fbpx
অন্যান্যকলকাতাগুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

ইতিহাসের আলোকে গণেশ চতুর্থী…

দোয়েল দত্ত: মহারাষ্ট্ৰের প্ৰধান উৎসব গণেশ চতুর্থী৷ একে ঘিরে মুম্বইতে উন্মাদনার শেষ থাকে না৷ তবে জানেন কি, এর আসল উৎস মুম্বই নয়, পুনে? ছত্ৰপতি শিবাজী মহারাজের সময় থেকেই সেখানে গণেশ চতুর্থী পালন করা হচ্ছে যেহেতু সিদ্ধিদাতা গণেশ ছিলেন পেশোয়াদের কুলদেবতা৷ তবে আস্তে আস্তে পেশোয়াতন্ত্ৰের পতনের ফলে গণেশ চতুর্থী তার সাৰ্বজনিক রূপটি হারিয়ে পারিবারিক পুজো হিসাবেই আবদ্ধ হয়ে পড়েছিল৷

ভারতে তখন ব্ৰিটিশ রাজ৷ কিন্তু বিঘ্নবিনাশককে কি আর ঘরে আটকে রাখা যায়? পরে মহারাষ্ট্ৰের স্বাধীনতা সংগ্ৰামী ও সমাজ সংস্কারক লোকমান্য তিলকের হাত ধরেই গণেশ চতুর্থীআবার তার সাৰ্বজনীন রূপ ফিরে পেল৷

বৰ্তমানে আমরা বিনায়ক চতুর্থী বা গণেশ চতুর্থীর যে রূপ-জৌলুষ দেখি তার প্ৰচলন ১৮৯২ সালে৷ সেই বছর কৃষ্ণা জিপন্থ খাসজিওয়ালে নামে পুনের এক বাসিন্দা মারাঠা আধিপত্য অধ্যুষিত এলাকা গোয়ালিয়রে যান এবং গণেশ চতুর্থী কীভাবে জনসাধারণের মধ্যে সমারোহের সঙ্গে পালিত হয়, দেখে কাৰ্যতই অভিভূত হয়ে গিয়েছিলেন৷ মনে মনে ভাবতে থাকেন পুনেতেও তো এরকম উৎসব করাই যায়৷ হলেই-বা ব্ৰিটিশ শাসনের অধীন, উৎসব পালনে তো কোনও বাধা নেই৷ পুনেতে ফিরে তাঁর দুই বন্ধু ভাউসাহেব জাভালে এবং বালাসাহেব নাটুকে সমস্ত জানালেন মনের কথা, কী দেখলেন, কতটা সমারোহ সবিস্তারে চলল তার বিবরণ দেওয়া৷ এরপরে ভাউসাহেব জাভালের হাত ধরেই আবারও পেশোয়াযুগের পরে পুনেতে বারোয়ারি গণেশপুজো শু্রু হয়, যাতে অল্প অল্প করে লোকজন অংশ নেয়৷

 আরও পড়ুন: ‘এটা মুসলিম দেশ, এখানে রাখা যাবে না গণেশের মূর্তি’..বলেই আছাড়, ভাইরাল ভিডিও

স্বাভাবিকভাবেই লোকমান্য তিলকের সংবাদপত্ৰ ‘কেশরী’তে ১৮৯৩ সালে জাভালের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্ৰশংসা করে গণেশ উৎসবের খবর ছাপা হয়৷ এমনকী তিলক তাঁর সংবাদপত্ৰের অফিসে বাপ্পার (মারাঠিরা গণেশকে গণপতি বাপ্পা বলে সম্বোধন করেন) একটি মূৰ্তিও রেখে দিলেন৷ তারপর মূলত লোকমান্য তিলকের উদ্যোগেই বাৰ্ষিক বারোয়ারি উৎসবে পরিণত হয় গণেশ চতুর্থী মুম্বইতে (তৎকালীন বোম্বে)৷ এখনকার দিনে আমরা ‘পাবলিক ইভেন্ট’ বলতে যা বুঝি গণেশ চতুর্থীকে সেই রূপ কিন্তু দিয়েছিলেন লোকমান তিলকই৷ তিনিই প্ৰথম সামিয়ানা খাটিয়ে মঞ্চ সকলের জন্য বিশাল গণেশ মূৰ্তি এনে পুজোর আয়োজন করেছিলেন৷ আর সেই থেকেই মহারাষ্টে দশদিনব্যাপী গণেশ চতুর্থীর উৎসব পালনের প্ৰচলন হয়৷ যার বিদায়বেলায় আরবসাগরে বাপ্পার বিসৰ্জনে বিষাদকণ্ঠে সকলে বলে ‘গণপতি বাপ্পা মোরিয়া, মঙ্গলমূৰ্তি মোরিয়া’ (মারাঠি ভাষায় পরের বছর আসার জন্য আহ্বান)৷

Related Articles

Back to top button
Close