fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণবাংলাদেশহেডলাইন

শেখ হাসিনার সঙ্গে বিদেশ সচিবের এক ঘন্টার বৈঠক

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা: আকস্মিক ঢাকা সফরে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার গণভবনে তাদের এই সাক্ষাৎ হয়। পরে রাতে কয়েকজন সাংবাদিককে বৈঠকে আলোচনার বিভিন্ন দিক জানান, ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস।

তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দিল্লির ‘বিশেষ বার্তা’ নিয়ে এসেছেন বিদেশ সচিব শ্রিংলা।
“বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের রয়েছে বিশেষ ও নিবিড় সম্পর্ক। এ কারণে মহামারীর মধ্যে আন-অফিসিয়াল ধরনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন বিদেশ সচিব।” সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা চলে ওই বৈঠক।

এই সফর নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কটা বিশেষ আর অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ। বিদেশ সচিবকে করোনা মহামারীর এই সময়ে অনানুষ্ঠানিক এ সফরে পাঠিয়ে সম্পর্কের গভীরতার বার্তা পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।’

আরও পড়ুন:‘অ-শান্তি’নিকেতন: বিশ্বভারতী ইস্যুতে তৃণমূলকে তুলোধনা, কেন্দ্রের দ্বারস্থের আশ্বাস দিলীপের

ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্রটি জানায়, গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা ওই আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। উন্নয়ন সহযোগিতা, দুই দেশের মধ্যে অতীতে চালু থাকা নানা ধরনের সংযুক্তি আবার চালু করা, কোভিড–পরবর্তী সময়ে অর্থনীতিকে চাঙা করা, একসঙ্গে কোভিড মোকাবিলা করা, ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে সহায়তা, যৌথভাবে মুজিব বর্ষ উদযাপন—এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, দুদেশের বিদেশমন্ত্রীদের নেতৃত্বে যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) শেষ বৈঠকটি হয়েছিল গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। মঙ্গলবার শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় ভার্চ্যুয়াল ফরম্যাটে খুব শিগগির বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব ভারত দিয়েছে। কারণ, জেসিসির আয়োজন করা গেলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব কটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যায়। ওটা যেহেতু সমন্বিত একটি কাঠামো, তাই সব বিষয়ে আলোচনা হবে। দুই মন্ত্রীর সুবিধাজনক সময়ে এটির আয়োজন করা হবে। বিশেষ করে ভারতের সহায়তায় পরিচালিত প্রকল্পগুলো কোন অবস্থায় আছে, সেটা ভারত বিস্তারিতভাবে দেখতে চায়।

সূত্রটি জানিয়েছে, আলোচনায় ভারত ব্যবসায়ী, রোগী ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ট্রাভেল বাবল বা এয়ার বাবল চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। এটা হল তৃতীয় কোনও দেশকে যুক্ত না করে দুই দেশের মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনা। ফ্রান্স, জার্মানি, মালদ্বীপ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—এই চার দেশের সঙ্গে ভারত এটি করেছে। কোভিডের কারণে আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধের প্রেক্ষাপটে এটি হয়েছে। এটা হলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও রোগীরা এর সুফল পাবেন। ভারতের এই প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করে এটি চূড়ান্ত করবে।

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভারতের সহযোগিতার প্রসঙ্গটি তুলেছিলেন। তখন বিদেশসচিব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ভারত নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পক্ষে।

আরও পড়ুন:ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের দেশের জন্য একজন ভুল প্রেসিডেন্ট: মিশেল ওবামা

সূত্রটি জানিয়েছে, ভারতের বিদেশ সচিবের ঢাকা সফরটি ছিল অনানুষ্ঠানিক। আর এই সফরে নির্ধারিত কোনও আলোচ্যসূচি ছিল না। তবে গণমাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সূত্রটি জানায়, দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে কোনও অস্বস্তি নেই। তাই ওই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় হয়নি। এমনকি ভারতের সঙ্গে তাঁর প্রতিবেশী দেশগুলোর সাম্প্রতিক সম্পর্কের দোলাচল নিয়েও কোনও কথা হয়নি।

Related Articles

Back to top button
Close