fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনে জোরদার হচ্ছে আংশিক সময়ের শিক্ষকদের আন্দোলন

অমিত দাস , নদিয়া (করিমপুর) : কোভিড ১৯ এর সংক্রমণ আর লাগাতার লকডাউনের জেরে কর্মসংস্থান হারিয়েছেন অনেকে। নিজের রুটি রুজির জোগাড় করতে পথে নেমেছেন অনেকেই। স্কুল কলেজ বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে টিউশন পড়ানো। রাজ্য সরকারের নির্দেশে এখন আপাতত বন্ধ কোচিং সেন্টারও।

এই সমস্ত কিছুর জন্য ক্রমবর্ধমান বেকার সমস্যা আরও অনেকটা ধাপ এগিয়ে গেল। তারওপর একদিকে একের পর এক আইনি জটিলতা আর অন্যদিকে লকডাউন , এই দুইয়ের জাঁতাকলে থমকে গেছে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া। ফলে বড়ো সমস্যার সম্মুখীন হতে চলেছে শিক্ষিত বেকাররা। আর এই অবস্থায় স্কুলের আংশিক সময়ের শিক্ষকের আন্দোলন আরও জোরদার হতে চলেছে।

স্কুলের স্বার্থে স্কুল কমিটির মাধ্যমে অনেক স্কুলেই নিযুক্ত হয়েছেন আংশিক সময়ের শিক্ষক শিক্ষিকারা। রাজ্য জুড়ে প্রায় ১০ হাজর এরকম আংশিক সময়ের শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন। কেউ ২ বছর , কেউ ৩ বছর আবার কেউ ৫ বছর ধরে স্কুলে কর্মরত রয়েছেন। স্কুলের স্বার্থে তাদের নিয়োগ করা হলেও সামান্য বেতন পান তাঁরা।

মূলত স্কুল থেকেই দেওয়া হয় তাঁদের বেতন। কোনও স্কুলে দেওয়া হয় এক হাজার টাকা , কোথাও ২ হাজার টাকা। এই সামান্য বেতনে প্রায় পূর্ণ সময়ের শিক্ষকদের মতোই তারা স্কুলের পঠন পাঠনের দায়িত্ব পালন করেন। তবে এই বেতনে সারা বছর স্কুলে যুক্ত থেকে এই শিক্ষক শিক্ষিকাদের একমাত্র পাওনা বেশ কিছু টিউশনি। কিন্তু সারাদিন স্কুলে থেকে সময়ের নিরিখে টিউশন করতে বেশ হিমশিম খেতে হয় তাঁদের। এই লকডাউনের সময় সেই পথও বন্ধ হয়ে রয়েছে।

সামান্য বেতন আর টিউশন পড়িয়ে সংসার চলে অনেকেরই। তাই স্থায়ীকরণের দাবি তুলেছেন তারা। দাবি নিয়েই সংগঠিত হয়েছে এই আংশিক সময়ের শিক্ষক শিক্ষিকারা। তৈরি হয়েছে West Bengal School Part Time Teacher Association। বেশ কয়েকবার স্থায়ীকরণের দাবি নিয়ে বিকাশ ভবনে ডেপুটেশন দেন তারা। শুধু তাই নয় DM , SDO , জেলা পরিষদে তাদের স্থায়ীকরণ ও নূন্যতম বেতনের দাবি সংবলিত আবেদনপত্র জমা দেন তারা। চেষ্টা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট দফতর ও ওপর মহল থেকে কোনও ইতিবাচক উত্তর পাননি তাঁরা। এই লকডাউনের সময় যখন গৃহশিক্ষকতাও বন্ধ তখন বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে চান তাঁরা।

সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ও নদিয়া জেলা সভাপতি রাম প্রসাদ বাগ জানান, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের দুর্দশা সর্বত্রই ধরা পড়ছে । আমাদের অর্থনৈতিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে । এছাড়া স্কুল থেকে পারিশ্রমিক পাচ্ছি না। যার ফলে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি , অর্থনৈতিক ভাবে এটাই সঙ্কটের মধ্যে আছি তা ,অনেকটা এই রকম যে কাছে ১০ টাকা আছে, তার মধ্যে আজকে ৪ টাকা খরচ করে, আগামী দিনের পর্যন্ত বাকিটা রাখতে হচ্ছে । স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা ও মা সন্তানদের নিয়ে খুবই অসহায় অবস্থায় রয়েছি । অনেক শিক্ষক ইতিমধ্যে নিরুপায় হয়ে রাজমিস্ত্রি কাজ করেছেন, চাষের কাজ করেছেন, সব্জি বিক্রি করছেন।

তাই মানবিক সরকারের প্রতি আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি: 1)স্থায়ী করণ
2)নূন্যতম সাম্মানিক বেতন
3)বর্তমান পরিস্থিতি অর্থনৈতিক সহযোগিতা
সরকার যদি আমাদের কোনও সাহায্য না বা আমাদের প্রতি সহানুভূতিশীল দৃষ্টি আকর্ষণ না করেন তাহলে আমরা পেটের টানে রাস্তায় নামতে বাধ্য হব। ‘

এই অসহায় পরিস্থিতির মধ্যে এক মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে এই আংশিক সময়ের শিক্ষক সংগঠন। করোনা মোকাবিলায় বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদের হাত। মুখ্যমন্ত্রী রিলিফ ফান্ডের জন্য এই সংগঠনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই তিনটি জেলা থেকে প্রায় ১৭ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগঠনের অন্যতম সদস্য মিঠুন মুখার্জি বলেন, ‘প্রায় সবকটি জেলা থেকেই আমরা অর্থ সংগ্রহ করছি। এছাড়া বাকি জেলাগুলি থেকেও অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে , যার সমস্ত অর্থ একটি নির্দিষ্ট দিনে মুখ্যমন্ত্রী বা শিক্ষামন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হবে। ‘

বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে উন্নত হয়েছে আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা। নিত্য নতুন আবিষ্কার হচ্ছে নানা বৈজ্ঞানিক গবেষণার। কিন্তু তা সত্ত্বেও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের থাবা থেকে আমরা কেউই বাঁচতে পারছি না। এই অবস্থায় সামান্য বেতন পাওয়া এই আংশিক সময়ের শিক্ষক শিক্ষিকাদের দিন কাটছে কষ্টে। শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর ভর করে থাকা এই সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকাদের এই সংকট সমাজের এক অন্ধকারময় দিকটিকেই প্রকাশ করছে।

Related Articles

Back to top button
Close