fbpx
পশ্চিমবঙ্গ

আমফান ও লকডাউনের জোড়া ধাক্কায় ক্ষতির মুখে কোলাঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ীরা

বাবলু ব্যানার্জি,  কোলাঘাট: প্রায় আড়াই মাস ধরে করোনা ভাইরাস এর জন্য লকডাউন চলছে। তার উপর সদ্য ঘটে যাওয়া আমফানের তাণ্ডবে মাছের ব্যাপক ক্ষতি,এই জোড়া আঘাতে কোলাঘাট ব্লকের মাছ আড়ৎ গুলি আর্থিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত। প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার যে মাছ আড়ৎ গুলির মধ্যে লেনদেন হতো এখন সরকার কিছুটা শিথিল করায় তা দাঁড়িয়েছে ৮০;থেকে  ১ লাখ টাকা। মাছ আড়ৎগুলি এই দুয়ের প্রভাব থেকে কবে মুক্তি পাবে তা নিয়ে চিন্তাগ্রস্থ আড়ৎ মালিকরা।

কোলাঘাট ব্লকের পুলশিটা অঞ্চলের পানশিলা ও কোলাঘাট তৃতীয় রেল ব্রিজের নিচে মাছের আড়ৎ রয়েছে। এই দুটি স্থান থেকেই পশ্চিম মেদিনীপুর ও হাওড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে মাছের যোগান যায়। এখন একপ্রকার বন্ধ বলা যায়। দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে সারিবদ্ধ মাছের গাড়ি। মূলত এই গাড়ি গুলি গ্রামীণ এলাকা থেকেই মাছ নিয়ে আসে। মাছের যোগান কম থাকলে সমুদ্র এলাকা থেকেও এই এই স্থানে মাছের গাড়ি আসে। গ্রামীণ এলাকা থেকে মাছ না আসায় কিছুটা হলেও ধাক্কা খেয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি। মাছ চাষ করে বহু বেকার যুবক তাদের পেটের অন্য জোগাড় করে। বেকার যুবকরা গ্রামে গ্রামে পুকুরের লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে। এর থেকেই তাদের জীবিকা অর্জন।

জানা যায়, আমফানের ঝড় ও প্রবল বৃষ্টিতে মাছ চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা মৎস্য দপ্তর জানিয়েছেন এবারে জেলার ৪৩৫২ মেট্রিকটন মাছ এবং ১০৫ মিলিয়ন চারা পোনা ক্ষতিগ্রস্ত। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকার মতো, এই ক্ষতিগ্রস্থের বেশির ভাগটাই গ্রামীণ এলাকায় বলে জানা যায়। ব্লকের এই দুই আড়ৎদার এর কাছে প্রতিদিন ৮০০ থেকে হাজার জন্য পাইকারি আসে। তমলুক, হলদিয়া ,ডেবরা ,পাঁশকুড়া, বাগনান, উলুবেরিয়া সহ দুই জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ভোর তিনটে থেকে মাছ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যেত , এখন সেই চিত্র আর নেই। লকডাউন ও আমফানের তাণ্ডবের জন্য এই দুটি আরৎ এর সঙ্গে যুক্ত প্রায় শতাধিক কর্মচারী তারা এখন কর্মহীন। শ্রীকান্ত বর্মন, প্রসেন বর্মন, ঝন্টু বাগ ,দীপক পাত্র সহ বেশ কিছু কর্মচারী তারা আক্ষেপের সুরে বলেন মাছ আড়ৎ বন্ধ থাকায় তারা এখন ঘরবন্দি। মাঝেমধ্যে মাঠে-ঘাটে কোনরকমে কাজ করে তাদের সংসার চলছে। এই আরৎ গুলিতে রুই ,কাতলা, বাটা, সিলভারকাপ, মনসেফ, তেলাপিয়া সহ জ্যান্ত মাছের আমদানির পাশাপাশি চিংড়ি, তোপসে, শংকর,ইলিশ,ভোলার মত সামুদ্রিক মাছ এখান থেকে পাইকাররা নিয়ে যায়।
আড়ৎদার জয় প্রকাশ বর্মন, গয়া রাম মন্ডল,রাধানাথ মালিক, সুখেন বর্মন, মুস্তাকী আলী সহ অনেক আড়ৎ দাররা এই ব্যবসায় দিনের পর দিন ক্ষতির সম্মুখীন হলেও তারা ভেঙে পড়েনি। বর্তমানে সরকার কিছুটা লকডাউন শিথিল করলে মাছ আরৎ গুলি খোলা রয়েছে ঠিকই কিন্তু মাছের যোগান না থাকায় ব্যবসা ঠিক মত চলছে না। তবুও হাল ছাড়তে রাজি নয় মাছ ব্যবসায়ীরা।

Related Articles

Back to top button
Close