fbpx
গুরুত্বপূর্ণব্লগহেডলাইন

হিংসামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ গড়াই হবে গান্ধীজীর প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধাজ্ঞাপন

দিলীপ ঘোষ: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে সব থকে বেশি চর্চিত নাম হল মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। ব্রিটিশ ভারতের পোরবন্দর দেশীয় রাজ্যে(বর্তমান গুজরাত রাজ্যের) হিন্দু বৈশ্য পরিবারে ২ অক্টোবর ১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন গান্ধীজী। সে এক যুগ সন্ধিক্ষণ। গান্ধীজীর জন্মের কয়েক বছর আগেই জন্মগ্রহণ করেছেন ঠাকুর পরিবারের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান রবীন্দ্রনাথ আর যুগাবতার শ্রীরামকৃষ্ণের ভাবী শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ। আর তাঁর জন্মের দু’দশকের মধ্যেই জন্ম নেবেন বাংলার সর্বকালের বীর সন্তান সুভাষচন্দ্র। গান্ধীজীর পিতা ও পিতৃব্য কিন্তু সাধারণ রাজকর্মচারী ছিলেন না, তাঁরা তাঁদের রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে আসীন ছিলেন।

গান্ধীজীর পিতা করমচাঁদ গান্ধী ছিলেন পোরবন্দরের রাজার দেওয়ান। পরবর্তীকালে তিনি সুরাত রাজ্যের দেওয়ান হন আর গান্ধীজীর কাকা পোরবন্দরের দেওয়ানের দায়িত্ব নেন। এখানে উল্লেখযোগ্যভাবে বলা যায় যে গান্ধীজীর পিতা বা কাকা কেউই কিন্তু তৎকালীন সময়ে ব্রিটিশ সরকার দ্বারা প্রযোজিত পশ্চিমী কায়দার শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন না, তাঁদের শিক্ষাদীক্ষা সনাতন ভারতীয় প্রথায়। গান্ধীজীর মা পুতলিবাঈ ছিলেন প্রণামী বৈষ্ণব গোষ্ঠীর সদস্য। আর সেই কারণে মায়ের ধার্মিক প্রভাবে শৈশব থেকেই অহিংসা, আত্মশুদ্ধি, নিরামিষ ভোজন এবং সাম্প্রদায়িক সহিষ্ণুতার বীজ বপিত হয় গান্ধীজীর মনে। ১৮৮৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়েসে তাঁর বাবা মায়ের পছন্দ করা পাত্রী কস্তুরবা মাখাঞ্জির সঙ্গে গান্ধীজীর বিবাহ হয়। গুজরাতের ভবনগরে সামালদাস কলেজথেকে ম্যাট্রিকুলেসন পরীক্ষা পাস করে গান্ধীজী মাত্র ১৮ বছর বয়েসে ১৮৮৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ব্যারিস্টারি পড়বার জন্য যাত্রা করেন লন্ডনের উদ্দেশ্যে।

লন্ডনে ব্যারিস্টারি পড়া শেষ করে গান্ধীজী আব্দুল্লাহ অ্যান্ড সন্সের আইনজীবী হিসাবে দক্ষিণ আফ্রিকা পাড়ি দেন। শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের দখলে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকায় গান্ধীজী এমন কিছু ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন যার থেকে তাঁর মনে জন্ম নেয় সত্যাগ্রহের। তিনি কৃষ্ণাঙ্গ ও ভারতীয়দের উপর অত্যাচার প্রত্যক্ষ করেন ও তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের ভোটাধিকার ছিল না। এর প্রতিবাদ করে ভারতীয়দের ভোটাধিকারের দাবিতে তিনি বিল উত্থাপন করেন। বিলের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণরূপে সাধিত না হলেও এই ঘটনা ভারতীয়দের মধ্যে অধিকারবোধের উন্মেষ ঘটায়। ১৮৯৪ সালে গান্ধীজী নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন ও রাজনৈতিক ভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার ভারতীয়দের সংগঠিত করেন।

