fbpx
অসমক্রিকেটখেলাহেডলাইন

এক সময় করিমগঞ্জের মাঠে হয়েছিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট

তাজ উদ্দিন, করিমগঞ্জ: অসমের যে কয়েকটি মাঠে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে করিমগঞ্জের ( Karimganj ) সরকারি স্কুলের ময়দানও। ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বর মাসে একই সঙ্গে টেস্ট ফরম্যাট এবং ওয়ানডে ফরম্যাটের প্রথম শ্রেণির ম্যাচ আয়োজন করার স্বাদ পায় অসমের এই প্রান্তিক শহরটি। ত্রিপুরার বিরুদ্ধে রনজি ট্রফি ‘টেস্ট’ এবং ‘রনজি ওয়ানডে’ অর্থাৎ এখনকার বিজয় হাজারে ট্রফির খেলা হয়েছিল সরকারি স্কুলের ময়দানে।

সেই সময় খেলাধুলার প্রতি টান থাকার জন্য সময় পেলেই মাঠে ছুটে যেতাম। ১৯৯৩ সালের ১৮, ১৯, ২০ ডিসেম্বর অসম এবং ত্রিপুরা তিনদিনের রনজি ট্রফি ম্যাচে মুখোমুখি হয়। এরপর ২২ ডিসেম্বর একই মাঠে দুটি দল ওয়ানডে ম্যাচে মোকাবিলা করে।

এবার আসি বহু প্রত্যাশিত সেই রনজি ট্রফি ম্যাচ সম্পর্কে। করিমগঞ্জের জন্য সেটা ছিল এক বড় উৎসব। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে জড়িত সবাই এই ম্যাচ সফল করতে উঠেপড়ে লাগেন। ডিএসএ সভাপতি ছিলেন চন্দ্রজ্যোতি ভট্টাচার্য, সচিব তখন বিমান বিহারী সিনহা। তবে কেশরীচাঁদ ভোরা, আব্দুল ওয়াহিদ সহ অনেক প্রাক্তন খেলোয়াড়ও এই ম্যাচকে সফল করে তুলতে সক্রিয় ছিলেন।

অসমের অধিনায়ক গৌতম দত্ত টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। ঘরোয়া দল ৩৯৬ রানের একটা মজবুত ইনিংস খাড়া করে। মিডিল অর্ডার ব্যাটসম্যান রাজিন্দর সিং ৯৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। বাকি ব্যাটসম্যানরা আউট হয়ে যাওয়ায় তাঁর পক্ষে শতরান পাওয়া সম্ভব হল না। অবশ্য শেষ উইকেট জুটিতে চালিয়ে খেলে এতদুর গিয়েছিলেন রাজিন্দর। ৩৫২ রানের মাথায় অসমের প্রথম ইনিংসের নবম উইকেট পড়ে যায়। শেষ ব্যাটসম্যান জাভেদ জামানকে ( Javed Zaman ) নিয়ে ৪৪ রান যোগ করেন রাজিন্দর। বলা বাহুল্য, এর বড় অংশই এসেছে রাজিন্দরের ব্যাট থেকে। জাভেদ মাত্র ৬ রান করে অলোক সাহার বলে ত্রিপুরা অধিনায়ক সৌরভ দাশগুপ্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন।

অসমের ইনিংসে তিনটি হাফসেঞ্চুরি হয়েছিল। রাজিন্দর ছাড়াও ওপেনার লালচাঁদ রাজপুত (৭৪) এবং টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান কৌস্তভ বরুয়া (৫০) করিমগঞ্জের দর্শকদের অর্ধশতরান উপহার দেন। মিস্টার এক্সট্রাও (৪৯) সেই পথে অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছিলেন। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অধিনায়ক গৌতম দত্ত ৪৩, দেবজিৎ চক্রবর্তী ৩৩, চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত ২৫, সৈয়দ জাকারিয়া জুফরি ১৫ রান করেন। ত্রিপুরার বোলার অলক সাহা (৩-৬৭) তিনটি এবং সৌরভ দাসগুপ্ত (২-৪০) ও গৌরপদ বণিক (২-৭৭) জোড়া উইকেট পান। ম্যাচের দ্বিতীয় দিন কিছুটা সময় ব্যাটিং করেছিল অসম।

