fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ফরমান জারি… তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলারের, করোনা চিকিৎসায় বেলঘড়িয়া হাসপাতালের না যাওয়ার নির্দেশ কর্মরত নার্সকে

ধৃমল দত্ত, ব্যারাকপুর: করোনা রোগীদের চিকিৎসা হচ্ছে যে হাসপাতালে, তিনি সেখানে সেবিকার চাকরি করেন। তাই তার উপস্থিতি নাকি পাড়ার পক্ষে বিপদজনক। সেই কারণে, পানিহাটির ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃনমূল কাউন্সিলর আশীষ দেবরায় ফরমান জারি করলেন করোনা রোগের চিকিৎসায় সেবিকার কাজে যাওয়া চলবে না।
ঘোলা থানা এলাকার ৩ নম্বর আজাদ হিন্দ নগরের বাড়িতে ফিরে, ওই কাউন্সিলর এবং তার সিন্ডিকেটের সদস্যদের এমনই বিরোধিতার মুখে পড়তে হল ঝুমা চ্যাটার্জিকে। সংক্রমণের বিরুদ্ধে ব্যারাকপুর মহকুমা লড়াইয়ের অন্যতম কেন্দ্র বেলঘড়িয়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ঝুমা চ্যাটার্জি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ঝুমা পাড়া থেকে বেরোলেই খবর চলে যাচ্ছে ওই কাউন্সিলর এর কাছে। সেই নিয়ে শঙ্কিত ঝুমার পরিবার।

করোনা চিকিৎসার সেবিকাকে কাজে না যেতে ফতোয়া জারি করল পানিহাটির ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃনমূল কাউন্সিলর আশীষ দেবরায়।করোনার কালো ছায়া গাঢ় হচ্ছে বাংলাতেও। কেন্দ্র সরকার এই মহামারী রুখতে সাধ্যমত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ সহ, সমস্ত পর্যায় স্বাস্থ্যকর্মীরা চেষ্টা চালাচ্ছেন, লকডাউন-জনিত অসুবিধায় পড়া মানুষের পাশে থাকার। এমনকী বয়স্কদের বাড়িতেও খাবার, ঔষধ পৌঁছে দেওয়াই হোক বা দুঃস্থদের দুবেলা গ্রাসাচ্ছাদনের যথাসাধ্য ব্যবস্থা করা বা রাস্তাঘাটের অভুক্ত চতুষ্পদের খাবার জোগান দেওয়া, যে যেভাবে পারেন চেষ্টা করছেন এবং এই সংকটে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

লকডাউন চলাকালীন মানুষের খাদ্য সামগ্রী সংগ্রহ করতে যাতে কোনও অসুবিধা না হয় সেদিকে সরকার সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।
এই মহামারী প্রতিরোধে চিকিৎসক, নার্স, পুলিশকর্মী, এবং প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্তা ব্যক্তিদের প্রতিমুহূর্তে উৎসাহিত করছেন। সরকার পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোম গুলির কাছে আবেদন রেখেছেন করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে কোনও রোগী গেলে তাকে যেন ফিরিয়ে না দেওয়া হয়।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার, পানিহাটি পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর আশীষ দেবরায় করোনা চিকিৎসার এক সেবিকাকে কাজে না যেতে দেওয়ার ফরমান জারি করল। এমনকী ওই সেবিকা (নার্স) যাতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার কাজে সেবা করতে না পারেন সেজন্য তার বাড়ির চারপাশে কাউন্সিলর তার সিন্ডিকেটের লোকজনদের দিয়ে তার বাড়ির ওপর নজরদারি চালাচ্ছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কামারহাটি পৌরসভার অন্তর্গত, বেলঘরিয়ার বেসরকারি হাসপাতালে ১০ বছর ধরে তিনি সেবিকার কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। তার বাড়িতে দুরারোগ্য থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ৯ বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। তাতেও তিনি, করোনা ভাইরাসকে ভয় না পেয়ে, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত কন্যাকে বাড়িতে রেখে, সরকারের আবেদনে সাড়া দিয়ে, তিনি ওই বেসরকারি হাসপাতালে সেবিকার কাজে কোনওরকম ছুতমার্গ না রেখে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

বেলঘরিয়ায় জনৈক ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, খবর চাউর হতেই, পানিহাটি পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর আশীষ দেব রায়, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওই সেবিকার বাড়িতে ছুটে যান দলবল নিয়ে এবং তাকে বলেন যে, “তোমাদের নার্সিংহোমে করোনা রোগীর চিকিৎসা চলছে। তাই তুমি নার্সিং হোমে আর কাজে যাবে না”!

এবং তার সিন্ডিকেট বাহিনীকে ওই আশীষ দেবরায় নির্দেশ দেন, ওই সেবিকার ওপর নজরদারি চালাতে, তখন ওই সিন্ডিকেটের বাহিনীরা কাউন্সিলরের ফতোয়া অতি উৎসাহিত হয়ে, ওই সেবিকার সামনেই কাউন্সিলরকে ভরসা দিয়ে বলে “এ বাড়ি থেকে কাজে বেরোলেই আমরা তোমার কাছে খবর পৌঁছে দেব”। এবং এরপরেই ওই সেবিকা লক্ষ্য করেন, তার বাড়ির চারপাশ দিয়ে প্রাক্তন কাউন্সিলর আশীষ দেবরায়ের পোষ্য, ‘সিন্ডিকেটের পান্ডারা’ নজরদারি চালাচ্ছে-ওই বাড়িতে কে যাচ্ছে, কে আসছে এবং সেবিকা বাড়ি থেকে বাইরে বেরোচ্ছে কি না!

আরও পড়ুন:শিখদের কাছে ক্ষমা চান… পাগড়ি কাণ্ডে মমতাকে বললেন আলি হোসেন

কাউন্সিলরের এমন ভয়ঙ্কর হুঁশিয়ারিতে ওই সেবিকা বিচলিত, উৎকণ্ঠিত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে ওই সেবিকা তার কর্মস্থল, “ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের” কর্তৃপক্ষকে ঘটনাটি জানান, “তাকে পানিহাটি পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর আশীষ দেবরায় তাকে সেবিকার কাজে যেতে নিষেধ করেছে, কারণ “সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে” করোনা মহামারী রোগের চিকিৎসা হচ্ছে”।
সেবিকাকে, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর আশীষ দেবরায়ের, “কাজে না যাওয়ার ফতোয়া জারির” বিষয়ে “ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের” জিএম সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন যে, “তাদের ওই নার্সকে কাজে না আসার হুমকি দেওয়া হয়েছে” ‘তবে তারা কাউন্সিলরের এই হুমকিতে ভয় না পেয়ে যথাসাধ্য চিকিৎসা করবেন’।

Related Articles

Back to top button
Close