎ হয়। এর পরেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরসভার পক্ষ থেকে ব্যাপক হারে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচী গৃহীত হয়। কারণ যে হারে গাছ পড়েছে তার থেকে বেশি পরিমানে গাছ না লাগলে অক্সিজেং ও কার্বন ডাই অক্সাইডের ভারসাম্য বজায় রাখতে অসুবিধা হবে। এতদিন শহরের করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে লকডাউন পর্ব চালু ছিল। কিন্তু এখন লকডাউন থেকে আনলক ১ পর্বে প্রবেশ করেছে। তাই শহরে যানবাহনের ব্যস্ততা বেড়ে গিয়েছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে দূষণের মাত্রাও। তাই দ্রুত কলকাতায় গাছের সংখ্যা না বাড়ালে জন জীবন বিপর্যস্ত হতে পারে এমনটাই আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। বৃক্ষ রোপণ একমাত্র উপায়। তার ই অঙ্গ হিসাবে এদিন বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছিল।

Related Articles

Back to top button
Close