fbpx
অন্যান্যগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

স্বাধীনতা: এক আত্মত্যাগের সরণি

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট মধ্যরাত্রির সেই মাহেন্দ্রক্ষণে নবজাতক রাষ্ট্রের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু বলেছিলেন, “নির্ধারিত দিনটি সমাগত, নিয়তির নির্ধারিত এই দিন, এবং দীর্ঘ নিদ্রা ও সংগ্রামের শেষে ভারত আবার উঠে দাঁড়িয়েছে — জাগ্রত, সপ্রাণ, মুক্ত এবং স্বাধীন ভারত।’’

আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও এক নতুন ভারতের কথা বলেছেন। যে নতুন ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন এক বাঙালী সন্ন্যাসী। বলেছিলেন – “নতুন ভারত বেরুক। বেরুক লাঙল ধরে, চাষার কুটির ভেদ করে, জেলে মালা মুচি মেথরের ঝুপড়ির মধ্য হতে। বেরুক মুদির দোকান থেকে, ভুনাওয়ালার উনুনের পাশ থেকে। বেরুক কারখানা থেকে, হাট থেকে, বাজার থেকে। বেরুক ঝোড় জঙ্গল পাহাড় পর্বত থেকে। এরা সহস্র সহস্র বৎসর অত্যাচার সয়েছে, নীরবে সয়েছে – তাতে পেয়েছে অপূর্ব সহিষ্ণুতা। সনাতন দুঃখ ভোগ করেছে- তাতে পেয়েছে অটল জীবনীশক্তি।…”

এই নতুন ভারতের ভাবনা আর অন্য কিছু নয়, বিস্মৃত অতীত গৌরবের অনুচিন্তনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের সোপান নির্মাণ। ৭৪তম স্বাধীনতা দিবসের পূণ্যদিনে এই মহতী কার্যেই ব্রতী হল শ্রী শ্রী সীতারামদাস ওঙ্কারনাথ সংস্কৃত শিক্ষা সংসদ। ১৫ আগস্ট সকালে জগতের মঙ্গলকামনায় দেশমাতৃকার পুজোর পর বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে উত্তোলিত হয় জাতীয় পতাকা। সংসদ সভাপতি নাসার প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওমপ্রকাশ পাণ্ডের অনুপ্রেরণায় ও সংসদের সহ সভাপতি মিসেস রত্না মিত্রের উদ্যোগে বিকেলে শহিদ স্মরণে একটি অনলাইন সভার আয়োজন করা হয়। বিষয় ছিল – “স্বাধীনতা: এক আত্মত্যাগের সরণি”। সভার আহ্বায়ক- সাধনচন্দ্র মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক শুভদীপ মুখোপাধ্যায় এবং সঞ্চালক ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক শ্রী গোপাল চক্রবর্তী।

আরও পড়ুন:শেখ হাসিনার সঙ্গে বিদেশ সচিবের এক ঘন্টার বৈঠক

সংসদ অধ্যাপক পণ্ডিত রাজকুমার মিশ্রের কণ্ঠে বৈদিক মঙ্গলাচরণের মধ্য দিয়ে সভার সূচনা হয়৷ উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন শ্রী ময়ূখ মুখোপাধ্যায়। সংসদ সম্পাদিকা অধ্যাপিকা সুখদা গঙ্গোপাধ্যায় স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন। সংস্কৃত ভাষায় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান শহিদ মাতঙ্গিনী হাজরা কলেজের অধ্যাপক ড. দেবব্রত বেরা। প্রধান অতিথির ভাষণে বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক দেবনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ” আমরা প্রত্যেকে যদি আমাদের নাগরিক কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে চলতে পারি, তার থেকে বড় স্বাধীনতা দিবস পালন আর হয় না।”

অনুষ্ঠানে সম্মাননীয় অতিথির পদ অলঙ্কৃত করেন শ্রী জগন্নাথ সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক হরিহর হোতা। তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন ধারার ওপর একটি তথ্যসমৃদ্ধ ভাষণ প্রদান করেন।

স্বাধীনতা দিবসীয় ভাষণ প্রদান করার জন্য উপস্থিত ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন নুরুল হাসান অধ্যাপক, বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ড. অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সহজাত বাগ্মিতার সঙ্গেই স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতবর্ষের সনাতন চিন্তাধারার প্রভাবের নির্মোহ বিশ্লেষণ করেন। বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী মহুয়া চট্টোপাধ্যায়ের অসাধারণ একটি আবৃত্তি অনুষ্ঠানটিতে আলাদা মাত্রা এনে দেয়।

অনিবার্য কারণবশতঃ অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চশিক্ষা দফতরের যুগ্মসচিব শুভেন্দু কুমার কুণ্ডু উপস্থিত থাকতে না পারলেও অনুষ্ঠানের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করে একটি বার্তা পাঠান।
সভাপতির ভাষণে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শিবরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় পূর্ববর্তী বক্তাদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে এনে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ধর্ম ও দর্শনের প্রভাব সম্পর্কে একটি সুন্দর আলোচনা করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংসদ অধ্যাপক পার্থপ্রতিম চক্রবর্তী।

আরও পড়ুন:ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের দেশের জন্য একজন ভুল প্রেসিডেন্ট: মিশেল ওবামা

সংসদ রেজিস্টার ড. সুরেশ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর স্বভাবসিদ্ধ কাব্যিক ভাষায় শহিদ স্মরণ ও ধন্যবাদ জ্ঞাপণ করেন। বিনয় – বাদল – দীনেশ, মাস্টারদা সূর্য সেন প্রমুখ বিপ্লবীদের আত্মবলিদানের কথা সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করে তিনি বলেন – “বর্তমান যুগসঙ্কটে মৈত্রী ও করুণাই আমাদের মানসিক স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করবে, হৃদয়কে করবে শান্ত ও সমাহিত। আর একমাত্র সমাহিত চিত্তই অপরের মনে শান্তির বাতাবরণ আনতে সক্ষম। অহিংসার মাধ্যমে জয় করতে হবে হিংসাকে। তাহলেই এই পৃথিবী হয়ে উঠবে আমাদের স্বপ্নের স্বর্গরাজ্য।” জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি হয়।

Related Articles

Back to top button
Close