fbpx
অসমখেলাফুটবলহেডলাইন

ফুটবল-ক্রিকেটের পাশাপাশি ভলিবলেও সফল করিমগঞ্জের ফ্রন্টিয়ার ক্লাব

জাকির হুসেন, করিমগঞ্জ: আজ থেকে বত্রিশ বছর আগে মাইজডিহি-সেটেলমেন্ট অঞ্চলের ক্রীড়া পাগল একাংশ যুবক এক জোট হয়ে ফ্রন্টিয়ার ক্লাব ( Frontier Club) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল খেলাধুলার বিকাশ। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ফ্রন্টিয়ার ক্লাবের সভাপতি ছিলেন খগেন্দ্র মোহন নাথ। আর সম্পাদক ছিলেন ছিলেন দুলাল পাল। আর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শঙ্কর চৌধুরী, অরুণ পাল, শক্তি দত্ত, সুবীর দেবরায় প্রমুখ। পরবর্তীতে আশুতোষ দে, ফাল্গুনী চক্রবর্তী ও বাপ্পী চৌধুরী সম্পাদক ছিলেন। ক্লাবটির প্রতিষ্ঠার সেই সময় আরও অনেক লোকের অবদান নিশ্চিত করে বলা যায়। তবে সেই নাম গুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে। স্থায়ী ক্লাব গৃহের অভাবে অনেক নথি সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব হয় না বলেই এমনটা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রোগীদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ বাড়ায় স্যানিটাইজ করা হচ্ছে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল

খেলাধুলার প্রতি কর্মকর্তাদের ঝোঁকের জন্য বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় মাঠে ফ্রন্টিয়ার ক্লাবের উপস্থিতি ছিল। এখন অবশ্য ভাল ভাবেই রয়েছে। ফুটবল, ক্রিকেট ও ভলিবল এই তিনটি টিম ইভেন্টে নিয়মিত দল রাখার জন্য চেষ্টা তদ্বির চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান, সম্পাদক সৈয়দ জাহান হুসেন। অতীতে অবশ্য বিভিন্ন সময় দল গঠন অনিয়মিত হয়ে পড়লেও এখন তারা ধারাবাহিকতা রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

ক্লাবের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল- ২০১৫-১৬ মরশুমে করিমগঞ্জ এ ডিভিশনে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়। অসম ফুটবল সংস্থা সেই বছর ক্লাব কাপ ফরম্যাট পরিবর্তন করে। ফ্রন্টিয়ার ক্লাব এএফএর নতুন ফরম্যাট খেলতে সম্মতিও জানায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের সুযোগ হয়নি। ২০১৪-১৫ মরশুমেও তারা এ ডিভিশন খেতাব দখল করে। আর, ২০১৭ সালে হয় রানার্স। স্থানীয় বাঙালিরা ছাড়াও জেলার মিজোরাম সীমান্তের অনেক উপজাতি ফুটবলার এই ক্লাবের হয়ে করিমগঞ্জের (Karimganj ) মাঠে সাফল্য পেয়েছেন। বিভিন্ন সময় ফ্রন্টিয়ার ক্লাবের হয়ে খেলা উল্লেখযোগ্য ফুটবলাররা হলেন- সারিমুল হক, বিলাল আহমদ, আব্দুল মুকিত, লাল নেই সাকাচাপ, রাজন আলি, স্যামুয়েল খাসিয়া, জাবির হুসেন, সাহিনুর হুসেন চৌধুরী, থমাস সাকাচাপ, মনোজিৎ সিংহ বরুয়া, আজমির হুসেন, কবির আহমদ চৌধুরী, লালডান লিয়ান সাকাচাপ, কামরুল হক, রিলা হালাম, মুক্তা হুসেন, সৈয়দ সাবিন আহমদ, আমজাদ হুসেন চৌধুরী, তৌসিফ ইকবাল লস্কর, আব্দুল হাসিব, ডিমন পৈদ্দং, তাজেল হুসেন, দিলোয়ার হুসেন, আব্দুল বাসিত, গুলজার হুসেন লস্কর, বিজেন পর্তু খাসিয়া, লালজনবুল সাকাচাপ, স্টার্লিং প্রমুখ।

ক্রিকেটের ইতিহাসে তারা ১৯৯২ সালে বি ডিভিশন থেকে এ ডিভিশনের ছাড়পত্র আদায় করে। এরপর তারা এ ডিভিশনে খেলেছে। ক্লাব দলটিকে এ ডিভিশনে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সুকান্ত দেব, রাজু সিং, বাপ্পী চৌধুরী, রমাকান্ত রায়, ডন দাস প্রমুখ। এ ডিভিশনে তারা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি। আবার অবনমন বি ডিভিশন নামিয়েছে দলটিকে।

