fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

ম্যাক্রোকে যারা প্রেসিডেন্ট করেছেন, তিনি তাদের অপমান করছেন: ইরান

তেহেরান, (সংবাদ সংস্থা): একদিকে বিশ্বজুড়ে চলছে হজরত মুহাম্মদের জন্ম দিবস পালন, অন্যদিকে কার্টুন বিতর্ক ঘিরে উত্তেজনা। চলমান এই বিতর্ক প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ”মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.) অসম্মান করা মানে সব মুসলিমকে অসম্মান করা।” পাশাপাশি তিনি আরোও বলেন যে সমস্ত মানুষ ম্যাক্রো কে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেছেন, তিনিিি তার সমস্ত মানুষদের অপমান করছেন।

একইসঙ্গে, প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলেন, “মূল্যবোধের প্রতি সম্মান এবং নৈতিকতার বিবেচনা করেই বাক-স্বাধীনতা প্রকাশ করতে হবে। কেননা, পশ্চিমাদের বুঝতে হবে যে, বিশ্বের মুসলিম এবং স্বাধীনতা প্রেমীরা মহানবীকে (সা.) ভালোবাসেন। তাকে অপমান করা মানে সব মুসলিমকে অপমান করা। মহানবীকে (সা.) অপমান মানে সব নবীকে অপমান করা, মানবিক মূল্যবোধকে অপমান করা। হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন মানবতার পথ প্রদর্শক। তাই প্রত্যেক ইউরোপীয় মহানবীর (সা.) কাছে ঋণী।”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ফ্রান্সের এক স্কুল শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে হযরত মুহাম্মদের বিতর্কিত কার্টুন প্রদর্শন করেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১৬ অক্টোবর, ১৮ বছরের এক কিশোর অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষককে হত্যা করেন। কিন্তু, ফ্রান্সের সরকার এই ঘটনার বিচারের পরিবর্তে ওই স্কুল শিক্ষককে সর্বোচ্চ মরণোত্তর পদকে ভূষিত করেন এবং বিভিন্ন ভবনের গায়ে হযরত মুহাম্মদের বিতর্কিত কার্টুনের প্রদর্শন শুরু করে। এমনকি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই কার্টুনের প্রদর্শনের ব্যবস্থার নির্দেশ দেন। ফরাসি পত্রিকা শার্লি এবদোও আবারও হজরত মুহাম্মদের অবমাননাকর কার্টুনগুলি পুনর্মুদ্রণ করে। আর ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানান, তার দেশে এ ধরনের কার্টুন প্রকাশ অব্যাহত থাকবে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের এমন ইসলাম অবমাননাকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্ব ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। বিভিন্ন মুসলিম দেশ ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছে এবং ম্যাক্রোঁকে তার ইসলাম-বিদ্বেষী বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এরপরেই প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর অবস্থানের সমালোচনা করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বুধবার বলেছেন, “ফরাসি প্রেসিডেন্ট চরম বোকামি করেছেন।” তিনি ফরাসি তরুণদের উদ্দেশ করে বলেন, “আপনাদের প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস করুন যে, “তিনি কেন বাক-স্বাধীনতার নামে মহানবীকে (সা.) অসম্মানের ঘটনায় সমর্থন করলেন। তিনি বলেন, বাক স্বাধীনতা মানে কি অন্য কাউকে অপমান করা?” তিনি আরও বলেন, “এটা কি চরম বোকামি নয়? ফ্রান্সের যেসব মানুষ ম্যাক্রোঁকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করেছেন তিনি তার এই বোকামি কাজের মাধ্যমে তাদের অপমান করেছেন।”

Related Articles

Back to top button
Close