১৮৯৭ সালে একদল শ্বেতাঙ্গ হামলাকারী তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করলেও গান্ধীজী প্রাণে বেঁচে যান। তাঁর অহিংস ভাবধারায় বশবর্তী হয়ে গান্ধীজী কিন্তু এই ঘটনার জন্য কোনও সম্প্রদায়কে সামগ্রিক ভাবে দায়ী করা থেকে বিরত থাকেন। ১৯০৬ সালে ট্রান্সভাল সরকার ভারতীয় উপনিবেশের বাসিন্দাদের নিবন্ধনে বাধ্য করানোর জন্য আইন পাস করলে ১১ সেপ্টেম্বর জোহানেসবার্গে গান্ধীজী এই আইন বর্জনের ডাক দেন। দীর্ঘ সাত বছরব্যাপী আন্দোলন চলাকালীন ভারতীয়দের উপর দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার অকথ্য অত্যাচার চালায়। তবে শান্তিকামী ভারতীয়দের উপর এমন নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষের মধ্যে থেকে প্রতিবাদের সূচনা হয়। এই গণ আন্দোলনের চাপে পরে দক্ষিণ আফ্রিকার তৎকালীন জেনারেল ইয়ান ক্রিশ্চিয়ান স্মুথ গান্ধীজীর সঙ্গে সমঝোতার আসনে বসতে বাধ্য হন। আর এই ঘটনার মাধ্যমে গান্ধীজীর সত্যাগ্রহের আদর্শ প্রতিষ্ঠা পায়।

১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে ৯ জানুয়ারি গান্ধীজী ভারতে ফিরে আসেন। এই দিনটিকে বর্তমানে ‘প্রবাসী ভারতীয় দিবস’ হিসাবে পালন করা হয়। তৎকালীন জাতীয় কংগ্রেস নেতা গোপাল কৃষ্ণ গোখলের মাধ্যমে ভারতীয় রাজনীতির সঙ্গে পরিচয় হয় গান্ধীজীর। ১৯১৮ সালের চম্পারন বিক্ষোভ এবং খেদা সত্যাগ্রহের মাধ্যমে ভারতীয় জনগণের মধ্যে জনপ্রিয়তার বিস্তার হয় গান্ধীজীর। এই আন্দোলন চলাকালীন জনগণ তাঁকে ‘বাপু’ বলে সম্বোধন করে। আর এই সময় থেকেই সমগ্র পৃথিবীতে অহিংস শান্তিকামী নেতা সত্যাগ্রহের উদ্ভাবক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী পরিচিত হন ‘মহাত্মা গান্ধী’ হিসাবে।

আরও পড়ুন:মহাত্মা গান্ধীর জীবন ছিল তাঁর বার্তা: রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের পুরোধা মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে অবিভক্ত বাংলার সম্পর্ক ছিল অতীব নিবিড়। পরাধীন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের চালিকা শক্তির প্রধান উৎস ছিল আমাদের এই বঙ্গভূমি। গান্ধীজী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘গুরুদেব’ বলে সম্মান করতেন, আর কবিগুরু’ও গান্ধীজীকে ‘মহাত্মা’ বলে সম্বোধন করতেন। যদিও ভারতের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো কিরূপ হবে, কিংবা জাতীয়তাবাদী আন্দোলন কোন নির্দিষ্ট দিশা গ্রহণ করবে, কিংবা স্বাধীন সমাজচেতনায় শিক্ষানীতির কি রূপরেখা হবে, সেই ব্যাপারে দুজনের মতের কিছুটা ভিন্নতা দেখতে পাওয়া যায়, তবুও তাঁদের একে ওপরের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা ছিল। গান্ধীজী প্রাচীন ভারতীয় ভাবনায় যুব সমাজকে গড়ে তুলতে ছেয়েছিলেন এবং খুব সাধারণ জীবনযাপনের মাধ্যমে চরিত্র গড়ে তোলার কথা বলেন। তাঁর বর্ণিত প্রকৃত রাষ্ট্রকে তিনি ‘রামরাজ্য’ বলে অভিহিত করেন।

রাম রাজ্যের ভিত্তি হিসাবে অহিংস গ্রামীণ সমাজের কথা উল্লেখ করেন গান্ধীজী। তাঁর মতে বৃহৎ যন্ত্রের মাধ্যমে পরিচালিত উৎপাদন ব্যবস্থা ধনতান্ত্রিক ঔপনিবেশবাদের সহায়ক। অন্যদিকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ তাঁর শান্তিনিকেতনের তপোভূমিতে বিশ্ব মানবতা এবং ছাত্রদের নিত্য নতুন জ্ঞান বিজ্ঞানের ভাবনায় শিক্ষিত করবার পক্ষে সর্বদাই ব্রতী থেকেছেন। এই দুই অসীম পাণ্ডিত্যের ভাবনার পার্থক্যের বিশদ আলোচনা না করেও একথা বলা যায় যে, উনিশ শতকের ভারতবর্ষ এমন দুই মেধার জন্ম দিয়েছে যাঁদের মূল ভাবনার মতানৈক্য থাকলেও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে দুজনেরই অবদান অনস্বীকার্য। অন্যদিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালীর জাতীয় জননায়ক নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে গান্ধীজীর যে মতাদর্শগত পার্থক্যের অবতারণা হয় তা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে বদল করে দিয়েছিল। ইংরেজ ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের হাতিয়ার হিসাবে গান্ধীজী যেমন অহিংস ও সত্যাগ্রহের পথের কথা বলেছেন তেমনি নেতাজী সুভাষচন্দ্র সশস্ত্র বিপ্লবে বিশ্বাস করতেন। পরবর্তীকালে নেতাজী সুভাষচন্দ্রের নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ বাহিনীর সংগ্রাম ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তিকে তরান্বিত করে।