ফ্রন্টিয়ার ক্লাবের হয়ে বিভিন্ন সময় যারা খেলেছেন। তারা ভবেস সনোয়াল ও দীপ সনোয়াল দুই জন পি আই সহ আজিজুর রহমান, সৈয়দ জাহান হুসেন, আফজল হুসেন, প্রয়াত অভিজিৎ ধর, আব্দুস সালাম, দীপঙ্কর আদিত্য, বিদ্যুৎজ্যোতি বিশ্বাস, শুভ্রজ্যোতি বিশ্বাস, অমিতাভ দাস, তাহমিদ সারোয়ার চৌধুরী, মনজুর আহমদ চৌধুরী, বিশাল সিংহ, সৈয়দ জাহেদ হুসেন, কিশোর নাথ, মিঠু সিংহ, ইমদাদ হুসেন খান, বিশ্বদীপ ভট্টাচার্য, আসজদ আহমদ চৌধুরী, শাহনওয়াজ আহমদ প্রমুখ।

ফ্রন্টিয়ার ক্লাবের ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি ভলিবল কোর্টেও তাদের পরিচিতি রয়েছে। করিমগঞ্জ ডিএসএর ক্লাব ভলিবল প্রতিযোগিতায় দুই বার তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০১২ সালে খেতাব জয়ের ফলে আন্তঃজেলা আসরে জেলা দলের অধিকাংশ সদস্য ছিলেন ফ্রন্টিয়ার ক্লাবের। আসর অনুষ্ঠিত হয়েছিল হাজো’তে। সেবার সীমান্ত জেলা দলের গ্রুপে উত্তর পূর্ব রেল, নগাঁও ও লখিমপুরের মতো শক্তিশালী দলগুলো ছিল। স্বাভাবিক ভাবেই মোকাবেলা কঠিন হয়। বিভিন্ন সময়ে তাদের হয়ে যারা খেলেছেন ইস্তিয়াক আহমদ চৌধুরী, নাজিম আহমদ চৌধুরী, জাহিদ আহমদ চৌধুরী, আলি হুসেন, সৈয়দ জাহান হুসেন প্রমুখ।

এদিকে, ফ্রন্টিয়ার ক্লাবের যাত্রাপথে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অজয় ধর, রফিক আহমদ চৌধুরী প্রমুখ। রফিক আহমদ চৌধুরী করিমগঞ্জ ডি এস;এ-র কার্যকরী সমিতির সদস্য হওয়ার পর থেকে ফ্রন্টিয়ার ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন প্রশান্ত পাল। রফিক আহমদ বর্তমান কার্যকালে সহ সভাপতি হিসেবে করিমগঞ্জ ডি এস এ-র গ্ৰাউন্ড অ্যান্ড স্টেডিয়াম শাখার চেয়ারম্যান।

ফ্রন্টিয়ার ক্লাবের বর্তমান সম্পাদক সৈয়দ জাহান হুসেন এই প্রতিবেদককে ( Zakir Hossain) জানান,’আমরা ক্লাবের ফুটবল, ক্রিকেট ও ভলিবল দল নিয়মিত খেলানোর চেষ্টা করি। তিনটি খেলায় তিনটি দলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা খুব কঠিন। তবুও সকলের সহযোগিতায় আজ পর্যন্ত ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।’ ফ্রন্টিয়ার ক্লাবের শুরুর দিকে আমাদের মাইজডিহি সেটেলমেন্ট এরিয়ায় আরও কয়েকটি ক্লাব সংগঠন ছিল। বিদ্যার্থী সংঘ, বয়েজ ইউনিটি, ইয়ং স্টুডেন্ট ক্লাব ইত্যাদি।
এতদিনের পুরাতন ক্লাব নিজস্ব কোনও অফিস গৃহ নেই। সম্পাদক সৈয়দ জাহান বলেন, ‘যখন যিনি সম্পাদক হন, তাঁর বাড়িই অঘোষিত ভাবে আমাদের অফিস হিসেবে কাজ চলে আসছে।’ তবে ক্লাব গৃহের একটা স্থায়ী জায়গা হোক সেটা চাইছেন ক্লাবের অধিকাংশ সদস্য।

ক্লাবের প্রাক্তন সম্পাদক বাপ্পি চৌধুরী যুগশঙ্খের ক্রীড়া সম্পাদক তাজ উদ্দিন কে জানান, ‘দীর্ঘদিন আমি সম্পাদক ছিলাম। কিন্তু ২০০৩ সালে করিমগঞ্জ ডি এস এ-র সাধারণ সভাকে (এ জি এম) কেন্দ্র করে এক বিতর্কে সভাপতি অজয় ধর ও আমি পদত্যাগ করি। ১৯৯৮ সালে ক্লাব দল এ ডিভিশনের ছাড়পত্র আদায় করে। ওই বছর অধিকাংশ ম্যাচে আমি অধিনায়ক ছিলাম। কিন্তু শেষ ম্যাচে আমি আমার বাবার অসুস্থতার জন্য খেলিনি। রমাকান্ত রায় অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।’

Related Articles

Back to top button
Close