আরও পড়ুন:কাজু-আখরোট-বাদাম দিয়ে গণেশ-এর মূর্তি গড়ে তাক লাগালেন চিকিৎসক

ম্যাচের বাকি সব গল্প অসমের বোলার এবং ফিল্ডারদের। বিশেষ করে উঠতি পেসার জাভেদ জামান এখানে অসাধারণ ফর্মে ছিলেন। প্রথম চারজনসহ ত্রিপুরার ছয় ব্যাটসম্যানকে তিনি একাই আউট করেন (১৮-৩-৬৫-৬)। অলরাউন্ডার রাজেশ বরা (১০-১-১৮-৩) আরো তিন ব্যাটসম্যানকে আউট করলে ১৫৬/৯ হয়ে যায় ত্রিপুরার স্কোর। উইকেটরক্ষক জয়কিশোর বর্মন (অপরাজিত ১২) এবং অলক সাহা (২০) ত্রিপুরাকে ( Tripura ) ১৮৮ রানে নিয়ে যান। অলককে বোল্ড করেন কৌস্তভ বরুয়া। ত্রিপুরার ইনিংসে ওপেনার প্রণব দেবনাথ ৩৮, রাজীব দেববর্মন ৩৩, সঞ্জীব পাল ২৫, পবন কুমার ১৪ রান করেন। অতিরিক্ত ২৬ রানের সব এসেছে বাই থেকে।
২০৮ রানে এগিয়ে থাকায় ত্রিপুরাকে ফলো অন করাতে সময় নেননি অসমের অধিনায়ক গৌতম দত্ত। কিন্তু এবার ত্রিপুরা আরও কম সময়ে ৩৬.৩ ওভারে ১৪৯ রানে অলআউট হয়ে গেল। জাভেদ জামান (১২-১-৫১-৫) আবারও পাঁচ উইকেট নিলেন। ম্যাচে সব মিলিয়ে তিনি ১০ উইকেট পান। এছাড়া রাজেশ বরা ২৯ রানে দুই উইকেট নেন। দুজন ব্যাটসম্যান রান আউট হন। দ্বিতীয় ইনিংসে সঞ্জীব পাল ৪২, সৌরভ দাশগুপ্ত ৩২, প্রণব দেবনাথ ২১ এবং জয়কিশোর দেব বর্মন আবারও ১২ রান করেন। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত ১৭ রান ছিল। এক ইনিংস এবং ৫৯ রানের বিশাল জয় নিয়ে অসম পুরো ৬ পয়েন্ট তুলে নেয়।

একইভাবে ২২ ডিসেম্বর ১৯৯৩ ইংরেজিতে অনুষ্ঠিত রনজি ওয়ানডে ম্যাচে অসম ৪ উইকেটে ত্রিপুরাকে পরাস্ত করে।
এদিন ত্রিপুরা দল ব্যাটিং নিয়ে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৬ রানের সাদামাটা স্কোর খাড়া করে। ওপেন করতে এসে অধিনায়ক সৌরভ দাশগুপ্ত ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন। এছাড়া দলের বিহারি ক্রিকেটার রাজু ভালস ৩৭ রান করেন। অসমের গৌতম দত্ত তিনটি এবং জাভেদ জামান দুই উইকেট লাভ করেন। রান তাড়া করতে নেমে ৩১.৩ ওভার খেলে মাত্র চার উইকেট খুইয়ে ১৭১ রান করে ফেলে অসম। রাজিন্দর সিং ৪৫, কৌস্তভ বরুয়া ৩৭, রাজেশ বরা ৩০, গৌতম দত্ত ২০ এবং চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত ১৮ রান করেন। অতিরিক্ত ১৫। রাজু ভালস নেন দুই উইকেট। ম্যাচটা ৬ উইকেটে জিতে নেয় অসম।

আরও পড়ুন:ভোট দিতে পারবেন করোনা আক্রান্তরা, নয়া নির্দেশিকা জারি নির্বাচন কমিশনের

রনজি ট্রফির খেলা দেখার জন্য করিমগঞ্জ সরকারি স্কুলের মাঠে উপচে পড়া ভিড় ছিল। সেই দর্শকদের কথা এখনও মনে করেন জাভেদ জামান। এই প্রতিবেদককে ( Md Taz Uddin ) দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কেরিয়ারে অনেক জায়গায় ক্রিকেট খেললেও করিমগঞ্জের মতো দর্শকদের উন্মাদনা অন্য কোনও মাঠে দেখেননি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, জাভেদের কাছ থেকে এত বড় সার্টিফিকেট পাওয়ার পরও পরবর্তীতে আর কখনও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করার দায়িত্ব পায়নি করিমগঞ্জ।

Related Articles

Back to top button
Close