ভারতের গণ আন্দোলনকে উজ্জীবিত করতে ও পূর্ণ স্বরাজের দাবিতে গান্ধীজী ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’ ডাক দিলে তাকে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বিপুলভাবে সমর্থন করেন। গৃহত্যাগ করে নেতাজী সুভাষচন্দ্র সেই সময় জার্মানির বার্লিনে ছিলেন। বার্লিন থেকে ভারতের অধিবাসীদের প্রতি রেডিও বার্তায় নেতাজী সুভাষচন্দ্র গান্ধীজীকে বাপু বলে সম্বোধন করেন। আবার ১৯৪৪’র ৬ জুলাই আজাদ হিন্দ রেডিও’র ব্রডকাস্টে নেতাজী সুভাষচন্দ্রই প্রথমবারের জন্য মহাত্মাকে ‘জাতির জনক’ সম্বোধনে অভিহিত করেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিন্ন পথ অবলম্বন করলেও ভারত মাতাকে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত করাই ছিল দুজনেরই একমাত্র উদ্দেশ্য।

গান্ধীজীর জীবনাদর্শ, তাঁর জাতীয়তাবাদী ভাবনা, তাঁর স্বাধীনতা লাভের উদ্দেশে অহিংস সংগ্রামের রূপরেখা, এই সমস্ত কিছুই ছিল চিরায়ত সনাতন ভাবধারা ও ধর্মের ওপর ভিত্তি করে। তাঁর মতে ভারতীয় সভ্যতার মূলই হল ধর্ম। ভারতীয়রা ধর্মচ্যূত হলেই, বা ঈশ্বরের ওপর আস্থা হারালেই আমাদের এই প্রাচীন সভ্যতার হানি হবে বলেই তিনি মনে করতেন। আর এই ভাবনা তাঁর জীবনের মূলস্রোত হয়ে তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে থেকে গেছে। সেই দিক থেকে দেখতে গেলে গান্ধীজীর জীবন আধুনিক ভারতের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। তিনি এক ঋদ্ধ মহামানব। জাতির নির্মাণের জন্যই তাঁর আবির্ভাব। নিঃসন্দেহে তাঁর জীবন আমাদের কাছে শিক্ষণীয়। নিজের ঋষিতুল্য জীবনে ব্যক্তিগত প্রয়োজন তাঁর ছিল না বললেই চলে। থাকতেন আশ্রমে, ছিলেন স্বল্পাহারী, সাধারণ ভারতীয় কৃষকের মতো তাঁর শৃঙ্গার। এহেন মহামানবেরই তো আমাদের রাষ্ট্রগঠনের শাশ্বত আদর্শ হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর সত্যের প্রতি গান্ধীজীর আগ্রহ ও নিষ্ঠা তো আজ আমাদের জাতীয় জীবনের নৈতিক চাবিকাঠি।

সততা ও নিষ্ঠার প্রতি মাননীয় প্রধামন্ত্রীজীর আনুগত্য প্রশ্নাতীত। আর তাঁর এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই তাঁকে অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবর্গের থেকে অনেক উর্ধে রাখেন। একথা অনস্বীকার্য যে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদিজী মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের সুযোগ্য ধারক ও বাহক। আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার মহাত্মা গান্ধীর জীবনাদর্শকে সম্বল করে একের পর এক দৃঢ় পদক্ষেপে জাতির উন্নয়ন সাধনে অগ্রসর হয়ে চলেছে। আজকে ভারতব্যাপী যে ‘স্বচ্ছ ভারত’ অভিযান সংঘবদ্ধ হচ্ছে, তাঁর কেন্দ্রবিন্দুতে কিন্তু সেই গান্ধীজীই রয়েছেন। নিজ জীবনে ও পারিপার্শ্বিক সমাজে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ওপর সর্বদাই বিশেষ জোর দিতেন গান্ধীজী।

