fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সংক্রমণ বেড়ে চলায় পূর্ব বর্ধমানের চার পৌরসভা ও বেশকিছু পঞ্চায়েতে এলাকায় শুরু তিন দিনের লকডাউন

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: লকডাউন জারি করে ও কনটাইনমেন্ট জোনের সংখ্যা বাড়িয়েও পূর্ব বর্ধমান জেলায় রোখা যাচ্ছে না করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি। এবার করোনা আক্রান্ত হলেন পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের সহ সভাধিপতি ।শনিবার রাতে তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে । সহ সভাধিপতি ছাড়াও করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে কালনা মহকুমা হাসপাতালের এক নার্স ও এক আয়ার ।এই রিপোর্ট আসার পরেই নড়ে চড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর ।

করোনা আক্রান্ত সহ সভাধিপতি তথা রাজ্য তৃণমূল নেতা এদিন জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগেই তার দেহ রক্ষীর করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে । তার পরেই বন্ধ করেদেওয়া হয় জেলাপরিষদ অফিস । শনিবার রাতে তাঁরও করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে । তবে কোন উপসর্গ না থাকায় আপাতত হোম আইসোলেশনেই রয়েছেন বলে সহ সভাধিপতি জানিয়েছেন ।

অন্যদিকে কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের গাইনো বিভাগের এক আয়ারও শনিবার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে । এরপরেই তড়িঘড়ি হাসপাতালে শিশু বিভাগ থেকে ছুটি দিয়েদেওয়া হয় শিশু ও প্রশুতিদের । আয়ার পাশাপাশি করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে কালনা মহকুমা হাসপাতালের এসএনসিইউ বিভাগে কর্মরত এক নার্সের । এরপরেই এসএনসিইউ বিভাগে ভর্তি থাকা শিশুদের অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে জীবানুনাশক স্প্রে করা হয় । করোনা আক্রান্ত নার্সকে চিকিৎসার জন্য কোভিড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ।এছাড়াও জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত এক নার্সের স্বামীরও করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন জামালপুর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে ,জেলায় করোনা আক্রান্তের গ্রাফ দিনের পর দিন উর্ধ্বমুখী হচ্ছে। জেলায় এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৫৮২ জন । মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের ।শুধুমাত্র শনিবার রাত পর্যন্ত জেলায় ৩৯ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে । আক্রান্তের সংখ্যা এই ভাবে বেড়ে চলায় প্রশাসন ২৬ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত টানা তিনদিন জেলার বর্ধমান , মেমারি , কালনা ও কাটোয়া পৌরসভা এলাকায় ও বেশকিছু পঞ্চায়েত এলাকায় লকডাউন জারি  করেছে। যে যে পঞ্চায়েত এলাকায় লকডাউন জারি করা হয়েছে তারমধ্যে রয়েছে বর্ধমান ১ নম্বর ব্লকের রায়ান ১, সরাইটিকর ও বেলকাস পঞ্চায়েত এলাকা। পাশাপাশি লকডাউন চলবে পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের নসরতপুর, সমুদ্রগড় ও শ্রীরামপুর পঞ্চায়েত এলাকা ।এছাড়াও জেলা প্রশাসন মেমারির ১ ব্লকের দেবীপুর পঞ্চায়েত এলাকায় ২৬ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত লক ডাউন জারি করেছে । পাশাপাশি ২৯ জুলাই রাজ্য জুড়ে হবে লকডাউন ।

এদিন মেমারি, কাটোয়া ও কালনা পুর এলাকা এবং জেলার আটটি পঞ্চায়েত এলাকায় লকডাউন পালনে কোন শিথিলতা রাখেনি প্রশাসন । মেমারি পৌরসভা এলাকায় সমস্ত দোকান বাজার এমনকি সবজি বাজারও এদিধ ছিল বন্ধ । পাশাপাশি পথ ঘাটও ছিল শুনসান । সারাদিন এলাকায় টহল দিয়ে বেড়ায় পুলিশ । একই দৃশ্য এদিন ধরা পড়েছে অন্য তিন পৌরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকায় ।সাধারণ মানুষ লকডাউন পালনে আগ্রহ দেখানোয় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি শিথিল হবে আশাবাদী প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর ।

 

রবিবার রাতে আসা রিপোর্টে জানা গিয়েছে এদিন জেলায় নতুন করে ৩৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে । মৃত্যু হয়েছে আরও ১ জনের । ওই মৃত ব্যক্তির বাড়ি মন্তেশ্বর থানার কুলুট এলাকায় । এইনিয়ে জেলায় মৃত্যু হল ১১ জনের । আক্রান্ত সংখ্যা দাঁড়ালো ৬১৯ জন । চিকিৎসাধীন ২৬৩ জন ।

Related Articles

Back to top button
Close