fbpx
কলকাতাহেডলাইন

করোনা ভীতি ভুলে শহরজুড়ে ‘ রামনাম’, অকাল দীপাবলী

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: বৃষ্টি কখনও ঝেঁপে আসছে, কখনও ঝিরঝিরে। তারইমধ্যে সন্ধ্যার অন্ধকার নামা মাত্র ঘরে ঘরে তিরতির করে জ্বলে উঠল মাটির প্রদীপ। কেউ বা জ্বালিয়েছেন টুনি বাল্বের আলো, যেন অকাল দীপাবলী। লকডাউনের শহরে গাড়িঘোড়া নেই, পথচলতি মানুষও কম। তারমধ্যে বাতাসে ভেসে আসছে সব ভয় জয় করার সেই অমোঘ পঙক্তি। ‘শ্রীরামচন্দ্র কৃপালু ভজনম/ হরণ ভবভয় দারুনম।’ করোনা ভীতি ভুলে মানুষ গাইছে মৃত্যুঞ্জয়ী সেই পঙক্তি যা যুগযুগ ধরে মানুষকে ভরসা জোগাচ্ছে।

করোনা কাঁটায় ‘ অভিজিৎ মুহূর্তে’ অযোধ্যায় যেতে পারেননি অনেকেই। তারমধ্যে যেমন গেরুয়া শিবিরের হেভিওয়েট নেতৃত্ব রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন ‘ রামভক্ত’ সাধারণ মানুষ। ঘরে বসে টিভিতে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূমিপূজন।  তবে তার আগে এদিন সকাল থেকেই শহরের নানাপ্রান্তে মন্দিরে মন্দিরে হোম, পুজো, যঞ্জের আয়োজন চোখে পড়েছে। বিরাটির গোপাল মন্দিরে পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা মণিকাঞ্চন  পাল জানালেন, ‘ আমাদের সময় নির্ধারিত করা রয়েছে। দুপুর ১২ টায় আগে যঞ্জ শেষ করতে হবে। বহু মানুষ এসেছেন মন্দিরে। অবশ্যই স্বাস্থ্য বিধি মেনে, দূরত্ব বজায় রেখে, মাস্ক পরে , হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে স্যানিটাইজড হয়েই মন্দিরে ঢুকছেন।’ একই রকম ব্যস্ততা চোখে পড়লো কুমোরটুলি জোড়া শিবমন্দিরে, নন্দলাল বোস লেনে হোম, যঞ্জ আয়োজনে। উত্তর থেকে দক্ষিণ একইরকম ‘ রাম আবেগ।’ কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু তাতে এদিনের মূল সুরটা নষ্ট হয়নি।

আরও পড়ুন: পরপর দু’‌বার করোনা আক্রান্ত মেডিক্যাল কলেজের সহকারী সুপার, সতর্কবার্তা চিকিৎসকদের

বিশ্বহিন্দু পরিষদের (দক্ষিণবঙ্গ) প্রধান কার্যালয় শ্যামবাজার, বেহালা, যাদবপুর, সোনারপুর, ডানলপসহ সব শাখাতেই পুজো, যঞ্জ হয়েছে। বিশ্বহিন্দু পরিষদের অখিল ভারতীয় সহ-সম্পাদক শচীন্দ্রনাথ সিংহ, মিডিয়া কনভেনর সৌরীশ মুখোপাধ্যায় জানালেন, রীতি মেনে সব শাখায়, বাড়িতে , বাড়িতে পুজো, যঞ্জের আয়োজন হয়েছে। সব দেখেশুনে মনে হচ্ছে ‘ রামনামে’ করোনা জয় করার মন্ত্র শিখে নিয়েছে শহর।

Related Articles

Back to top button
Close