স্বচ্ছতাকে ধর্মীয় অনুশাসনের মতো পালন করতেন তিনি ও তাঁর অনুগামীরা। এই মহামানবের আবির্ভাবের সার্ধশতবার্ষিকীতে নির্মল এক ভারতবর্ষের সৃজন নিঃসন্দেহে তাঁর প্রতি হবে আমাদের আদর্শ শ্রদ্ধার্ঘ্য। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিকত্ব বিধির সংশোধনীও হলো এক অর্থে গান্ধীজীর আদর্শের প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালন। একথা প্রধানমন্ত্রীজি স্বয়ং ১২ই জানুয়ারী ২০২০ জাতীয় যুব দিবসের প্রাক্কালে বেলুড় মঠের জনসভায় দাঁড়িয়ে আমাদের জানিয়ে গেছেন। প্রতিবেশী রাষ্ট্রে যে সব সংখ্যালঘুরা নিপীড়িত হয়ে ভারতীয় সংবিধানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে আমাদের দেশে আশ্রয় চান, তাঁদের আশ্রয় দেওয়া আমাদের নৈতিক কর্তব্য। দেশভাগের করুণ ইতিহাস আমাদের বিস্মৃত হলে তো চলবে না।

সমকালীন পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক মতভেদ বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যের দাবি রাখে। সমগ্র বাংলায় প্রধান বিরোধী দল হিসাবে বিজেপির উত্থানের পর থেকেই রাজনৈতিক হিংসার সূত্রপাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বিজেপির সঙ্গে বাংলায় ক্ষমতাসীন তৃনমূল সরকারের মত পার্থক্য ছিল ও থাকবে কারণ মমতা ব্যানার্জীর দল মিথ্যাচার ও দুর্নীতিকে আশ্রয় করে বাংলার মানুষকে ভুল পথে চালিত করবার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সমগ্র ভারতে উন্নয়নের যে কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন তাকে ভয় করছেন মমতা ব্যানার্জী। তাই রাজনৈতিকভাবে বিজেপির বিরোধিতা করার অক্ষমতাকে চাপা দেওয়ার জন্য সমগ্র রাজ্য জুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে হিংসাত্বক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাছে তৃণমূল। গান্ধীজীর অহিংস আন্দোলন যেমন করে ভারত মাতাকে ইংরেজদের হাত থকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিল তেমনি গান্ধীজীর অহিংস নীতির অনুপ্রেরণা নিয়েই পশ্চিমবঙ্গকে তৃণমূল নামক অভিশাপ থকে মুক্ত করবে বিজেপি। তাই পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মানুষ যদি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হিংসাত্মক তৃণমূলকে বিতাড়িত করে বাংলার উন্নয়নের দায়িত্বভার বিজেপির হাতে সঁপে দেয় তাহলে নিশ্চয়ই সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাজের পুনর্গঠন হবে বলে আশা করা যেতেই পারে।

আরও পড়ুন:কৃষ্ণনগরে বিজেপির যুব মোর্চার সভায় জনজোয়ার

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার একটি আদর্শহীন রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষীদের সংগোষ্ঠী। এহেন আদর্শবিচ্যুত দলের কাছ থেকে কোনো মহামানবের পদাঙ্ক অনুসরণ করার চিন্তা করাটাও বিড়ম্বনার। স্বভাবতই এই সরকার গান্ধীজীর স্নিগ্ধ আদর্শের পরিপন্থী। খুন, রাহাজানি, দুর্নীতি, স্বজনপোষণ আর হিংস্র রাজনীতিই হলো এনাদের পরিচায়ক। যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির সুযোগ্য নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার আজ বহুবিধ কল্যাণকারী কর্মসূচির মাধ্যমে গান্ধীজীর মহান আদর্শে জাতির সামগ্রিক উন্নতি সাধনে ব্রতী হয়েছে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার প্রতিনিয়ত কেন্দ্রীয় সরকারের বহুমুখী জনহিতকারী প্রকল্পসমূহের বিরোধিতা করে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষকে নিজেদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক সাফল্যের জন্য ক্রমাগত বঞ্চনা করে আসছে। আসুন আজ মহাত্মা গান্ধীজীর এই পুণ্য জন্মদিবসে আমরা পশ্চিমবঙ্গে প্রকৃত পরিবর্তনের জোয়ার আনার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হই। গান্ধীজীর সত্যাগ্রহ ও অহিংস আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের এই মহতী সংগ্রামে ব্রতী হতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে সুশাসন ও সর্বক্ষেত্রে স্বচ্ছতা প্ৰতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের প্রতিনিয়ত লড়াই করে যেতে হবে।

(লেখক রাজ্য বিজেপি সভাপতি)

Related Articles

Back to top button
Close