fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সরকারি দফতরে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণা, ধৃত ২

মিল্টন পাল, মালদা: সরকারি দফতরে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। ধৃতেরা বেশ কিছু যুবক-যুবতীর কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা নিয়ে রেল ও স্বাস্থ্য দফতরের গ্রুপ ‘ডি’ বিভাগের ভুয়ো জয়েনিং লেটারও দিয়েছিল বলে অভিযোগ। ঘটনার অভিযোগ পেয়ে শনিবার গভীর রাতে মানিকচক থানার খয়েরতলা এলাকার বাড়ি থেকে ওই দুই প্রতারককে গ্রেফতার করেছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, সরকারি চাকরি টোপ দিয়ে প্রতারণা, সরকারি চাকরির নিযুক্তি পত্রের অপব্যবহার সহ বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। রবিবার ধৃতদের মালদা আদালতের মাধ্যমে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে তদন্তকারি পুলিশ কর্তারা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই জনের নাম রাজকুমার মন্ডল (৩৫), মহম্মদ সাদ্দাম হোসেন (৩২)। বাড়ি মানিকচক থানার খয়েরতলা গ্রামে। সম্প্রতি ইংরেজবাজার শহরের কোন একটি এলাকায় চাকরি দেওয়ার নাম করে দুই যুবকের কাছ থেকে সাত লক্ষ ও ১২ লক্ষ টাকা আদায় করে অভিযুক্ত ওই দুইজন। যারা চাকরি পাওয়ার জন্য টাকা দিয়েছিলেন, তাদের নাম জাহিরুল আমিন এবং মনজুর আলম। এদের বাড়ি মোথাবাড়ি থানা এলাকায়। পরে ওই দুই যুবক প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন। এরপরই ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ এই প্রতারণা চক্রের একটি রেকেটের জালিয়াতির কথা জানতে পারে।

আরও পড়ুন:করোনা! ব্রিটিশ সরকারের ঋণ ছাড়াল ২ ট্রিলিয়ন পাউন্ড

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ আরও জানান, গ্রুপ ‘ডি’ বিভাগে চাকরি দেওয়ার নাম করে ধৃত রাজকুমার মন্ডল এবং সাদ্দাম হোসেন কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ জনের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছে। টাকা আদায়ের পরিমাণ প্রায় ৫৬ লক্ষ টাকা। এমনকি র গ্রুপ ‘ডি’ বিভাগের জয়েনিং লেটার পর্যন্ত কয়েক জনকে দেওয়া হয়। আর সেই জয়েনিং লেটার পাওয়ার পরই বিষয়টি ভুয়ো বলে জানতে পারেন প্রতারিত হওয়া বেশ কিছু যুবক-যুবতীরা। এরপরই অভিযোগ ইংরেজবাজার থানায় দায়ের হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করেছে।

আরও জানা গিয়েছে, বিভিন্ন ভাবে নিখুঁত প্রিন্টিং-এর মাধ্যমে রেল ও স্বাস্থ্য দপ্তরের জয়েনিং লেটার ছাপিয়েছিল।দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি পাওয়া নিয়ে প্রতারণা চক্র চালিয়ে যাচ্ছিল। কারোর কাছ থেকে সাত লক্ষ, কারোর কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ , আবার কারোর কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আগাম নিয়েছে চাকরি দেওয়ার টোপ দিয়ে। পরে প্রতারণার বিষয়টি জানাজানি হতেই অভিযুক্ত দুজন গা ঢাকা দেয়।

পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন, রেল ও স্বাস্থ্য দফতরের গ্রুপ ‘ডি’তে চাকরি দেওয়ার প্রতারণার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এর মাথায়কে রয়েছে বা চক্র কারা চালাচ্ছে তার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close