fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, গ্ৰেফতার কলকাতা পুলিশের কর্মী

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলে চাকরি দেওয়ার নামে যুবক যুবতীদের ঠকানোর অভিযোগে গ্ৰেফতার হলেন কলকাতা পুলিশের এক কর্মী ও তার ছেলে। ধৃতরা হলেন বিলাস চন্দ্র দত্ত ও শোভরাজ দত্ত। বিলাশ বর্তমানে কলকাতার হেয়ারস্ট্রিট থানায় কর্মরত। ধৃতদের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানার বড় গোপীনাথপুর গ্রামে। খণ্ডঘোষ থানার তোড়কোনায় রয়েছে ধৃতদের চাকরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি। খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ বুধবার রাতে সেখান থেকেই তাদের গ্রেফতার করেছে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে বেশকিছু নথিপত্র পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ বৃহষ্পতিবার ধৃতদের পেশ করে বর্ধমান আদালতে। তদন্তের প্রয়োজনে তদন্তকারী অফিসার দুই ধৃতকেই ৭ দিন নিজেদের হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান। সিজেএম রতন কুমার গুপ্তা ধৃতদের ৪ দিন পুলিশী হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন প্রতারিত তরুণী রিয়া কর্মকার।

পুলিশ জানিয়েছে, চাকরি দেওয়ার নামে যুবক যুবতীদের ঠকানোর ঘটনা বিষয়ে রায়না থানার পলাশন গ্রাম নিবাসী রিয়া কর্মকার খণ্ডঘোষ থানায় অভিযোগ জানান। লিখিত অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তিনি তোড়কোনায় বিলাস ও তার ছেলের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভরতি হন। ভরতির ফি বাবদ তারা তাঁর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেয়।

এছাড়াও তাঁর শিক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত শংসাপত্রের আসল কপি তারা জমা নিয়েনেয়। রিয়া বলেন , বিলাস নিজেকে পুলিশের বড় অফিসার বলে পরিচয় দিয়ে তাঁকে বলে তার উপর মহলে যোগাযোগ রয়েছে। নির্দেশমতো টাকা দিলে বিলাশ তাকে সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দেবে বলে আশ্বাস দেয় ।রিয়ার আরও অভিযোগ প্রশিক্ষণ সংস্থার হস্টেলে থাকাকালীন বিলাসের ছেলে শোভরাজ তাঁকে বিভিন্ন সময় অফিসে ডেকে পাঠাত। ডেকে পাঠিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বলত।

রিয়া বলেন, তাতে তিনি রাজি হন নি। সেই কারণে সে তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়। বাধ্য হয়ে তিনি হস্টেল ছাড়েন। এরপর তিনি জমা রাখা শংসাপত্র ফেরত চান। কিন্তে তা ফেরত না দিয়ে তাঁকে জানানো হয় শংসাপত্র পেতে হলে ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে। তরুণী রিয়া পুলিশকে জানিয়েছেন , বিলাস ও তার ছেলে শোভরাজ আরও অনেকের কাছ থেকে শিক্ষাগত শংসাপত্র জমা নিয়ে চাপ সৃষ্টি করে টাকা আদায়করে সেই টাকা আত্মসাৎ করেছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জেনেছে, ধৃতরা চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত। অনেককে তারা ঠকিয়েছে। দুই ধৃতকে হেপাজতে নিয়ে পুলিশ চক্রের বাকি সদস্যদের নাগাল পেতে চাইছে।

Related Articles

Back to top button
Close