fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ডেবরা হাসপাতালের সম্মুখে বারংবার দুর্ঘটনা, স্পিড ব্রেকারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা ব্লকের মধ্যে সবচেয়ে জন বহুল ব্যস্ততম এলাকা ডেবরা চক হইতে বালিচক রেল গেট ক্রসিং। এই দীর্ঘ পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে থানা, স্কুল, কলেজ, ব্যাংক, সরকারি অফিস, সহ নানা দফতরে মানুষ প্রয়োজন। অপ্রয়োজনে যে যার কাজে ক্রমাগত ছুটে চলেছে। ডেবরা বাজার ছুঁয়ে উত্তরে মুম্বই -কলকাতা (NH-6), দক্ষিণে ব্যস্ততম রেল স্টেশন বালিচক। এই রাস্তা আবার রাজ্য সড়ক যা দিঘা পর্যন্ত বিস্তৃত। কাজেই এই রাস্তার ওপর দিয়ে দিনরাত ব্যস্ততা লেগেই আছে যানবাহনের, রাস্তা সুমসৃণ হওয়ায় গাড়ির গতিও হয়েছে লিমিট ছাড়া। তাই মাঝে মধ্যেই ছোটোখাটো দুর্ঘটনাতো ঘটছেই অতীতে অনেক ভয়াবহ অ্যাক্সিডেন্টে প্রাণ হারিয়েছে বহু মানুষ। দিন কয়েক পূর্বে রাস্তার বিভিন্ন জনবহুল স্থান যেমন ডেবরা থানা, ডেবরা কলেজ, ও এই রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলিতে পি. ডব্লিউ. ডি বা সড়ক দফতরের তত্ত্বাবধানে স্পীড ব্রেকার লাগানো হয়েছে। তবুও দুর্ঘটনা এড়ানো যাচ্ছে না।

সূত্রে খবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে বেলা ডেবরা হাসপাতালের সম্মুখে একটি টোটোর সঙ্গে উল্টো দিক থেকে আসা একটি চারচাকা কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, টোটোতে বসে থাকা এক মহিলা আরোহী গভীর চোট পেয়ে জ্ঞান হারালে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বরাত জোরে টোটো চালকের মাথায় আঘাত লাগলেও প্রাণে বেঁচে যান। টোটোটি পুরো দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে যায়। অ্যাক্সিডেন্টের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ধাক্কাতে প্রাইভেট কারের টায়ার ব্লাস্ট করে। জানা যায় প্রাইভেট কারে যিনি ড্রাইভ করছিলেন উনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন, যদিও ওদের প্রাথমিক চিকিৎসা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ডেবরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কপিকল গাড়ির সাহায্যে ওই প্রাইভেট কারটি থানায় নিয়ে যায়।

এই নিয়ে বিশেষ করে ডেবরা হাসপাতালের সম্মুখে বালিচক থেকে আগত হাসপাতালের প্রথম গেটের সামনে ব্যারিকেট সহ রোজ ডেবরা থানার সিভিক ভলেন্টিয়ার ডিউটিরত অবস্থায় ট্রাফিক সামাল দিতে সক্ষম হলেও উল্টো (ডেবরা চক) দিক থেকে আসা গাড়ির গতিবেগ কার্যত বেশিই। ফলে একদিকে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি, অপর দিকে দ্রুততায় আসার ভুলে দুর্ঘটনা হামেশাই ঘটছে।
হাসপাতালের দুই দিকের দুই গেটে স্পিড ব্রেকার বা ব্যারিকেট থাকলে মধ্যবর্তী এলাকায়, যা এখন রীতিমত বিপদজনক ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, পারাপারের ক্ষেত্রে ঘটে যাচ্ছে ছোট বড় দুর্ঘটনা, তা অনেকটাই কমবে বলে জানান বেশ কিছু স্থানীয় দোকানদার।

আরও পড়ুন:করোনাবিধি মেনে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে খুলছে রাজ্যের সমস্ত জঙ্গল, খুশির হাওয়া পর্যটকমহলে

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “হাসপাতালের সম্মুখেই অনেকবার রোগীর আত্মীয়রা রাস্তা পেরিয়ে ওষুধ বা দরকারি কোনও জিনিস আনতে গিয়ে দুর্ঘটনায় কবলিত হয়েছে। এইটুকুর মধ্যে (ডেবরা – বালিচক) রোডে বেশ বড়সড় দুর্ঘটনায় মারাও গেছেন অনেকে, এখন রোডের গুরুত্বপূর্ণ কিছু জায়গায় স্পিড ব্রেকার লাগানো হয়েছে ঠিকই কিন্তু হাসপাতালের দুই পাশের দুই গেটে রাস্তার ওপর স্পিড ব্রেকার লাগানোর আবশ্যিক প্রয়োজন। একদিকে ব্যারিকেট দিয়ে দুর্ঘটনা আটকানো মোটেই সম্ভব নয়”।
প্রায়শই হাসপাতালে সম্মুখেই দুর্ঘটনা ঘটাকে কেন্দ্র করে এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কার্যকরী দফতর বা স্থানীয় প্রশাসন যাতে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাঁর দাবি জানিয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close