fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ তড়িৎ তোপদারের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, উত্তেজনা

অলোক কুমার ঘোষ, ব্যারাকপুর: লকডাউনের মধ্যে করোনা আক্রান্ত এলাকায় দুঃস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করতে গিয়ে রাজনৈতিক হামলার শিকার হলেন ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ তড়িৎ তোপদার। ভাঙচুর করা হল তার গাড়ি । এই ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে টিটাগড় পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের এস পি মুখার্জী রোডে। প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ তড়িৎ তোপদারের অভিযোগ, “আমরা প্রত্যেকদিনের মত মঙ্গলবার দুপুরেও ওই এলাকার দুঃস্থদের মধ্যে খাওয়ার বিতরন করছিলাম । ওখানে নর্থ স্টেশন রোড এলাকায় বাঁশের ব্যারিকেড দেওয়া ছিল। কাদের ব্যারিকেড আমি জানতাম না । ওই ব্যারিকেডের পাশে সবে গিয়ে দাঁড়িয়েছি । হঠাৎ একদল দুষ্কৃতী তেড়ে আসল। আমি গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে আসছিলাম, তখন আমার গাড়িতে হামলা করল । গাড়ির মধ্যে ইঁট ছুড়ে গাড়ির কাঁচ ভেঙে দিল। বিজেপি ও তৃণমূল যৌথ ভাবে এই হামলা করেছে ।”

তবে বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতা রাজেশ দাসও । সিপিএম নেতৃত্ব অভিযুক্ত হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে টিটাগড় থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় । পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে । এই ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেন ।

ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন সাংসদ তড়িৎ বরণ তোপদারের গাড়ির ওপর হামলার ঘটনা ঘটলো টিটাগড় পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের এসপি মুখার্জী রোডে । গত প্রায় ৪০ দিন ধরে টিটাগড়ের আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষকে দুপুরের খাবার তুলে দেওয়া হচ্ছে সিপিআইএমের তরফ থেকে । সেই কাজে প্রতিদিনই উপস্থিত থাকেন ব্যারাকপুরে প্রাক্তন সাংসদ তড়িৎ তোপদার । প্রতিদিনের মত মঙ্গলবারও তিনি টিটাগড় রেলস্টেশন সংলগ্ন যেখানে খাওয়ানোর ব্যবস্থা হয়েছে সেখানে যাওয়ার সময় দেখতে পান রাস্তা বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড করা রয়েছে । তখন তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশকর্মীদেরকে জিজ্ঞাসা করেন ব্যারিকেড কি প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে ? তখনই তার গাড়ির ওপর তৃণমূল ও বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ । এই হামলার ঘটনায় চারজন স্থানীয় সিপিআইএম নেতা কর্মী আহত হয়েছেন। প্রাক্তন সাংসদ তড়িৎ তোপদার জানান, ওখানে ব্যারিকেড করা ছিল সেই সময় আমি গিয়ে দাঁড়াই আমাকে দেখে দলের কমরেডরা একটি বাঁশ সরিয়ে এগিয়ে আসে । তখন তাদের ওপর চড়াও হয় কিছু লোক। আমরা তাদের চিনি, তারা বিজেপি এবং তৃণমূল করে । মূল উস্কানিদাতা বিজেপি, সেই সময় আমি পুলিশের সাথে কথা বলছিলাম । আমি গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলাম, তখনই পিছন দিক থেকে এসে ইট মেরে গাড়ির কাঁচ ভেঙে দিল ।”

আরও পড়ুন: শীঘ্রই হায়দ্রাবাদ থেকেই বেরোবে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন: চন্দ্রশেখর রাও

অপরদিকে গোটা ঘটনার সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগ যার বিরুদ্ধে উঠেছে তিনি স্থানীয় টিটাগড় পৌরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের পৌরমাতা সরস্বতী দাসের স্বামী যুব তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রাজেশ দাস । গোটা ঘটনার অভিযোগ অস্বীকার করে রাজেশ দাস বলেন, “এখানে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড করে ঘেরা ছিল । কিন্তু তড়িৎ বরণ তোপদার গাড়ি নিয়ে এসে বাঁশের ব্যারিকেড সরিয়ে জোর কোরে ঢোকার চেষ্টা করেন । এমন পরিস্থিতিতে এলাকার মানুষ ক্ষিপ্ত ছিল । কারন, এখানে একজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাই ওনাকে বারণ করা হয়েছিল এখানে বাইরের লোককে না খাওয়াতে । কারণ বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এসে এখান থেকে খাবার খেয়ে যাচ্ছে । কিন্তু তারা বন্ধ করেনি বহিরাগতদের খাওয়ানো। এটা নিয়ে মানুষের মনের ভেতর ক্ষোভ ছিল । এখন এটা কারা করেছে এটা আমরা বলতে পারব না । কারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্টই ক্ষোভ ছিল তড়িৎ বাবুর বিরুদ্ধে । তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি করছেন সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ।”

অপরদিকে গোটা ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো যোগ নেই বলে জানান বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা । তিনি জানান, “একটা গন্ডগোল হয়েছে আমি শুনেছি । হামলাটা হয়েছে রাজেশ দাসের নেতৃত্বে। যে গাড়ির কাঁচ ভেঙেছে তার নাম রহিত দাস । তার বাবা ভাগীরথী দাস । ভাগীরথী দাস একসময় সিপিএম করতেন এবং তার ছেলে তৃণমূল করে । এটা সম্পূর্ণ সিপিএম আর তৃণমূলের লড়াই এর মধ্যে বিজেপির কোন বিষয় নেই । কেন এতবড় একজন রাজনৈতিক অভিজ্ঞ নেতা অকারণে বিজেপির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করছেন তা আমরা জানিনা ।” ঘটনার পরে এলাকায় এসে পৌঁছান সিপিআইএম নেতাকর্মীরা । তারা টিটাগড় থানার সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন । পরে পুলিশ দোষীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হয় । টিটাগড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এই ঘটনায় । পুলিশ তদন্তে নেমেছে ।

Related Articles

Back to top button
Close