fbpx
দেশহেডলাইন

খাদ্য সুরক্ষার চাল বনধ ! সাপ্লাই ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, কাটলিছড়া: কোভিড ১৯, লকডাউনের প্রেক্ষিতে সরকার যখন বিনামূল্যে চাল বিতরণ করছেন ঠিক সেই মুহুর্তে কাটলিছড়ার রংপুর সমবায় সমিতির অধীনে খাদ্য সুরক্ষার রেশন কার্ড থাকা সত্বেও বিগত প্রায় ছয় মাস ধরে চাল না পেয়ে শেষপর্যন্ত জেলা উপায়ুক্ত কে নালিশ জানানোর পাশাপাশি আদালতে সংস্লিস্ট সাপ্লাই সাব ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে মামলা করলেন ভুক্তভোগী মহিলা। লালা থানাধীন রংপুর প্রথম খন্ডের ভুক্তভোগী মহিলা হাজিরা বেগম বড়ভুইয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাপ্লাই সাব ইন্সপেক্টর দিব্যজিৎ পাঠক ও রংপুর সমবায় সমিতির ডিলার ছালে আহমেদ বড়ভুইয়ার বিরুদ্ধে হাইলাকান্দির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সি আর 280/2020 নম্বরে ভারতীয় দণ্ডবিধির 294/409/34 ধারায় মামলা নথিভুক্ত করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

গত ২২ জুন নথিভুক্ত হওয়া মামলাটির পরবর্তী শুনানি হাইলাকান্দি মুন্সেফ ট্যু আদালতে আগামী ২৬ জুন অনুস্টিত হবে। হাজিরা বেগম বড়ভুইয়া আদালতে অভিযোগ করে বলেন, বিগত প্রায় সাত বছর ধরে তিনি খাদ্য সুরক্ষার কর্মসূচির অধীনে নিয়মিত চাল পেয়েছেন। কিন্ত বিগত প্রায় পাঁচ মাস আগে রেশন কার্ড ভেরিফিকেশন করার নামে সাপ্লাই সাব ইন্সপেক্টর এলাকার ডিলারের মাধ্যমে এক হাজার টাকা দাবি করেন । কিন্ত হাজিরা বেগম তা দেন নি। এরপর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি হাজিরা বেগম সহ অন্য চার জন খাদ্য সুরক্ষার কার্ড হোল্ডার কে হাইলাকান্দিতে এডিএস কার্যালয়ে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়।

যথারীতি তারা এডিএস কার্যালয়ে সকাল দশটা থেকে বিকেলে চারটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।। বিকেল পাঁচটায় ফের তিন মার্চ উপস্থিত হতে আরেকটি নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে হাজিরা বেগমের স্বামী সামসুল ইসলাম কেন আর টি আই করেছেন এ প্রশ্ন তুলে সাপ্লাই সাব ইন্সপেক্টর অশালীন ব্যাবহার করেন বলে আদালতে অভিযোগ করেন তিনি । এরপর তিন মার্চ শুনানিতে উপস্থিত হলে তাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে, তাদেরকে খাদ্য সুরক্ষার চাল দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। যার ফলে বিগত প্রায় ছয় মাস ধরে তারা খাদ্য সুরক্ষার চাল পাচ্ছেন না।

এদিকে এঘটনার পর গত চার মার্চ পুরো ঘটনার বিবরণ জানিয়ে লালা থানায় সাপ্লাই সাব ইন্সপেক্টর সহ ডিলারের বিরুদ্ধে একটি এজাহার জমা দেন হাজিরা বেগম বড়ভুইয়া। এজাহারের ভিত্তিতে লালা পুলিশ সরেজমিনে তদন্ত করলেও আজ পর্যন্ত তিনি চাল পাননি। এদিকে অনুরূপ অভিযোগ জানিয়ে গত ৯ জুন কাটলিছড়ার রংপুর প্রথম খন্ডের খাদ্য সুরক্ষার কার্ড হোল্ডার গ্রাহক আনোয়ারুল ইসলাম বড়ভুইয়া কাটলিছড়া থানায় হাইলাকান্দি সরবরাহ বিভাগের সাপ্লাই সাব ইন্সপেক্টর দিব্যজিৎ পাঠকের বিরুদ্ধে সম্পুর্ন বেআইনিভাবে চারজন কার্ড হোল্ডারের চাল বনধের অভিযোগ করে মামলা দায়ের করেন।

কাটলিছড়া পুলিশ আনোয়ারুল ইসলাম বড়ভুইয়ার এজাহারের ভিত্তিতে হাইলাকান্দি খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগের সাপ্লাই সাব ইন্সপেক্টর দিব্যজিৎ পাঠকের বিরুদ্ধে 155/2020 নম্বরে মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে। আনোয়ারুলের অভিযোগ তিনি রংপুর সমিতির সাতজন ডিলারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগের সঞ্চালকের কাছে নালিশ এবং সাপ্লাই সাব ইন্সপেক্টর দিব্যজিৎ পাঠকের সম্পত্তি নিয়ে আর টি আই আবেদন করায় রাগান্বিত হয়ে সাপ্লাই সাব ইন্সপেক্টর রেশন কার্ডের চাল বনধ করে রেখেছেন। যার ফলে বর্তমানে খাদ্য সুরক্ষার চাল পাচ্ছেন না তিনি সহ মোট চারজন পৃথক পৃথক পরিবারের কার্ড হোল্ডার। তারা হলেন রেজিয়া বেগম চৌধুরী, হাজিরা বেগম বড়ভুইয়া , সামসুন নেছা বড়ভুইয়া।

কাটলিছড়া থানায় এজাহার জমা দিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম বড়ভুইয়া অভিযোগ করে বলেন, 2019 সালের 15 নভেম্বর তারিখে তিনি রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগের সঞ্চালকের কাছে রংপুর সমবায় সমিতির সাতজন ডিলারের বিভিন্ন দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে অভিযোগ করেছিলেন। পরবর্তীতে সাপ্লাই সাব ইন্সপেক্টর দিব্যজিৎ পাঠকের গুয়াহাটি মহানগরে জমি ক্রয়ের খবর পেতে তাঁর বেতন সহ আয়ের তথ্য জানতে চেয়ে একটি আর টি আই আবেদন করেন । এরপর অভিযোগ সহ আর টি আই আবেদন প্রত্যাহার করতে চাপ দেওয়া সহ বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেওয়া হয়। কিন্ত তিনি তা প্রত্যাহার করেন নি। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে সাপ্লাই সাব ইন্সপেক্টর দিব্যজিৎ পাঠক আনোয়ারুল ইসলাম বড়ভুইয়া সহ অন্য চারজনের এন এফ এস এ কার্ড বনধ করে দেন। এদিকে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে সাপ্লাই সাব ইন্সপেক্টর দিব্যজিৎ পাঠকের মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, গন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি তদন্তে নেমে দেখতে পান একই হোল্ডিং নম্বরে একাধিক খাদ্য সুরক্ষার কার্ড রয়েছে। তাই তদন্ত প্রতিবেদনে এসব উল্লেখ করে এডিএসের কাছে জমা দিলে তাদের চাল বনধ করে রাখা হয়।

Related Articles

Back to top button
Close