fbpx
অফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পাড়ার আড্ডায় শুধুই কখন বাজে এগারোটা

দেবজ্যোতি কর্মকার, করিমপুর, নদিয়াঃ পাড়ার একটি বড় গাছের ছায়ায় বসে গল্প করছিল তিন বন্ধু। হঠাৎ এক বন্ধু আরেকজনকে বলে বসল, ”আরে এগারোটা বেজে গেছে তো! শিগগির বাড়ি চল।” দ্বিতীয় বন্ধুর চোখ তখন আকাশে। ”দ্যাখ তো ড্রোন এদিকে আসছে নাকি?” অপর বন্ধু বলে বসে, ”তোর ঘড়ি পাঁচ মিনিট ফাস্ট। এখনও এগারোটা বাজেনি।আরেকটু দাঁড়িয়ে যা”।

 

লকডাউনের দীর্ঘ সময় তিন বন্ধুর দেখা হয় খুব কম। এই ক’দিন আগেও সারাদিন যারা আড্ডা দিতে চলে যেত নদিয়ার করিমপুর বাজারে কোনও চায়ের দোকানে কিংবা বাজার সংলগ্ন রেগুলেটেড মার্কেট চত্বরে। তারাই এখন সকাল ৯টার পর পাড়ার একটি গাছের ছায়ায় ঘন্টা খানেক গল্প করতে আসে। যদিও দূরত্ব বিধি তারা সঠিকভাবেই বজায় রাখে। তবুও ঘড়িতে এগারোটা কখন বাজবে সেদিকেই সবার চোখ আটকে থাকে। গল্পের ফাঁকে ফাঁকে তাই বারবার ফিরে আসে ” কী রে আর কতক্ষণ?”।

 

হ্যাঁ করিমপুরের পাড়ায় পাড়ায় বিভিন্ন স্থানে যেখানে কয়েকজন বন্ধু মিলে আড্ডা দিতে আসে অথবা বাড়িতে সারাদিন একঘেয়েমি থেকে একটু বিরাম নিতে খোলা রাস্তায় ঘুরতে আসে তাদের সকলের চোখ সকাল এগারোটার জন্য অপেক্ষায় থাকে। না হলে খেতে হবে পুলিশের বকুনি এমনকি পিঠে পড়তেও পারে লাঠি!

 

করিমপুর থানা পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে এমনই কড়া নজরদারি চলছে সমগ্র করিমপুর থানা এলাকায়। বেলা এগারোটা বাজলেই কয়েকটি ডাক্তারখানা এবং ফার্মেসি ছাড়া প্রায় সমস্ত দোকান বাজারই বন্ধ। আবার শুধু এগারোটা পর্যন্ত নয়, তার আগেও কেউ অযথা বাজারে ঘোরাঘুরি করলে তাদের বিরুদ্ধে বেশ কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন করিমপুর থানার পুলিশ প্রশাসন। শুধু তাই নয় ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমেও চলছে নজরদারি। সকাল থেকেই করিমপুর বাজার এলাকায় চলছে পুলিশের টহল। আসলে অপেক্ষাকৃত ছোট এলাকায় করিমপুরের বাজারে বেশ ভিড় হয়। এত ছোট বাজারে জনঘনত্বের কারণে দূরত্ব বিধি মেনে চলাও কঠিন। তাই সকলের স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই পুলিশি তৎপরতা চোখে পড়ছে। নিয়ম করে প্রতিদিন পাড়ায় পাড়ায় ঢুকে পড়ছে পুলিশের গাড়ি। এমনিতেই পাড়ায় আড্ডার অভিযোগ ছিলই। পুলিশের এই নজরদারির ফলে বেকায়দায় পড়েছে পাড়ার আড্ডা দেওয়া যুবকেরা। যাদের ঘরে আবদ্ধ রাখা দূরহ বলে মনে করছিলেন তাদেরই অভিভাবকেরা, তারাই এখন ঘরে চলে আসছে ঠিক এগারোটায়!

 

এমন কাজটাই সফল করতে পেরেছে করিমপুর থানা। বাজারে নজরদারি ছাড়াও পাড়ায় প্রতিদিন বেশ কয়েকবার করে টহল দেওয়ার ফলও মিলেছে হাতে নাতে। এগারোটা বাজলেই তাই সমস্ত রাস্তা শুনশান। অদ্ভুত নিঃস্তব্ধতা। আড্ডা দিতে না পারা যুবকেরা অখুশি হলেও বয়স্ক মানুষেরা পুলিশের এই উদ্যোগে বেশ খুশি।

Related Articles

Back to top button
Close