fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনের প্রথম দিনে, প্রয়োজন ছাড়া বেরোলেই ধরপাকড় কলকাতায়-সহ রাজ্যে

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  আজ বাংলা জুড়ে সর্বাত্মক লকডাউন। এই লকডাউনের দিনগুলিতে সকাল ৬টা থেকে শুরু হবে এই লকডাউন। চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। লকডাউনের প্রথম দিনেই কড়াকড়ি কলকাতায়। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় চলছে নাকা তল্লাশি। প্রয়োজন ছাড়া গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বেরলেই চলছে ধরপাকড়। জেলা থেকে কলকাতায় ঢোকার সমস্ত রাস্তা নজরদারির আওতায় রয়েছে। বাজার-দোকান বন্ধ। টহল দিচ্ছে পুলিশ ভ্যান। শ্যামবাজার থেকে বেহালা, গড়িয়াহাট, রাসবিহারী, টালিগঞ্জ, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-সহ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় একই ছবি ধরা পড়ছে। শুধু কলকাতাতেই নয়, জেলাতেও পুলিশি নজরদারির রাশ আলগা হয়নি। রাস্তায় চলছে পুলিশি টহলদারি।

আজ, সারাদিনই থাকবে পুলিশি নজরদারি। এদিন যাঁরা গাড়ি নিয়ে বেরচ্ছেন, তাঁরা কোথায় যাচ্ছেন, কী কারণে বেরিয়েছেন তা জানতে চাইছেন পুলিশকর্মীরা। দেখতে চাওয়া হচ্ছে পরিচয়পত্র। লকডাউনে শুধু মাত্র জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। এক দিকে যেমন পথে নেমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। তেমনই লালবাজারের কন্ট্রোল রুম থেকেই সিসি ক্যামেরায় নজর রেখেছেন পুলিশ অফিসারেরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা লাগোয়া ঠাকুরপুকুরে নাকা তল্লাশি চলছে। জেলা থেকে কলকাতায় ঢোকার মুখে সমস্ত গাড়িকে আটকানো হচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ এলে, তাঁকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। একই ভাবে উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়ার দিক থেকে আসা গাড়িগুলিকেও আটকানো হচ্ছে। কলকাতা পুলিশের বিশেষ বাহিনী কলকাতার রাস্তায় নেমেছে। রাজাবাজার, পার্ক সার্কাস এবং খিদিরপুর এলাকাতে অলিগতিতে ঢুকে পুলিশি টহল চলছে।

লকডাউনের প্রথম দফার মতোই এ বারও ঠিক তেমনই পুলিশি কড়াকড়ি রয়েছে। পার্ক স্ট্রিট, রিপন স্ট্রিট, নিউ আলিপুর, তারাতলায় ব্যক্তিগত গাড়ি, বাইকেও ব্যাপক ভাবে ধড়পাকড় চলছে। যাঁরা গাড়ি নিয়ে বেরচ্ছেন, কিন্তু কোনও কারণ দেখাতে পারছেন না, তাঁদের নাম লিখে রাখা হচ্ছে। অনেক গাড়ি বাজেয়াপ্তও করা হচ্ছে। কলকাতা পুলিশের পদস্থকর্তারাও নেমেছেন পথে। একই রকম ছবি ধরা পড়ছে হাওড়া, দুই ২৪ পরগনাতেও। শ্রীরামপুরে এক আইনভঙ্গকারীকে কান ধরে উঠবস করানো হয়। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরেও বাজার-দোকান একেবারে বন্ধ। প্রতিটি রাস্তায় চলছে পুলিশি টহলদারি। পূর্ব বর্ধমানেও রাস্তা ফাঁকা। সেখানে সকাল থেকেই বৃষ্টি চলছে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়াতেও পুলিশি নজরদারির রাশ আলগা করা হয়নি। বাঁকুড়ার চকবাজারের রাস্তাঘাট শুনশান।

আরও পড়ুন: ঝাড়গ্রাম বাদে রাজ্যের ২২ জেলাতেই বেড়েছে সংক্রমণের সংখ্যা, শীর্ষে কলকাতা

এই দিনগুলিতে বন্ধ থাকবে সব রকমের পরিবহণ, বাজারদোকান, ব্যাঙ্ক, অফিস। তবে এর আওতা থেকে ছাড় পাবে অত্যাবশকীয় পরিষেবা। এ বিষয়ে নবান্নের তরফে বিশেষ নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে রোগী নিয়ে যাওয়ার অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা। খোলা থাকবে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর দোকান। একই সঙ্গে এর আওতায় আসবে না পুলিশ, আদালত, সংশোধনাগার, দমকল ও জরুরিকালীন পরিষেবা। চালু থাকবে বিদ্যুৎ ও জল পরিষেবাও। ইন হাউজ কর্মীদের নিয়ে চলতে পারে কলকারখানার শিল্পোৎপাদনও। ছাড় থাকছে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকাগুলির কৃষিকাজ ও উত্তরবঙ্গের চা বাগানের কাজেও। চলবে  আন্তঃরাজ্য পণ্য পরিবহণও। সেবির নির্দেশ মেনে ই-কমার্স, ক্যাপিটাল ও ডেবিট মার্কেটও খোলা থাকছে। ছাড় পাচ্ছে মুদ্রণ, বৈদ্যুতিন ও সোশ্যাল মিডিয়া। বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া যাবে রান্না করা খাবার। চলবে হোম ডেলিভারিও। খোলা থাকছে পেট্রল পাম্প। লকডাউনে রাস্তায় বের হওয়া গাড়িগুলিকে স্রেফ পরিষেবা দেবে পেট্রল পাম্পগুলি। একই সঙ্গে ছাড়ের আওতায় থাকছে পাড়ার সব দুধের দোকানও।

তবে লকডাউনের জেরে বন্ধ থাকবে সব রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ও বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখা। বন্ধ থাকছে সব ধরনের সরকারি ও বেসরকারি অফিস। বন্ধ থাকবে বাস, ট্যাক্সি, ট্রাম, ফেরির মতো গণপরিবহণ। ওষুধ, দুধ, গ্যাস বাদে সমস্ত দোকান বন্ধ থাকবে এই লকডাউনের দিনগুলিতে। বন্ধ থাকবে যে কোনও বাজার, সুপার মার্কেট, শপিং মল। বন্ধ থাকবে পোস্ট অফিস। সেই সঙ্গে বন্ধ থাকবে সমস্ত রকমের ধর্মীয় স্থান। গত সোমবারই রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, রাজ্যে সপ্তাহে দু’দিন করে সম্পূর্ণ লকডাউন হবে। পাশাপাশি, মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার মতো নিয়ম বাধ্যতামূলক থাকছে।

Related Articles

Back to top button
Close