fbpx
কলকাতাহেডলাইন

নেপথ্যে বাংলার শিল্পী! আগামী বুদ্ধ পূর্নিমার জোছনায় আলোকিত হবে বৃহৎ শায়িত গৌতম

দেশের সবচেয়ে বড়ো শায়িত বুদ্ধমূর্তি তৈরির গৌরব কুমোরটুলির মিন্টু পালের

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: সবচেয়ে বড়ো দুর্গা মূর্তি গড়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন কুমোরটুলির প্রতিভাবান শিল্পী মিন্টু পাল। সেইবার অবশ্য দেশপ্রিয় পার্কের পুজোয় প্রবল ভিড়ের চাপে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দর্শকের প্রবেশ বন্ধ করে দেয় পুলিশ, প্রশাসন।আর এই ঘটনার জেরে মন ভেঙে পড়ে গুণী ভাষ্করের। এবার যেন ঈশ্বর তাঁর সব দুঃখ ভুলিয়ে দিলেন। দেশের সবচেয়ে বড়ো শায়িত বুদ্ধমূর্তি গড়ার ভার পড়েছে তাঁর উপর।
মঙ্গলবার কুমোরটুলিতে মিন্টু পালের স্টুডিওতে দাঁড়িয়ে ‘ বুদ্ধ ইন্টারন্যাশনাল ওয়েলফেয়ার মিশনের’ প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আর্যপাল ভিক্ষু জানালেন, ‘ কোশিনগরে পরিনির্বাণের আগে সিংহ শয্যায় ( হাতের উপর ভর দিয়ে আড়াআড়িভাবে শোওয়া) শুয়ে ভগবান বুদ্ধ শেষবাণী উচ্চারণ করেছিলেন। আগামী বছর বুদ্ধপূর্ণিমায় বুদ্ধগয়াতে দেশের সবচেয়ে বড়ো শায়িত বুদ্ধমূর্তি প্রতিষ্ঠা হবে। ফাইবার গ্লাসের তৈরি সেই মূর্তি গড়ছেন গুণী ভাষ্কর মিন্টু পাল।’

তাঁর কাছে জানা গেল সারনাথে বুদ্ধের দণ্ডায়মান মূর্তি রয়েছে, বুদ্ধগয়াতে ধ্যানস্থ মূর্তি রয়েছে। দুটি মূর্তিরই উচ্চতা ৮০ ফুট। এই সিংহ শয্যা মূর্তিটির উচ্চতাও ৮০ ফুট হবে। তবে বেদি ধরে উচ্চতা দাঁড়াবে ১০০ ফুট। তিনি জানালেন ‘পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড়ো বুদ্ধমূর্তি রাজেন্দ্রপুরে আমাদের মিশনে তৈরি করেছেন এই মিন্টু পালই। বড়ো মূর্তি তৈরিতে ওঁর দক্ষতা দেখেই ওঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
কি বলেছেন শিল্পী নিজে? মিন্টু পাল জানাচ্ছেন, ‘ আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারবো। সব নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির উপর। তবে ভালো লাগছে একটা ইতিহাসের অংশ হতে পেরে। এটা আমার শুধু নয় বাংলারও গর্বের বিষয়।’
পরিনির্বাণের আগে শান্ত সমাহিত গৌতম বুদ্ধের সিংহ শয্যায় শায়িত মূর্তি থেকে যাবে বহুকাল, শতাব্দী। মিন্টু পাল তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়েই অমর হয়ে থাকবেন ভাবীকাল, অনাগত শতাব্দীতে।

Related Articles

Back to top button
Close