fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সংখ্যালঘু সেলের প্রাক্তন সহ সভাপতিকে অপহরণ! অভিযোগ উঠল খোদ এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে

মিল্টন পাল, মালদা: রাস্তা থেকে তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের প্রাক্তন সহ সভাপতিকে অপহরণের চেষ্টা করল তৃণমূলেরই এক নেতা। ঘটনাটি মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর ২নং ব্লকের ভালুকা রোড কোরিয়ালী এলাকার।তবে স্থানীয়দের চেষ্টায় অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় চারজন অপহরণকারীকে ধরে নেয় স্থানীয়রা। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার সহুরুল বিশ্বাস নামে এক তৃণমূল নেতার গাড়ি। আর একেই ঘিরেই বেঁধেছে রহস্য। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অপহরণের চেষ্টা করা হয় জহুরুল ইসলাম ওরফে শীতল ডাক্তার নামের  স্থানীয় এক হাতুড়ে চিকিৎসককে। তাও তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের সহ সভাপতি পেশায় গ্রামীণ চিকিৎসক জহুরুল ইসলামকে।

জহুরুল ইসলাম আবার তৃণমূল কংগ্রেসের জেলার সংখ্যালঘু সেলের সহ-সভাপতি। কোলিয়ারি গ্রামীণ হাসপাতালের সামনে একটি ছোট্ট ওষুধের দোকান  চালান শীতলবাবু। জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুর ১ টা নাগাদ তার ওষুধের দোকান থেকে অপহরণ করে দুষ্কৃতীর দল। তিনটি বুলেরো ও স্করপিও গাড়িতে ১২- ১৩ জন দুষ্কৃতী এসে অপহরণ করে শীতল বাবুকে। অপহরণ করতে এসে দুষ্কৃতীরা ৬ রাউন্ড গুলি চালায় বলে অভিযোগ। তিনটি গাড়ির মাঝের গাড়িতে শীতল বাবুকে জোর করে চাপিয়ে চম্পট দেয় অপহরণকারীরা। তৎক্ষণাৎ মোবাইল ফোন মারফত অপহরণের ঘটনা প্রচার হয়ে যায় এলাকায়।

           আরও পড়ুন: মেট্রো এবার রবিবারেও

ভালুকা বাজার স্ট্যান্ড এলাকায় অপহরণকারীদের গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করে স্থানীয় মানুষজন । অভিযোগ অপহরণকারীদের প্রথম গাড়ি থেকে স্থানীয় মানুষজনদের লক্ষ করে আবারো বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। কিন্তু স্থানীয় মানুষজন মাঝের বুলেরো গাড়িটি ধরে ফেলতে সমর্থ হয় স্থানীয়রা। সেই গাড়ি করেই শীতল বাবুকে অপহরণ করা হচ্ছিল।

           আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীকে মনে করাতে চাই, আমি কারও রাবার স্ট্যাম্প নই: ধনকর

স্থানীয়দের চেষ্টায় শীতল বাবুকে উদ্ধার করা হয় এবং চারজন অপহরণকারীকে আটক করে আমজনতা । অপহরণকারীদের শেষের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের নয়ানজুলিতে গিয়ে পড়ে । চারজন অপহরণকারী আম জনতার হাতে ধরা পড়লেও বাকি  দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয় । অপহৃত জহুরুল ইসলাম ওরফে শীতলবাবু সহ চারজন অপহরণকারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি কালিয়াচকের দুষ্কৃতী দল এই অপহরণ কাণ্ড চালিয়েছে। তবে কি কারণে অপহরণ তা এখনও জানা যায়নি। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকায় উত্তেজনা।

বিজেপির মালদা জেলার সহ-সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল কিন্তু প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে এটা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। এটা কোনও আর্থিক লেনদেনের ব্যাপারে গোলমাল হয়েছে। যার জেরে এ ধরনের অপহরণের চেষ্টা। তৃণমূল দলটা অপরাধীতে ছেয়ে গেছে।এদের গোলমাল এর জেরে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে।

তৃণমূলের মালদা জেলার মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, এরা আমাদের দলের কেউ না। এদের সঙ্গে দল কোনো ভাবে যুক্ত নয়। এক সময় এরা দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এখন এদের কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায় না সুতরাং দলের দায়িত্ব নেবে না। আইন অনুযায়ী প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।

 

Related Articles

Back to top button
Close