fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পুজোর মধ্যেই করোনায় প্রাণ গেল রাজ্যের আরও ৪ চিকিৎসক ও এক পুলিশকর্মীর

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোয় করোনা সংক্রমণের সুনামি-সতর্কতা আগেই দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু তাদের অনুরোধের পরেও সংক্রমণের উর্ধ্বগতি এবং মৃত্যু মিছিল থামানো যাচ্ছে না। উলটে চলতি বছরের দুর্গাপুজোতেও ৪ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে হারাল রাজ্য। শুধু তাই নয়, নবমীর দিন মৃত্যু হয়েছে এক পুলিশকর্মীরও।

চিকিৎসকরা সংক্রমণের সতর্কতা দেওয়ার পরে হাসপাতালে ২০০০ বেড বাড়িয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। কিন্তু দুর্গাপুজো বাতিল করার পথে হাঁটতে চায়নি রাজ্য প্রশাসন। শেষ মুহূর্তে হাইকোর্ট কিছু নিয়মকানুন বেঁধে দিলেও দূর থেকে প্রতিমাদর্শন ছাড়া বাকি সব কিছুর নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন অনেকেই। কিছু শতাংশ মানুষ নিয়ম মানলেও বাকিদের এই উৎসব কার্যত পরিণত হয়েছে যেন উৎ’শবে’।

এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত এ রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩ জন। পুজোর আবহের মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বর্ধমানের মেমারিতে ৭৫ বছর বয়সী চিকিৎসক দিলীপ ভট্টাচার্যের। এছাড়াও মারা গিয়েছেন চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক ৮০ বছরের সুজন কুমার মিত্র, চিকিৎসক অমল রায় এবং ৬৫ বছর বয়সী দিলীপ বিশ্বাস। চিকিৎসক দিলীপ বিশ্বাস হাসপাতালে সিউড়ি জেলা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অষ্টমীর দিন তাঁর মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, সিউড়ি জেলা হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন চিকিৎসক অমল রায়। করোনার উপসর্গ ধরা পড়ায় বোলপুরের কোভিড হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। তাঁর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। কিছুটা সুস্থ হওয়ায় তাঁকে মেদিনীপুরের বাড়িতে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। বাড়িতে অক্সিজেন সাপোর্টে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। মঙ্গলবার ভোরে অমল রায়ের মৃত্যু হয়।

ওয়েস্টবেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের ডঃ রাজীব পান্ডে বলেন, “প্রাণ বাঁচানোর কাজে যুক্ত চিকিৎসক-চিকিৎসাকর্মীরাও প্রাণ হারাচ্ছেন।এর পরেও মানুষ চোখ বন্ধ করে রাখলে কিছু করার নেই।” অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিসেস ডক্টরসের রাজ্য সম্পাদক মানস গুমটা বলেন, “কেউ কেউ দায়িত্ব পালন করলেও অনেকেই উদাসীন। চিকিৎসকেরা আপ্রাণ লড়লেও তাঁদেরও ক্লান্তি আছে। এখনও সতর্ক না হলে কঠিন নিয়তিকে মেনে নিতে হবে।’

অন্যদিকে, নবমীর রাতে কোভিডের জেরে মৃত্যু হয়েছে কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল মনোজ কুমার সিংয়েরও। কলকাতা পুলিসের পোর্ট ডিভিশনে কর্মরত মনোজবাবু সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু নবমীর সকালে সেই লড়াই থেমে যায়। এখনও পর্যন্ত কলকাতা পুলিশেরও ১৬ জন পুলিশকর্মীর করোনা ভাইরাস সংক্রমণের জেরে মৃত্যু হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close