fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণদেশপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মোদির মন্ত্রিসভায় বাংলার আরও পাঁচ!

বাজেট অধিবেশনের পরই রদবদল, প্রত্যাশা তুঙ্গে

ইন্দ্রাণী দাশগুপ্ত , নয়া দিল্লি: মোদির মন্ত্রিসভায় এবার ঠাঁই পেতে চলেছেন বাংলার আরও পাঁচ সাংসদ। এমনই জল্পনা ঘিরে চড়ছে প্রত্যাশার পারদ।
সংসদে চলা দ্বিতীয় বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পর বা রাজ্যসভার নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার পর সম্প্রসারণ হতে পারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার।

স্বপন দাশগুপ্ত, সুভাষ সরকার

নতুন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে একাধিক সংসদ । ২০২১- এর বিধানসভা নির্বাচনকে নজরে রেখে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই সাংসদদের জায়গা হতে পারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়। মূলত যে ৫ জন সাংসদের নাম নিয়ে জোর আলোচনা হচ্ছে বিজেপির অন্দরমহলে তারা হলেন উত্তরবঙ্গ থেকে নিশীথ প্রামাণিক, জন বারলা, দক্ষিণবঙ্গ থেকে বাঁকুড়ার সাংসদ সুভাষ সরকার বা মতুয়া মহাসঙ্ঘের সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুর। আবার রাজ্যসভার সাংসদ সাংবাদিক স্বপন দাশগুপ্ত কেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

সম্ভাব্য তালিকা

সুভাষ সরকার

মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী

শান্তনু ঠাকুর

মতুয়াদের জন্য নবগঠিত মন্ত্রকের পূর্ণমন্ত্রী

স্বপন দাশগুপ্ত

অর্থ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী

জন বার্লা, নিশীথ প্রামাণিক

আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী

২০১৯- এর লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা তৎকালীন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার বাংলার জনগণকে বিজেপির উপর আস্থা রাখতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই জায়গা থেকে ২০১৪ নির্বাচনে যেখানে বিজেপি পেয়েছিল মাত্র দুটি আসন, ২০১৯- এ বাংলার জনগণ ১৮টি লোকসভা আসনে বিপুল ভোটে বিজেপিকে জয়যুক্ত করে। কার্যক্ষেত্রে দেখা যায় ২০১৪ দুটি জয়ী সাংসদদের মধ্যে থেকে একজনকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দিলেও এবার ১৮ জনের মধ্যে থেকে মাত্র দুইজন বাবুল সুপ্রিয় এবং দেবশ্রী চৌধুরী জায়গা পেয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়। এবং দুজনেই প্রতিমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: করোনাভাইরাসকে বিপর্যয় আখ্যা দিয়ে মৃতদের আর্থিক ক্ষতিপূরণের ঘোষণা কেন্দ্রের

যার ফলে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে এবার বাংলা থেকে যে আরও সাংসদদের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হবে বলেই আশা করছেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। তাদের মতে বাংলা থেকে বিজেপির ক্রিকেটে জয়ী হয়ে যারা এবার সাংসদ হয়েছেন তাদের অধিকাংশই সংসদীয় রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ। সেই কারণেই বিজেপির ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের বেশ কিছুদিন তাদের সংসদীয় রাজনীতির সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটিয়ে তবেই মন্ত্রিসভায় জায়গা দিতে চাইছেন।

প্রথমে জানুয়ারি মাসেই এই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের কথা থাকলেও আমেরিকান রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফর এবং দিল্লি দাঙ্গার কারণে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু এবার মনে করা হচ্ছে বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পরেই বা একদম শেষের দিনে অথবা রাজ্যসভা নির্বাচন এর শেষে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের ঘোষণা করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। এবং সেক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গ থেকে রাজবংশি পরিবারের জনপ্রতিনিধি কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক বা আদিবাসী সমাজের জনপ্রতিনিধি আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বারলাকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে। উভয়কে আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে বলে সূত্রের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: পুর উন্নয়নে সবচেয়ে পিছিয়ে মুসলিম মহল্লা!

অপরদিকে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন লাগু হওয়ার পরে বাংলাদেশ থেকে আসা উদ্বাস্তু মতুয়া শরণার্থীদের প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের বসবাস ভারতবর্ষে। এই জনজাতির সমর্থন পাওয়ার উদ্দেশ্যে শান্তনু ঠাকুরের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সদ্য নাগরিকত্ব পাওয়া ভারতীয়দের ভবিষ্যতে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি নতুন মন্ত্রক কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সৃষ্টি করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এমনকী সেই দফতরের পূর্ণমন্ত্রীও করা হতে পারে শান্তনু ঠাকুরকে। কারণ শান্তনু ঠাকুর মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মতুয়া বাড়িরও বংশধর।

সমগ্র মতুয়া সমাজ শান্তনু ঠাকুরকে তাদের ঈশ্বর গুরুচাঁদ ঠাকুরের প্রতিভূ বলে যথেষ্ট সম্মান করে। এই জায়গা থেকে সমগ্র সমাজের মন পেতে শান্তনু ঠাকুরের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি এক কথায় পাকা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
পেশায় ডাক্তার এবং দীর্ঘদিনের সংঘ পরিবারের ঘনিষ্ঠ বাঁকুড়া সংসদ সুভাষ সরকারকে নিয়েও যথেষ্ট আলোচনা চলছে বিজেপির অন্দরমহলে। মানবসম্পদ উন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে অভিজ্ঞ এবং বরিষ্ঠ এই বিজেপি সাংসদকে বলে মনে করছে দিল্লির রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুন: করোনা নিয়ে দ্বিচারিতা করছেন মুখ্যমন্ত্রী, অভিযোগ বামেদের

রাজ্যসভায় পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি মুখ স্বপন দাশগুপ্ত বরাবরই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অত্যন্ত প্রিয় পাত্র। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সারা বাংলা জুড়ে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রচারে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল স্বপন দাশগুপ্তকে। সাংবাদিক এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই সাংসদকে অর্থ দফতরের প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

Related Articles

Back to top button
Close