fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

করোনা এফেক্টে শাপে বর! চিন ছেড়ে ভারতের পথে বিদেশি কোম্পানিগুলো

রক্তিম দাশ, কলকাতা: বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়া করোনা মহামারী ভারতে ব্যাপক প্রভাব ফেললেও আশার কথা শোনাচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। ভারতের অর্থনীতিতে করোনা এফেক্ট শাপে বর হয়ে দেখা দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। করেনা ভাইরাসের জেরে চিন ছেড়ে বহু বিদেশি কোম্পানি ভারতে চলে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জানা গিয়েছে, আমেরিকা জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রায় ১ হাজারটির মতো বহুজাতিক সংস্থা চিনে তাদের কারখানা এবং ওয়ারহাউস সরিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে ভারত সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে।

লকডাউন শুরু হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘চিন থেকে যে সব সংস্থা সরে আসবে তাদের স্বাগত জানাবে ভারত। এর জন্য আমাদের তৈরি থাকতে হবে।’এই পরিকল্পনার অংশ হিসাবে ইতিমধ্যে দেশে জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সূত্রে খবর, সারা দেশে এখনও পর্যন্ত ৪ লক্ষ ৬১ হাজার ৫৮৯ হেক্টর জমি, আয়তনে যা কি না যা কিনা ইউরোপের দেশ লাক্সেমবার্গের দ্বিগুণ, তা ইতিমধ্যে চিহ্নিত করাও হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে গুজরাত, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশে অবস্থিত ১ লক্ষ ১৫ হাজার ১৩১ হেক্টর রয়েছে। এর বাইরে যে সব শিল্পাঞ্চলে অব্যবহৃত জমি রয়েছে তা ব্যবহারের দিকটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চলদি মাসের শেষের দিকে এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে এমনটাই খবর।

জানা গিয়েছে, এবিষয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারে এমএসএমমি দপ্তরের মন্ত্রী সিদ্ধার্থ নাথ সিং ১০০ টি মার্কিন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন। এর পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থাগুলোকেও তিনি আহ্বান জানিয়েছেন বিনিয়োগ করতে। অনলাইনে জমি বন্টনের পরিকল্পনাও করছে যোগি সরকার। গুজরাত এবং উত্তর-পূর্বের বেশ কয়েকটি রাজ্যও এবিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জাপান, আমেরিকা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার একাধিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে অন্ধ্র্রপ্রদেশ।

ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে দেশে বিনিয়োগ করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে মোদি সরকার। কর্পোরেট কর  ১৭ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার ফলে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সুবিধা হয়েছে এমনটাই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

মার্কিন সংস্থাগুলো চিন থেকে ব্যবসা গুটিয়ে ভারতে মূলকেন্দ্র করতে চাইছে। লকহিদ মার্টিন, এডোব, হানিওয়েল, বোস্টন সাইন্টিফিক, সিসকো সিস্টেম, ইউপিএস, ফেডেক্সর মতো মার্কিন সংস্থারা ভারতে আসতে চেয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে, তারা এদেশে কি ধরণের সুবিধা পেতে পারে। ক্যাপিটাল সাবসিডি এবং ল্যান্ড সাবসিডি নিয়েও আলোচনা চলছে বলে খবর।

জানা যাচ্ছে, এডোব ইতিমধ্যেই চিনের পুরো অপারেশন তুলে নিয়ে ভারতে আসতে চায়। অন্যদিকে, মাস্টার কার্ডও চিনে তাদের কর্মক্ষেত্র ভারতে নিয়ে আসতে আগ্রহী। মার্কিন সংস্থা বোস্টন সাইন্টিফিক ভারতে চিকিৎসা সরঞ্জামের উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে অ্যাপেলের বিভিন্ন  ইলেকট্রনিক্স গ্যাজেট তৈরি সংস্থা উইস্ট্রন কর্পোরেশন, আইফোনের অ্যাসেম্বেলিং সংস্থা পেগাট্রনও ভারতে আসতে চাইছে বলে সূত্রের খবর।

নয়াদিল্লি সূত্রে খবর,  চিনে ব্যাপক বিনিয়োগকারী এগ্রিকালচার, ইলেকট্রনিক্স, ওষুধ, গবেষণার যন্ত্রাংশ তৈরির সংস্থা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং তথ্য প্রযুক্তির বেশ কয়েকটি সংস্থা গত একমাসে ভারতে বিনিয়োগের বিষয় খোঁজ খবর নিচ্ছে। যেসব সংস্থা ভারতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, ভারতীয় দূতাবাসগুলিকে তাদের চিহ্নিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতে বিদেশি বিনিয়োগ আনা ও দেখভালের দায়িতে থাকা ইনভেস্ট ইন্ডিয়া সংস্থা, ইতিমধ্যেই জাপান, আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চিন থেকে একাধিক সংস্থা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

২০১৯-এর ডিসেম্বর থেকে  চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এই চার দেশ থেকে ভারতে সরাসরি ৬৮০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ এসেছে।

Related Articles

Back to top button
Close