fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দুর্নীতি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আর বরদাস্ত নয়, দুর্নীতি প্রমানিত হলে খাটতে হবে জেল: বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী: জল, রাস্তা দিয়ে ২১শের বিধানসভা নির্বাচন হবে না। আমফান, করোনাকে সামনে রেখে ভোট হবে। এছাড়া দলের কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দ একেবারেই বরদাস্ত করা হবে না। দলবাজি করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার নদীয়ার কল্যাণীর ঋত্বিক সদনে এক দলীয় বৈঠকে দলের নেতৃত্বদের এইভাবে কড়া ভাষায় ধমক দিলেন বনমন্ত্রী তথা নদীয়া জেলার পর্যবেক্ষক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

নদীয়ার কল্যাণী ও রানাঘাট মহকুমার নেতৃত্বদের নিয়ে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন রাজীববাবু। সেখানে দলের বিধায়ক, পঞ্চায়েত প্রধান, অঞ্চল ও ব্লক সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, প্রথম থেকেই সবুজ শিবিরের নেতৃত্বরা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে থাকেন। শুধু তাই নয়, আমফান ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাতের প্রসঙ্গে অনেকেই মন্ত্রীর সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রাজীববাবুর সমূখ্যে এক এক করে প্রকাশ হতে থাকে দলের অন্তকলহের ছবি। যা দেখে রীতিমতো কড়া সমালোচনা করেন মন্ত্রী নিজে।

আমফান ও ভাইরাস নিয়ে শাসক শিবির যে অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে এদিন তা নেতৃত্ব,কর্মী ও সমর্থকদের কথায় জলের ছবির মত পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি, বিজেপির গৃহ সম্পর্ক অভিযান তৃণমূলের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে তা শাসক দলের নেতৃত্বের কথায় স্পষ্ট। জানা গিয়েছে, সব শোনার পর রীতিমত কড়া ভাষায় দলের নেতৃত্বদের কড়া ভাষায় ধমক দেন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি স্পষ্টভাবে জানান, নদীয়ার নেতৃত্বরা কেন এলোমেলো ভাবে চলছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত দলাদলি কেন? সরকারে না থাকলে আপনাদের কেউ মানবে না। এরকম পরিস্থিতি থাকলে নদীয়া জেলার পর্যবেক্ষকের পদ থেকে সরে যাবেন তিনি। দলকে চলতে হবে একটা সুরে, কোনো দলবাজি চলবে না। গোষ্ঠীদ্বন্দ কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না দল।

পাশাপাশি আরো জানা গিয়েছে, শান্তিপুর ও চাকদা বিধানসভার নেতৃত্বদের কাজে তিনি না খুস। রীতিমতো ধমকের সুরে মন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, শান্তিপুর থেকে কেন এত অভিযোগ আসবে? এ কি অত্যাচার চলছে? এতে যদি দল ক্ষতি হয় তাঁর দায় পড়বে আপনাদের ওপর। অন্যায়ভাবে দল না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেরবার ঘাসফুলের পঞ্চায়েত প্রধান থেকে পঞ্চায়েত সদস্য। সে বিষয়েও নাকি কড়া সমালোচনা করেন পর্যবেক্ষক। জানা গিয়েছে, পঞ্চায়েত প্রধানদের সতর্ক করে মন্ত্রী বলেছেন, যদি কোনো প্রধান কিংবা সদস্যর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে তাঁকে জেল খাটতে হবে। এই বেয়াদপি মানা যাবে না। মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে আপনাদের।

 

 

২১শের বিধানসভার নির্বাচনকে পাখির চোখ করে অনেক আগেই বাড়ি বাড়ি পৌঁছে গিয়েছে গেরুয়া শিবির। যা যথেষ্ট মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শাসক দলের কাছে। জানা গিয়েছে, শাসক দলও ২১ শের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এগোতে চাইছে। মন্ত্রী নেতৃত্বদের নির্দেশ দিয়েছেন রাজনীতির প্রেক্ষাপট পাল্টানোর। যে সব নেতৃত্বরা ভাইরাসের ভয়ে বাইরে বেরোচ্ছেন না তাঁদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী জানিয়েছেন, সেই সব নেতৃত্বদের দল করার কোনো প্রয়োজন নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি নাকি এও নির্দেশ দিয়েছেন, এবার পথে নামতে হবে নেতা-কর্মীদের। পৌঁছতে হবে আমজনতার বাড়ির দরজায়। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের পার্থক্য বোঝাতে হবে মানুষকে। কেন্দ্র ও রাজ্যের কাজের খতিয়ান তুলে ধরতে হবে মানুষের সামনে। সূত্রের খবর, বনমন্ত্রী রানাঘাট বিধানসভার বিধায়ক শঙ্কর সিং কে দায়িত্ব দিয়েছেন একটি কমিটি গঠন করার।

বিজেপির পাল্টা স্ট্র্যাটেজি হিসেবে মন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন ২ মাসের মধ্যে দলের উঁচু ও নিচু স্তরের নেতাদের সমস্ত বুথের প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছতে হবে। এবং প্রমাণস্বরূপ সেই ছবি তুলে পাঠাতে হবে ওই কমিটির সদস্যদের। পাশাপাশি প্রতিমাসে অঞ্চলে একটি করে দলীয় বৈঠক করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ব্লক ও টাউন সভাপতিদের মাসে একটি করে বৈঠক করার পরামর্শ দিয়েছেন বনমন্ত্রী।

দলের অন্তকলহে অতিষ্ট সবুজ শিবিরের একাংশ। ক্ষুব্ধ মন্ত্রী নিজেও। সূত্রের খবর, গোষ্ঠীদ্বন্দ মেটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শঙ্কর সিং মহাশয়কে। অবিলম্বে সমস্যা শুনে শঙ্কর বাবুকে তা সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজীববাবু। কিন্তু আদৌ তা মেটানো কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন চিহ্ন রয়েছে।

পাশাপাশি জানা গিয়েছে, দলীয় বৈঠকে লক ডাউন নিয়েও কেন্দ্রকে তুলধোনা করেছেন রাজীববাবু। নেতৃত্বদের তিনি জানিয়েছেন, লকডাউন পুরোপুরি পরিকল্পনাহীন ভাবে ঘোষণা করেছে কেন্দ্র সরকার। বাংলাকে বারবার বঞ্চনার স্বীকার হতে হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে সাহায্য চেয়েছিল তা না দিয়ে শুধু কেন্দ্র থেকে টিম পাঠিয়েছে।

 

 

বৈঠক শেষে রাজীববাবু সাংবাদিকদের বলেন, বিজেপি বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি পৌঁছানোর পাশাপাশি করোনাও ছড়াচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা উচিত। এছাড়া ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাৎ-এর যে অভিযোগ দলের পঞ্চায়েত প্রধান ও সদস্যদের নিয়ে উঠেছে তা সরজমিনে তদন্ত করে দেখা হবে। দোষী প্রমাণিত হলে দল অবশ্যই তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেবে। এই বৈঠকের অন্দরের যে ছবি ফুটে উঠেছে তাতে এটা স্পষ্ট সবুজ শিবির দুর্নীতি, গোষ্ঠীদ্বন্দের পরিসংখ্যান বেশি।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে একজোট হয়ে লড়াই না করলে তৃণমূল কংগ্রেস যে ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে সেই আন্দাজ পেয়েই কি রাজীববাবু দলের নেতৃত্বদের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় দাওয়াই দিলেন? এই প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে দলের অন্দরেই।

Related Articles

Back to top button
Close