fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মালদায় টোটো বিস্ফোরণকাণ্ডে চারদিন পরে ঘটনাস্থলে নমুনা সংগ্রহে ফরেন্সিক দল

মিল্টন পাল, মালদা: চলন্ত টোটোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার চারদিন পরে ঘটনাস্থলে নমুনা সংগ্রহে আসলেন ফরেন্সিক দল।  ডা: দেবাশীষ সাহার নেতৃত্বে সেন্ট্রাল ফরেনসিক দলের দুই প্রতিনিধি বিশেষজ্ঞ অফিসার বিস্ফোরণকণ্ডে এলাকা তদারকি করেন। আর এদিকে এই ঘটনায় এলাকায় পচা গন্ধ ছড়াচ্ছে বাড়িতে থাকা যাচ্ছে না বলে সরব হয়েছে এলাকার বাসিন্দারা। ঘটনাটি ঘটেছিল রবিবার মালদা শহরের ঘোড়াপীর  ঘোষপাড়া এলাকায়।

নমুনা সংগ্রহ করছে ফরেন্সিক দল

আরও পড়ুন: চিনের সঙ্গ ত্যাগ না করলে বিশ্বের কাছে একঘরে হবে পাকিস্তান, বলল খোদ পাক বিদেশমন্ত্রক

 

উল্লেখ্য বিস্ফোরণে ইসমাইল শেখ (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। বাড়ি কালিয়াচক থানার সুজাপুরের ব্রক্ষ্মত্বর গ্রামে। পেশায় টোটো চালক ছিলেন। বিস্ফোরণের ঘটনায় তার দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ওই টোটোতে বেশ কিছু প্লাইউডের সরঞ্জাম সহ আঠা, রং মজুত ছিল । যেগুলো নিয়ে মালদা শহরের বাগবাড়ি থেকেই মধুঘাট যাচ্ছিলেন ওই টোটো চালক । কিন্তু বাগবাড়ি থেকে ঘোড়াপীর আসার সময় রাজ্য সড়কের ওপরে বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় টোটো চালকের দেহ এবং গাড়িটি । এরপরই  ইংরেজবাজার থানার পুলিশ এসে ওই এলাকাটি ঘিরে রাখে। এই ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় অবশেষে সেন্ট্রাল ফরেনসিক দলের দুই আধিকারিক তদন্তে আসেন।

 

আরও পড়ুন: ওড়িশায় এনকাউন্টারে নিহত ৪ মাওবাদী

 

বিস্ফোরণকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন ধরনের নমুনা সংগ্রহ করেছেন ফরেনসিক দলের বিশেষজ্ঞ আধিকারিকেরা। রবিবার সকাল ১১ টা নাগাদ মালদার পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া সহ জেলা পুলিশের পদস্থ কর্তাদের উপস্থিতিতেই সেন্ট্রাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দুই আধিকারিক এদিন ঘোড়াপীর এলাকার ঘোষপাড়ায় যায়। যেখানে গত বুধবার বিকালে টোটো বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা সাবিত্রী রায় বলেন, ঘটনার অনেকদিন হয়ে গেলেও এলাকা থেকে মাংস পিন্ড ও টোটোটি না সরানোতে গন্ধে থাকা যাচ্ছে না। একদিকে করোনা আতঙ্ক অন্যদিকে বিস্ফোরণের আতঙ্কে বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ প্রশাসনের উচিত দ্রুত ঘটনার নিস্পত্তি করা। ফরেনসিক দলের ওই কর্তারা বিস্ফোরণ স্থলে গিয়ে টোটোর ব্যাটারি, মৃত চালকের শরীরের মাংসপিন্ডের টুকরো সহ বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করেন। সেগুলি প্লাস্টিকে বন্দী করার পাশাপাশি বিস্ফোরণের পর আশেপাশের পরিবেশের কি অবস্থা তৈরি হয়েছিল তারও তদারকি করেন সেন্ট্রাল ফরেনসিক দলের দুই কর্তা । এমনকি পুলিশকর্তাদের মাধ্যমে এলাকার মানুষের কাছ থেকেও বেশ কিছু তথ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

 

 

 

 

 

 

এই ঘটনায় উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, এটা কোনও মতেই ব্যাটারী বিস্ফোরণ হতে পারে না। কোনও বিস্ফোরকের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। আমরা চাই এই ঘটনা কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করা হোক। তাহলে সব পরিস্কার হয়ে যাবে। না হলে এই তদন্তে গড়িমসি হবে। সাংসদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরাও তদন্তের ভার কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে করার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানান, টোটো বিস্ফোরণকাণ্ডে নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছে ব্যাটারি থেকেই এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে। তবে এদিন সেন্ট্রাল ফরেনসিক টিমের দুই বিশেষজ্ঞ অফিসারেরা এসেছেন। তারা বিভিন্ন ধরনের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই বিস্ফোরণের ঘটনা সম্পর্কে বিশদভাবে বলা যাবে। যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে ফরেনসিক দলের কোনও  প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Related Articles

Back to top button
Close