fbpx
কলকাতাহেডলাইন

রাত নয় দিনভর ঠাকুর দেখার প্রস্তাব ‘ ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের’

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: করোনা চোখ রাঙালেও বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপূজা হবেই। তাই শুরু হয়ে গিয়েছে কাউন্টডাউন। ঢাকে পড়ে গেল কাঠি। মা আসছেন স্বপরিবারে। তাই পুজো হচ্ছেই।  তবে এবারে হয়তো রাতভর ঠাকুর দেখার বদলে দিনের বেলাতে প্রতিমা দর্শন করতে হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবারই বলে দিয়েছেন, পুজোতো ভালো করেই করতে হবে। প্রশ্ন হলো করোনার এখনও যা বাড়বাড়ন্ত তাতে পুজোর আগে সম্পূর্ণ করোনা মুক্ত হওয়া কি সম্ভব? সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতে বাঙালির সেরা উৎসবের আয়োজন করা যায় তার একটি নির্দেশিকা তৈরি করেছে শহরের দুর্গাপুজো কমিটিগুলির সংগঠন ‘ ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’। স্বাস্থ্যবিধি মেনে, জাঁকজমক না করেও ১৭ দফা নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকা গুলি প্রস্তাবের আকারে দেওয়া হবে প্রশাসনকে।

কি রয়েছে এই প্রস্তাবে?

মণ্ডপ বা প্রতিমার উচ্চতা খুব বেশি হবে না। মণ্ডপের বাইরে থেকেই প্রতিমা দর্শনের ব্যবস্থা। মণ্ডপের ভিতরে চাকচিক্য কমানোর প্রস্তাব। দর্শনার্থীদের মুখে মাস্ক ও হ্যাণ্ড স্যানিটাইজার জরুরি। মণ্ডপের প্রবেশদ্বারে থার্মাল গান রাখা বাধ্যতামূলক। গায়ে জ্বর থাকলে মণ্ডপে ঢোকা যাবে না। একসঙ্গে ২৫ জনের বেশি দর্শনার্থী প্রবেশ করবেন না। শুধু রাতে নয়, সারাদিন ধরেই ঠাকুর দেখার প্রস্তাব। রাতে ঠাকুর দেখার প্রবণতা কমাতে আলোর চাকচিক্য কমানোর প্রস্তাব। প্রতিদিন মণ্ডপ ও প্রতিমা স্যানিটাইজার করতে হবে। মণ্ডপের বাইরে পুজোর স্টলগুলির মধ্যে ৩ থেকে ৪ ফুট দূরত্ব রাখতে হবে। খাবারের স্টলগুলিতে রেডিমেড খাবারের উপর জোর দিতে হবে। বসে খাওয়া চলবে না। ঠাকুরের প্রসাদে কাটা নয় গোটা ফল রাখতে হবে। পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধিপুজো, আরতির সময় শারীরিক দূরত্ব বিধির বজায় রাখতে হবে। মণ্ডপ শিল্পী ও কর্মীদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে কমিটিকেই দায়িত্ব নিতে হবে। এলাকার জীবাণু নাশের দায়িত্বও নিতে হবে পুজো কমিটিগুলোকে ই।

আরও পড়ুন: ‘আমরা দিল্লি অবধি চমকাতে পারি’: দিলীপ ঘোষ

ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের সাধারণ সম্পাদক শাশ্বত বসু বলেছেন, ‘পুরোটাই প্রস্তাবের আকারে মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। পুজো কমিটিগুলোকেও এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।’ তবে বাঙালির প্রাণের উৎসব ঘিরে এইসব নির্দেশিকা কতোটা মানা যাবে সময় বলবে।

এরমক প্রস্তাবই গাইডলাইনে রেখেছে ফোরামে। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কলকাতার পুজোয় যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঠাকুর দেখতে বেরোন, তাঁদের ক্ষেত্রে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা কীভাবে সম্ভব তা নিয়ে সন্দিহান পুজো উদ্যোক্তারাও। আর কলকাতার বহু হেভিওয়েট পুজো রয়েছে, যেখানে এখন মহালয়ার পরদিনই উদ্বোধন হয়ে যায় আর দর্শনার্থীরা ভিড় বাড়াতে থাকেন। সেই ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা মুখের কথা নয়। তাই এই প্রস্তাবগুলির বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে। এখন দেখা যাবে কতটা বাস্তবায়িত হয়।

 

Related Articles

Back to top button
Close