fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আইসিডিএস সেন্টারে চাল বিতরণে কারচুপি, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে বেদম প্রহার

মিল্টন পাল, মালদা: আইসিডিএস সেন্টারে চাল বিতরণে কারচুপি। ঘটনায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে বেদম প্রহার দিল গ্রামবাসীরা। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পিপলা গ্রামের ঘটনা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ প্রতিবারই ওজনে কারচুপি করে এ ধরনের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। এদিন চাল বিলির সময় ওজনে কারচুপি ধরে ফেলে গ্রামবাসীরা। শুরু হয় গণধোলাই। যদিও ওই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে ঘটনার তদন্তে নেমেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা পুলিশ ও জেলা প্রশাসন।

জানা গিয়েছে, করোনা আবহে আইসিডিএস সেন্টার গুলি থেকে চাল, ডাল ও আলু দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। সেই মত পিপলা গ্রামপঞ্চায়েতের আইসিডিএস সেন্টারেও খাদ্য সমগ্রী দেওয়া শুরু হয় অঙ্গওয়ারী কর্মী অঞ্জলী দাসের তত্বাবোধনে। কিন্তু গ্রামবাসীরা দেখতে পায় পরিবার পিছু দুই কেজি চাল, ৫০০গ্রাম ডাল ও এক কেজি আলু দেওয়ার কথা। সেখানে গ্রামবাসীরা সঠিক পরিমাণ খাদ্য সমগ্রী পাচ্ছে না।

আরও পড়ুন:আইএস জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার চিকিৎসক

গ্রামবাসীদের অভিযোগ যে সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে তা অত্যান্ত নিম্নমানের। যা খেলে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়বে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানালেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকী কোন অফিসার আসলে তাদের সামনে মুখ খুলতে দিচ্ছেন না ওই কর্মীরা বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। এরপরই আইসিডিএস সেন্টারের কম সামগ্রী দেওয়ার অভিযোগ তুলে গ্রামের বাসিন্দারা অঙ্গনারী কেন্দ্র ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

বেদম মারধর শুরু করে অঙ্গওয়াড়ি কর্মী অঞ্জলি দাসকে। ঘটনার খবর পেয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনে।
গ্রামের বাসিন্দা শকুন্তলা সাহার অভিযোগ, প্রথম থেকেই আমাদের সন্দেহ হয়েছিল শিশুদের ওজন করে খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হলেও তা অনেক কম। যেখানে চার কিলো আলু পাওয়ার কথা সেখানে সাড়ে তিন কিলো আলু আছে। পচা আলু দেওয়া হচ্ছে তা খাওয়া যাচ্ছে না। শিশুগুলো কি পচা আলু খাবে! শিশুরা কি এই পচা আলু খেয়ে মরবে। এবার ৩০০ গ্রাম করে ডাল, ২ কিলোগ্রাম চাল, ১ কেজি করে ছোলা দিচ্ছে। সেখানে আমি ছোলা পেলাম এক কিলো ৬০০ গ্রাম। চালও আমি ৫০০ গ্রাম কম পেয়েছি। বাধ্য হয়ে আমরা কম্পিউটার ওজন মেশিন নিয়ে আসলাম। সেখানে দেখছি সব কিছুতেই কম রয়েছে ওজনের। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা বলছেন ওজনের মেশিনের ওজন কম করা রয়েছে। তাহলে অন্যান্য দোকানদাররা কি কম জিনিস দিচ্ছেন।আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি অবিলম্বে শিশুদের খাদ্য সামগ্রী সঠিক পরিমাণ দিতে হবে।

গ্রামের আরেক বাসিন্দা মামণি দাস বলেন, যে সময় তৈরি করা খাবার দেওয়া হত তার সঠিক পরিমাণে দিত না অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা।এমনকি কখনও কখনও অঙ্গনওয়াড়ি দিদিরা না আসলে শিশুদের হাতে কাঁচা ডিম দেওয়া হত।দেরি করে কোন শিশু আসলে তাদেরকে খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হত না।যখন থেকে কাঁচা খাদ্যসামগ্রী দেওয়া শুরু হয়েছে তখন থেকেই এই কর্মীরা জিনিসপত্র দিতে কারচুপি করছে। পোকা ধরা চাল, পচা আলু দেওয়া হচ্ছে তাও আবার ওজনে কম। সেই কারণেই এদিন আমরা বিক্ষোভ দেখিয়েছে।

আরও পড়ুন:শেখ হাসিনার সঙ্গে বিদেশ সচিবের এক ঘন্টার বৈঠক

বিজেপির হরিশ্চন্দ্রপুর মন্ডল সভাপতি রুপেশ আগরওয়ালা বলেন, সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই যতগুলি অঙ্গওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে সেখানে গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে সঠিক জিনিস না পেয়ে। বেশিরভাগ অঙ্গওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে যে পরিমাণ জিনিসপত্র দেওয়া কথা ঘোষণা করেছেন তা দেওয়া হচ্ছে না। আর যেটুকু দেওয়া হচ্ছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের। এরাজ্যে তৃণমূল সরকার যতদিন থাকবে, যতদিন এই স্বৈরাচারী সরকার শাসন করবে ততদিন এই রকম দুর্নীতি হবে। আর এই রকমই জনসাধারণের বিক্ষোভ করবে। রেশন দুর্নীতি থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী বিতরণী লুট চালাচ্ছে তৃণমূল। আমরা এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামব গ্রামবাসীদের নিয়ে।

ওই এলাকার তৃণমূল নেতা সামিরউদ্দিন রহমান বলেন, ঘটনার যদি বাস্তবায়িত থাকে তাহলে প্রশাসনকে জানাব। সিডিপিও ও বিডিও কে জানাব যদি ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয় তাহলে তাদের যাতে উপযুক্ত শাস্তি হয় সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাব।
হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের বিডিও অনির্বাণ বসু বলেন, পিপলা এলাকায় আইসিডিএস কর্মীদের হেনস্তা করার অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে।ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close