fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মেদিনীপুরে বিজেপি নেত্রীর উদ্যোগে চালু বিনামূল্যে টোটো-অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা

শান্তনু অধিকারী, সবং: পথের দু’দিকে তখন সবুজ সংকেতের হাতছানি। উপস্থিত কার্যকর্তারা উড়িয়ে দিচ্ছেন তাঁদের হাতের সবুজ পতাকা। তারই মধ্য দিয়ে পিপিই কীট পরা দুই টোটোচালক শুরু করলেন তাঁদের টোটো নিয়ে পথচলা। এভাবেই চালু হয়ে গেল মেদিনীপুর শহরের ৮নং ওয়ার্ডের গরীবগুর্বো, সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যের দু-দু’খানা টোটো অ্যাম্বুলেন্স। মেদিনীপুর সেবামঞ্চের পক্ষ থেকে বিজেপিনেত্রী কুহেলী দত্তের উদ্যোগে মেদিনীপুর শহরের মধ্যে শুরু হল এই পরিষেবা।

 

আজ সকাল ন’টা নাগাদ ৮নং ওয়ার্ডের সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির সংলগ্ন এলাকায় সবুজ পতাকা নাড়িয়ে টোটো-অ্যাম্বুলেন্স দুটির সূচনা করা হয়। এদিনের সূচনা পর্বে কুহেলী দত্ত ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেএমটিইউসিয়ের রাজ্য সহসভাপতি শঙ্কর দাস, জেলাসভাপতি পবিত্র সাউ -সহ কার্তিক করণ, মামণি গাঁতাইৎ, বিশ্বজিৎ দাস, চিত্রা দাস, আলো সাহা, অশোক পাল প্রমুখ জেলার কার্যকর্তারা।

 

কুহেলীদেবী জানান, এই লকডাউনের মধ্যে অনেক গরীব ও সাধারণ মানুষ রীতিমতো বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে যাঁদের নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। ‘সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁদের মোটরবাইক নেই। অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অন্য কোনও গাড়ি ভাড়া করবার ক্ষমতা নেই। লকডাউনের কারণে টোটো কিংবা রিক্সাও মেলে না। ফলে হাসপাতালে, নার্সিংহোমে পৌঁছাতে খুবই সমস্যার মধ্যে পড়েন তাঁরা। কোথাও কোনও পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য যাওয়ার প্রয়োজন হলেও সমস্যায় পড়েন। এই টোটো-অ্যাম্বুলেন্স দুটি তাঁদের জন্য’, বললেন তিনি।

 

এই টোটো-অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে সেবামঞ্চের পক্ষ থেকে তা ঘোষণাও করা হয়েছে। ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের যোগাযোগের জন্য কুহেলীদেবী নিজের মোবাইল নাম্বারটিও জানিয়ে রেখেছেন। প্রয়োজনে ফোন করলেই যোগাযোগকারীর দুয়ারে পৌঁছে যাবে টোটো-অ্যাম্বুলেন্স। আপাতত এই পরিষেবার যাবতীয় ব্যয়ভার কুহেলীদেবী নিজেই বহন করবেন।

 

কুহেলীদেবীর এই উদ্যোগকে অভিনন্দন জানিয়ে বিজেপির শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সহসভাপতি শঙ্কর দাস বলেন, ‘নিজের আখের গোছানোর রাজনীতিরই চল এখন। তারমধ্যে এমন এক মহান উদ্যোগ― সত্যিই নজিরবিহীন। অন্যান্য নেতানেত্রীদের কাছে রীতিমতো শিক্ষণীয়।’ আর এমন একটি পরিষেবা পেয়ে কী বলছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা? আজকের সূচনাপর্বে উপস্থিত ছিলেন যাঁরা, কুহেলীদেবীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘খুব সমস্যায় ছিলাম। বাড়ির অসুস্থ পরিজনদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে ভীষণ বিপাকে পড়তাম। এখন থেকে আর সমস্যায় পড়তে হবে না।’ সবাইকে আশ্বস্ত করে কুহেলীদেবীর ঘোষণা, রং না দেখে সব মানুষের জন্য বিনামূল্যের এই পরিষেবাটি লকডাউনের পরবর্তী সময়েও চালু থাকবে।

Related Articles

Back to top button
Close