fbpx
আন্তর্জাতিকহেডলাইন

উত্তেজনা কমাতে মিশরে ফ্রান্সের বিদেশ মন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদদাতা, কায়রো : ‘ইসলামকে তাঁরা সর্বোচ্চ সম্মান করেন।’ মিশর সফরে গিয়ে এমনই মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের বিদেশ মন্ত্রী জনিভ ল্য দ্রিয়ঁ। এপ্রসঙ্গে কূটনৈতিক মহলের মত, কার্টুন বিতর্কের ফ্রান্সের বিরুদ্ধে মুসলিম-প্রধান দেশগুলির বিক্ষোভ এবং ফরাসি পন্য বয়কটের ডাক দেওয়ার পরেই রবিবার এই সফর করেছেন ফ্রান্সের বিদেশ মন্ত্রী। কেননা, জনিভ ল্য দ্রিয়ঁর লক্ষ্য, কার্টুন বিতর্কে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে আনা এবং আস্থার পরিবেশ গড়ে তোলা।
সূত্রের খবর, এদিন মিশরের প্রেসিডেন্ট এবং বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন ফ্রান্সের বিদেশ মন্ত্রী। দুই বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকের পর ল্য দ্রিয়ঁ বলেছেন, ‘ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁর মন্ত্যব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। আমাদের সন্ত্রাসবাদী হুমকি দেয়া হচ্ছে। শুধু আমাদের দেশেই নয়, অন্যত্রও উন্মাদনা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। ফলে সকলের সামনে লড়াইটা একই।’ একইসঙ্গে ফ্রান্সের বিদেশ মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নীতি হলো, ইসলামকে সর্বোচ্চ সম্মান দেখানো। মহানবী হযরত মুহাম্মদকে সর্বোচ্চ সম্মান দেখানো। মুসলিমরাও পুরোপুরি ফ্রান্সের সমাজের অংশ।’
শুধু তাই নয়, মিশরের আল আজহার মসজিদের ইমাম শেখ আহমেদ আল-তায়েব ও আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়েরও প্রধানের সঙ্গেও এদিন দেখা করেন ফ্রান্সের বিদেশ মন্ত্রী। কেননা, গত মাসে মাক্রোঁর মন্তব্যকে ইমাম ‘বর্ণবাদী ও ঘৃণাপূর্ণ’ বলে জানিয়েছিলেন। তবে, এদিনও ফ্রান্সের বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পরে আল আজহার মসজিদের ইমাম শেখ আহমেদ আল-তায়েব বলেছেন, ‘মহানবী হজরত মুহাম্মদকে অপমান করা মানা যেতে পারে না। যে ব্যক্তি তাঁকে অপমান করবে, আমরা তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যাব। আমরা আমাদের বাকি জীবন সেই কাজেই লাগাব।’
একইসঙ্গে তিনি ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করে বলেছেন, ‘ইসলামে সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই। আল আজহার দুইশ কোটি মুসলিমের প্রতিনিধিত্ব করে। আমি বলছি, জঙ্গিরা আমাদের প্রতিনিধি নয়। তাদের কাজের জন্য আমরা দায়ী নই।’ আর এদিকে ফ্রান্সের বিদেশ মন্ত্রী বলেছেন, ‘ইমামের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা হয়েছে। ইমাম বলেছেন, যেখানে মতের মিল আছে, সেখানে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের বাক-স্বাধীনতা বোঝানোর নামে হজরত মুহাম্মদের ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন প্রদর্শন করেন ফ্রান্সের এক স্কুল শিক্ষক। এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই শিক্ষককে আবদুল্লাখ আনজোরভ নামে এক যুবক হত্যা করে। পাল্টা হিসাবে পুলিশও আনজোরভকে গুলি করে হত্যা করে। এই ঘটনার পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হজরত মুহাম্মদের ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশকে বাক-স্বাধীনতা বলে মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে তিনি ফ্রান্সে এ ধরনের কার্টুন প্রকাশ অব্যাহত থাকবে বলে জানান।  সেইসঙ্গে ফ্রান্সের দু’টি সরকারি ভবনে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় করে সেই বিতর্কিত ছবি দেখানো হয়।এরপরেই, ফ্রান্সের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে বিশ্বজুড়ে। যার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন মিশর সফরে গেছেন ফ্রান্সের বিদেশ মন্ত্রী।

Related Articles

Back to top button
Close