fbpx
অফবিটঅসমখেলাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

গণসুর ও ওয়েসিস, একই ছাদের নিচে শিলচরের দুই ক্রিকেট ক্লাব

তাজ উদ্দিন, শিলচর: শিলচরের ক্রিকেটে সাম্প্রতিককালের দুটি পরিচিত নাম গণসুর এবং ওয়েসিস। এক ছাদের নিচে থাকা দুটি ক্লাব। একই পরিকাঠামো ব্যবহার করে, এমনকী পরিচালন কমিটিও প্রায় একই। এই ‘ভাই-ভাই’ ক্লাবের মধ্যে ওয়েসিস শুধুমাত্র খেলাধুলা নিয়েই ব্যস্ত। গণসুরের কাছে খেলা দুই নম্বরে। তারা মূলত সাংস্কৃতিক ক্লাব। শহরের বাইরে এমনকি ভিনরাজ্য থেকেও শিলচরের জন্য সুনাম কেড়ে এনেছে তারা। শিলচরের পাবলিক স্কুল রোড এলাকার অন্যতম গর্বের সম্পত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে গণসুর ও ওয়েসিস।

১৯৭২ সালের ২ আগস্ট গণসুর কালচারাল অর্গানাইজেশনের জন্ম। নামটা রেখেছিলেন অপরেশ ভৌমিক। এর ছয় বছর পর ১৯৭৮ সালে গড়া হয় ক্লাব ওয়েসিস। এই সুন্দর নামটা বিজয় খানের দেওয়া।

শুরু থেকেই গণসুরের বেশ ভাল সংখ্যক সদস্য ছিলেন। এদের অনেকেই ছিলেন ক্রীড়াপ্রেমী এমনকি খেলোয়াড়ও। শহরের অন্যান্য ক্লাবের হয়ে খেলেছেন তারা। যখন নিজেদের একটা ব্যানারে শিলচর ডি এস এ-র হয়ে খেলার চিন্তাটা মাথায় এল, সবাই মিলে গণসুরকে বেছে নিলেন। ১৯৮৭ সালে ডি এস এ-র অ্যাফিলিয়েশন নিয়ে ক্রিকেটে নেমে পড়ল গণসুর। বি ডিভিশন থেকে শুরু। ১৯৯২-এ টাউন বয়েজ ক্লাবকে হারিয়ে এ ডিভিশনে পা রাখা। ২০০৩-০৪ পর্যন্ত জেলার সর্বোচ্চ লিগে খেলল তারা। ওই মরশুমে অবনমন ঘটে। পরবর্তী কয়েকটি মরশুমে এবং বি-ডিভিশনে ওঠানামার সাপ-লুডো চলতে থাকে। ২০০৮-১৪ সময়সীমায় বি-ডিভিশনে খেলে তারা।

২০১৫-১৬ থেকে ২০১৯-২০ পর্যন্ত এ ডিভিশনে খেলে আবার নেমে গেল বি ডিভিশনে। প্রসঙ্গত, ‘১৯-২০ থেকে বি ডিভিশনেরও অবনমন ঘটে তৃতীয় স্তরের লিগ হয়ে গেছে। কারণ, এই বছর চালু হয়েছে সুপার ডিভিশন। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে গণসুর দুইবার এ ডিভিশনের সেমিফাইনাল খেলে, যা তাদের সেরা প্রদর্শন। ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন সুনীল দাস, সচিব বিজয় খান। বর্তমানে গৌরাচাঁদ রায় ও বিভাস রায় যথাক্রমে সভাপতি ও সচিব হিসেবে রয়েছেন।

ফিরে আসি ওয়েসিসে। ১৯৭৮ সালে কলকাতার শিল্পীদের এনে একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেছিল গণসুর। এতে লাভের মুখও দেখে ক্লাব। ফলে একটা পার্টি দেওয়া হয়। সেখানেই ওয়েসিস ক্লাব গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাঁশ-বেত দিয়ে ওয়েসিসের ক্লাব ভবনই প্রথমে তৈরি করা হয়। গৌরাচাঁদ রায় হলেন ওয়েসিসের প্রথম সভাপতি, প্রদীপ দাসকে (বুলু) সচিব করা হল। এই উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন দেবব্রত পাল, জয়ন্ত দাস, কানাই ভট্টাচার্য, অজয় ভৌমিক প্রমুখ।

তবে ডি এস এ পর্যন্ত পৌঁছতে অনেকটা সময় নিয়ে ফেলে ওয়েসিস। ২০০৪-এ তারা অ্যাসোসিয়েট সদস্য হয়। ২০০৪-০৫ মরশুমে থার্ড ডিভিশন দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু। প্রথম বছরেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে বি ডিভিশনে উত্তরণ। ‘০৬-০৭ মরশুমে মালুগ্রাম ক্লাবকে হারিয়ে এ ডিভিশনে পৌঁছে যায় ওয়েসিস। আর, ২০১৯-২০ মরশুমে সুপার ডিভিশন চালু হলে তারাও ঐতিহাসিক এই লিগের অংশ হয়ে যায়। সুপার ডিভিশনে এবার সেমিফাইনাল খেলেছে ওয়েসিস। এর আগে এ ডিভিশনে ২০১১-তে রানার্স হয় তারা। ২০১৪-১৫ এবং ‘১৫-১৬ মরশুমে পরপর দু’বার চ্যাম্পিয়ন হয়। ক্লাবটির বর্তমান সভাপতি বিধানচন্দ্র রায়, সচিব শ্রীবাস সাহা।

ইতিমধ্যে শিলচরে বেশ কিছু ক্রিকেটার রয়েছেন যারা ওয়েসিসে খেলে সুনাম কুড়িয়েছেন। অন্যভাবে বলা যেতে পারে, তাদের জন্য ওয়েসিস আজ এই জায়গায় পৌঁছেছে। এরকম কয়েকজন ক্রিকেটার হলেন অভ্রনীল ধর, প্রসেনজিৎ ভট্টাচার্য, রাজু দাস, সাইদুল এ এফ বড়লস্কর, মিহির কান্তি দেব, বিনয় কৃষ্ণ সাহা, অভিজিৎ দেবনাথ, প্রসেনজিৎ সরকার, অনুভব দাস। যেহেতু দুটি ক্লাব একই ছাদের নিচে রয়েছে, তাই ক্রিকেটের দেখভালের ব্যাপারে অনেক কিছুই সামলাচ্ছেন প্রসেনজিৎ ভট্টাচার্য জয়।

জেলার ক্রীড়া মানচিত্রে ক্রিকেট দিয়ে পরিচয় লাভ করা ক্লাব দুটি অন্য খেলাতে তেমন সক্রিয় নয়। ২০০৬ সাল থেকে ওয়েসিস অবশ্য ঘটা করে বার্ষিক ক্রীড়া আয়োজন করে থাকে। স্থানাভাবে মূলত ইন্ডোর গেমসই করে। এছাড়া স্বল্প পরিসরের মধ্যে তাদের আয়োজিত টেনিস বল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বেশ জমজমাট হয়ে ওঠে।

Related Articles

Back to top button
Close