fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনের পাশাপাশি আমফান, ঈদের বাজারে মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিনিধি দিনহাটা: লকডাউনের পাশাপাশি আমফানের তান্ডবে ঈদ উৎসবে মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের। এবছর এই দুই উৎসবে ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

গতবছর এই উৎসবে দিনহাটায় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার ব্যবসা হলেও এবছর তার কুড়ি শতাংশ ব্যাবসা ও সম্ভব হয়নি। এর ফলে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বিরাট আঘাত আসতে চলছে বলেও মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। করোনা ভাইরাসের ফলে গত দুমাস ধরে শুরু হয়েছে লকডাউন। এর ফলে দোকানপাট বন্ধ থাকলেও সকলের কথা মাথায় রেখে পরের দিকে সরকারিভাবে কয়েক ঘণ্টার ছাড় দেওয়া হয়েছিল। ঘন্টা তিনেকের জন্য ছাড় দেওয়া হলেও সেভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য হয়নি বলে জানান ব্যবসায়ীরা। প্রায় দু মাস ধরে লকডাউন এর পাশাপাশি আমফানের তাণ্ডবেও গোটা রাজ্য জুড়ে সমস্যায় পড়তে হয় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে।

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ বঙ্গের জেলাগুলিকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা শুরু হতেই রবিবার সকাল থেকে দিনহাটা শহর জেলার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে ঝড় বৃষ্টি। ঈদের আগের দিন এভাবে ঝড় বৃষ্টির ফলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য দোকান খোলা থাকলেও সেখানেও বাধা প্রাপ্ত হতে হয় ব্যবসায়ীদের। এদিন ভোর থেকে নতুন করে ঝড় বৃষ্টির ফলে হাটবাজারে লোক ছিল অনেকটাই কম। ঈদের আগের দিন এভাবে বৃষ্টির ফলে হতাশ হয়ে পড়েন ব্যবসায়ীরা। তাদের অনেকেরই আশা ছিল ঈদের বাজার কিছুটা হলেও জমে উঠবে। কিন্তু সেই আশাতে ও জল ঢেলে দেয় ঝড় ও বৃষ্টি এমনটাই অভিমত দিনহাটার বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের।

দিনহাটায় বস্ত্র ব্যবসায়ীদের রাজকুমার সোমানি , রকি চৌধুরী প্রমুখ জানান এবছর চৈত্র সেল এর পর নববর্ষ তারপর ঈদ একের পর এক এই উৎসব গুলিতে তাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের ফলে গত দুমাস যেমন ক্ষতি হয়েছে তেমনই গত কয়েক দিনে ঝড় বৃষ্টির ফলে তাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ২০ শতাংশ ব্যবসা হয়নি বলেও তিনি জানান।

আর এক জামা কাপড় ব্যবসায়ী প্রবীর কুমার সাহা, বিল্পব সাহা, মৃণাল সাহা প্রমূখ জানান গত দুই মাসে করোনা ভাইরাস ও ঝড় বৃষ্টি ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতি করেছে। মানুষের হাতে টাকা পয়সা না থাকায় অনুষ্ঠান গুলিতেও ইচ্ছে থাকলেও নতুন জামা-কাপড় কিনতে পারছে না অনেকেই।

দিনহাটা মহকুমা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক উৎপলেন্দু রায় বলেন চৈত্র সেল থেকে শুরু করে ঈদ এই দুই মাসে পাঁচ থেকে দশ শতাংশ ব্যবসা হয়েছে। সংগঠনের নেতৃত্ব বলেন দুমাস তো লকডাউন এর ফলে বন্ধ ছিল। তার পরেও যেভাবে ব্যবসা এগিয়ে যাচ্ছে তাতে দিনহাটায় অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। আগামীতে সরকারি সাহায্য ছাড়া কোনওভাবেই চলবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।দিনহাটা অর্থনৈতিক অবস্থা কার্যত ভেঙ্গে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দিনহাটা মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রানা গোস্বামী বলেন, এ পর্যন্ত তাদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ৮০ শতাংশ ব্যবসা ক্ষতি হয়েছে। পয়লা বৈশাখে চৈত্র সেল থেকে শুরু করে নববর্ষ এবং ঈদ এবং ঈদের পরবর্তী পর্যায়ে প্রাক পুজা উপলক্ষে ও ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি শুরু করে। করোনার ধাক্কার পাশাপাশি আমফানের তান্ডব সব মিলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ।

লকডাউনের ফলে সেভাবে বাজার ঘাট না খোলায় লোকজন বাজারে সেভাবে আসতে না পারায় এবং একশ্রেণীর মানুষের হাতে টাকা পয়সা না থাকায় আঘাত নেমে এসেছে ব্যবসায়ীদের ওপর। এবছর ঈদ অধিকাংশ মানুষই ঘরেই উদযাপন করছে। সুতরাং যারা ঈদ পালন করবেন তাদের মনে আনন্দ নেই। শুধুমাত্র যারা চাকরিজীবী মানুষ তাদের নির্দিষ্ট রোজগার ঠিক থাকলেও বাকি মানুষ ভয়ঙ্কর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

Related Articles

Back to top button
Close