fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

স্বাস্থ্য দফতরে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, গ্রেফতার এক স্কুল শিক্ষক সহ চক্রের পাণ্ডা

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: স্বাস্থ্য দফতরে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা কাণ্ডে এবার গ্রেফতার হল চক্রের মূল পাণ্ডা ও এক স্কুল শিক্ষক। পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার পুলিশ মঙ্গলবার দুপুরে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বর থেকে প্রতারণা চক্রের পাণ্ডা ও তার স্কুল শিক্ষক সাগরেদকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের ব্যবহৃত দামি একটি চার চাকার গাড়ি ও দুটি মোবাইল ফোন পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে।  ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ফোন দুটি পুলিশ কলকাতায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুলিশ মনে করছে ফরেনসিক পরীক্ষায় দুটি মোবাইল ফোন থেকে আরও একাধিক প্রতারিত ও প্রেরকের হদিশ মিলবে।

আরও পড়ুন:রাস্তাঘাট শুনশান, করোনা আবহে রাজ্যের নির্দেশে চলছে লকডাউন

স্বাস্থ্য দফতরে চাকরি করে দেওয়ার নামে নাসিরুদ্দিন মল্লিক নামে এক যুবকের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় রায়নার মাছখান্ডা নিবাসী প্রতারক নজমুল হক মল্লিক। খণ্ডঘোষের উদয়কৃষ্ণপুর নিবাসী নাসিরুদ্দিন ঘটনার কথা জানিয়ে রায়না থানায় অভিযোগ দায়ের করে। সেই  অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নামতেই জালে ধরা পড়ে নাজমুল সহ একের পর এক প্রতারক।এই নিয়ে পুলিশের জালে  ৫ প্রতারক  ধরা পড়ল।  তদন্তে নেমে পুলিশ কর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা চক্রের জাল বহুদূর বিস্তৃত রয়েছে।

ওই প্রতারক চক্রের দ্বারা ৫০ জনেরও বেশি যুবক প্রাতারিত হয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণা কাণ্ডে মঙ্গলবার সকালে গ্রেফতার হয়েছিল নাজমুল হক মল্লিক ও তার  সঙ্গী হাসিবুল রহমান সেখ ও রামপ্রসাদ সরকারকে। এদের মধ্যে হাসিবুলের বাড়ি বর্ধমান শহরের বাজে প্রতাপপুরে। মাধবডিহি থানার কাইতিতে রামপ্রসাদের বাড়ি।  তাদের গ্রেফতার করে হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে এই প্রতারণা কাণ্ডের অন্যতম পাণ্ডা কলকাতার ডানলপ নিবাসী দেবরঞ্জন বসু। তার ডেরা বর্ধমান হাসপাতাল চত্বর।

এই ঘটনা জানার পর মঙ্গলবার দুপুরেই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে হানাদেয় রায়না থানার পুলিশ। হাসপাতাল চত্ত্বর থেকে পুলিশ দেবরঞ্জন বসু ও তাঁর সাগরেদ শঙ্করচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে।

আরও পড়ুন:বলিউডে ‘ফেক ফলোয়ার্স’ চক্র! মুম্বাই পুলিশের প্রশ্নের মুখে দীপিকা-প্রিয়াঙ্কারা

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে , গলসির একটি স্কুলে শিক্ষকতা করে শঙ্করচন্দ্র। তার বাড়ি  বর্ধমান  শহরের  রথতলা আমবাগান এলাকায়। এই দুই ধৃতের কাছ থেকে বেশ কয়েক জনের  বায়োডাটাও উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে ।

প্রতারণার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ বুধবার এই দুই ধৃতকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে। তদন্তকারি অফিসার তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতদের ৭ দিন পুলিশি হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান। ভারপ্রাপ্ত সিজেএম রঞ্জনি কাশ্যপ দুই ধৃতকে ৪ দিন পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পুরো চক্রটিকে ধরার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে রায়না থানার পুলিশ ।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close