fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

জল কমতেই ক্ষীরাইতে এখন মৎস্যশিকারীদের আনাগোনা

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : ক’দিন আগেও ছিল টইটম্বুর জল। এখন মরা সোঁতা যেন! ক্ষীরাই নদীর এহেন পট পরিবর্তনে এখানে কিছু মানুষ খুঁজে পেয়েছেন জীবনের জন্য কিছু রসদ। মাছের লোভে হন্যে হয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যে পড়ে রয়েছেন নদীর পাড়ে। রসনার রসময় খোঁজে এক অনন্য সংগ্রাম।

 

ক্রমশঃ জল কমছে। শুকোচ্ছে নদী। বিভিন্ন মাঠ থেকে জল বেরিয়ে পড়ছে নদীতে। সেইসব মাঠের মাছ ঢুকছে নদীতে। আর সেটাই সখের মৎস্যশিকারীদের কাছে যেন আশীর্বাদ। ছাকনি জাল, খ্যাপলা জাল, ফিকা জাল, ফুট জাল, মশারি জাল, চাবি জাল, কলি জাল, ঘাট গেঁতি জাল, বেঁউদি জাল নিয়ে নদীর বুকে হানাদারদের মতো আক্রমণ! সাগর সেঁচে মুক্তো তুলে আনার মতো অকৃত্রিম ধৈর্য্য আর গভীর মনোসংযোগকে ভরসা করেই চলছে মাছধরা। গাঙা, লেধুস, খলসে, চ্যালা, মনোসিল, লায়লনটিকা, ঘুষো চিংড়ি, পাঙস, ভেটকি, চিতল, পুঁটি, ট্যাংরা, দেঁড়ে, চাঁদা ইত্যাদি মাছ কমবেশি মিলছে। কিন্তু অপর্যাপ্ত হারে মাছ ধরার ফলে অনেক মাছের চারাপোনার অকাল মৃত্যু ঘটছে। ফলে প্রকৃতি থেকে অনেক প্রজাতির মাছ হারিয়েও যাচ্ছে বংশবৃদ্ধি করতে না পেরে।

 

ভোরের বেলা ভালো মাছ পড়ে। অনেকেই তাই ভোর চারটার সময় থেকে চলে আসেন জাল নিয়ে। মূলতঃ ফুট জাল এড়ে মাছ ধরে লোকজন। দুপুর থেকে বড়শি নিয়েও নদীর পাড়ে বসে পড়েন অনেকেই। পার্শ্ববর্তী মেঘাডাঙর, আটাং, দশাং, টিকরপাড়া, নীলমনিরামচক, নীলছকুচক, সাহড়দা, জগন্নাথচক, মার্কণ্ডপুর, কুলিয়া, কুমরপুর, নোরাই, মগরাজ ইত্যাদি গ্রামের মানুষ এখন কোরোনা উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সময় নষ্ট না করে চলে আসছেন মাছের খোঁজে। হতাশ হতে হচ্ছেনা। মোটামুটি প্রতিদিনের রান্নার উপাদেয় উপকরন মিলছে ক্ষীরাই থেকে।

 

গনেশ ত্রিপাঠি, দীপক কর, মোহন পতি, গুরুপদ ত্রিপাঠি, বিমল পাড়ইরা এখন ক্ষীরাইয়ের জলে ধরছেন মাছ। এঁরা কেউই কিন্তু এই পেশায় যুক্ত নয়। স্রেফ সময় কাটানো আর মাছের নেশা। গুরুপদ ত্রিপাঠি জানান, বাড়ির কাজ সেরে অবসর সময়ে চলে যাচ্ছি নদীতে। জাল এড়ে কেবল বসে থাকা। দুঘন্টা অন্তর সেই জাল ঝেড়ে মিলছে মাছ। তবে বিভিন্ন মাছের জন্য বিভিন্ন ফাঁসের জাল রয়েছে। গত ২৫ বছর ধরে ক্ষীরাইতে মাছ ধরছেন পাঁশকুড়ার সাহড়দা গ্রামের শতদল পাড়ই। তিনি জানান, সাধারণত খুব ভোরে এবং বিকেলের পর ভালো মাছ পড়ে। সন্ধ্যার সময় চিংড়ি মাছ বেশি পড়ে। আসলে বেলে পশতি মাটিতে ভালো হয়। কেননা এঁরা ঠাণ্ডা প্রকৃতির মাছ। সন্ধ্যার সময় আড়ার দিকে চলে আসে চিংড়ি। তখন জাল ছাড়াও হাত দিয়েই ধরতে পারা যায়। আগে পুকুরে ডাহুক ধরা ঝাঁপির মতো দেখতে ‘কুঁড়াজালি’ দেওয়া হোতো চিংড়ি ধরার জন্য। ছাকনি জালেও চিংড়ি ধরা হয়। নদীর ঘুষো চিংড়ির স্বাদই আলাদা।

 

মানুষের হাতে কাজ নেই। রুজিরুটিতেও টান পড়েছে। সংসার চালানোতেও ঘোর সংকট। এমতবস্থায় সস্তায় এবং অল্প পরিশ্রমেই অনেকে বাড়ির কাছের নদীকে বেছে নিয়েছেন অল্প কিছু আয় এবং সময় কাটানোর মাধ্যম হিসেবে। ক্ষীরাই ছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁসাই, রূপনারায়ণ, হলদি, রসুলপুর, কেলেঘাই নদীতেও বহু মানুষ এখন অবসরকালীন সময় কাটাচ্ছেন মাছ ধরে।

Related Articles

Back to top button
Close