fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে মহিলার সঙ্গে অন্তরঙ্গ, গণরোষে যখম ৫ পুলিশ

অমিতাভ মণ্ডল, পাথরপ্রতিমা: কোয়ারেন্টিন সেন্টারে থাকা এক মহিলার সঙ্গে ভিলেজ পুলিশকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে উত্তাল হল এলাকা। উত্তেজিত গ্রামবাসীরা সারারাত আটকে রাখে ওই ভিলেজ পুলিশ ও মহিলাকে। উদ্ধার করতে এলে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে কয়েকশো গ্রামবাসী।

শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে বচসা ও ধস্তাধস্তি।  পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে উত্তেজিত গ্রামবাসী । ভাঙচুর করে কোয়ারেন্টিন সেন্টার ও পুলিশের গাড়ি। জখম হয় ৫ পুলিশ কর্মী। তাদেরকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯ জনকে। আটক করা হয়েছে ভিলেজ পুলিশকে। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটে ঢোলাহাটের দিগম্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মতীর্থ বিল্ডিংয়ের কোয়ারান্টাইন সেন্টারে। সুন্দরবনের পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি জানান,‘‌ ঘটনায় ওই ভিলেজ পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। ভাঙচুরের ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওই পরিযায়ী মহিলা ভিন রাজ্য থেকে বাপের বাড়ি দিগম্বরপুরের রামনগর আবাদে আসেন। কোয়ারেন্টিন সেন্টারে একাই ছিলেন ওই মহিলা। দিগম্বরপুর পঞ্চায়েতের ভিলেজ পুলিশ জাহির আব্বাস ছিলেন ওখানকার দায়িত্বে। বৃহস্পতিবার রাতে ওই মহিলার সঙ্গে তাকে আপত্তিকর অবস্থায় গ্রামবাসীরা দেখতে পায় বলে অভিযোগ। এরপর গ্রামবাসীরা ওই কোয়ারেন্টিন সেন্টারে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এই খবর চাউর হতেই আশপাশে গ্রাম থেকে কয়েকশো পুরুষ ও মহিলা এসে ওই সেন্টারের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ভিলেজ পুলিশের শাস্তির দাবিতে সরব হন। খবর পেয়ে ঢোলাহাট থানার ওসি অনিন্দ্য মুখার্জির নেতৃত্বে পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে আসেন। পুলিশকে ঘিরে ওই ভিলেজ পুলিশের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন উত্তেজিত গ্রামবাসীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে মন্দিরবাজারের ডিএসপি দেবাশিষ ব্যানার্জি ও মন্দিরবাজারের এসআই সৌমিত্র মণ্ডল বিশাল বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর ওই মহিলা ও ভিলেজ পুলিশকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামবাসীরা পুলিশের হাত থেকে তাদেরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ বাধা দিতে গেলে শুরু হয় ইট বৃষ্টি। ইট বৃষ্টি উপেক্ষা করে পুলিশ তাদের গাড়িতে তুলতে গেলে পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গ্রামবাসীরা। পরিস্থিতি রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে। চলে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর। ভাঙচুর করা হয় সেন্টার। জখম হন কয়েকজন পুলিশ কর্মী। জখম পুলিশ কর্মীদের চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় গদামথুরা গ্রামীণ হাসপাতালে। ঘটনাস্থলে আসেন সুন্দরবন পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্তোষ কুমার মন্ডল। পরিস্থিতি সামাল দিতে উত্তেজিত গ্রামবাসীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।‌‌

Related Articles

Back to top button
Close