fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

আজ রাজস্থান কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের বৈঠক ডাক গেহলটের, ভিডিও প্রকাশ করে শক্তি প্রদর্শন পাইলটের

আজ রাজস্থান কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের বৈঠক ডাকলেন গেহলট,

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: রাহুলের হস্তক্ষেপেও গলছে না বরফ! মরুরাজ্যে কংগ্রেসের সরকার টলমল করছে। সোমবার মনে হয়েছিল বুঝি বরফ গলল। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বুঝি পাইলটকে বুঝিয়ে দলে ফেরার জন্য রাজি করিয়ে ফেললেন! কিন্তু রাতেই আবার সমস্যা ঘোরতর হল। গেহলটের পালটা শক্তি প্রদর্শন করলেন শচীন পাইলটও । সেই সঙ্গে বুঝিয়ে দিলেন, তিনি আর সহজে ‘ঘরে’ ফেরার পাত্র নন। কংগ্রেস সূত্রের দাবি, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পর খোদ রাহুল গান্ধী পাইলটের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাতেও নিজের অবস্থানে অনড় রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রী। এমনকী, রাহুলের সঙ্গে সশরীরে দেখা করতে পর্যন্ত অস্বীকার করেছেন তিনি।

রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর পক্ষে রয়েছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক। রাহুল-প্রিয়ঙ্কার ছোটবেলায় তাদের ম্যাজিক দেখানো গেহলট জানিয়েছেন, তাঁর হাতে রয়েছে ম্যাজিক ফিগারও। তারপরই আজ, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজস্থান কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তরুণ নেতা তথা উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলটকেও। কিন্তু সোমবার রাতে পাইলট শিবিরের বিধায়করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তাতে বলা হয়েছে ১৬ জন বিধায়ক একসঙ্গে রয়েছেন। গেহলটের কাছে গরিষ্ঠ সংখ্যা নেই। যদিও ওই ভিডিওতে কোথাও শচীনকে দেখা যায়নি। তবে এখন রাজনৈতিক মহলের কৌতুহল, কংগ্রেস পরিষদীয় দলের বৈঠকে পাইলট যোগ দেন কিনা। অনেকের মতে, ওই বৈঠক এড়িয়েই যাবেন রাজেশ-পুত্র।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট কংগ্রেসের বিধায়কদলের একটি বৈঠক ডাকেন। কংগ্রেস সুত্রে দাবি করা হয় ওই বৈঠকে মোট ১০৭ জন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। যদিও বিভিন্ন সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, গেহলটের বৈঠকে খুব বেশি হলে ১০২ জন বিধায়ক হাজিরা দেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে শক্তি প্রদর্শনের পর ওই বিধায়কদের জয়পুর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। মঙ্গলবার ফের ওই হোটেলেই বিধায়কদলের বৈঠক ডেকেছে কংগ্রেস।

আরও পড়ুন: গুণ্ডারাজ চলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ মমতা সরকার, বিধায়কের রহস্য মৃত্যুতে তোপ নাড্ডা, স্মৃতি ইরানির

কিন্তু শচীন পাইলটের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, মঙ্গলবারের বৈঠকেও যোগ দেবেন না তিনি। পাইলটের এক ঘনিষ্ঠ এদিন আরও একবার দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী গেহলটের কাছে সরকার বাঁচানোর মতো বিধায়কের সমর্থন নেই। বিধানসভায় আস্থাভোট হলেই সেটা প্রমাণিত হয়ে যাবে। এরই মধ্যে গুরুগ্রামের মানেসর হোটেলে থাকা পাইলট অনুগামী বিধায়কদের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয় তাঁর দপ্তরের তরফে। যাতে অন্তত ১৫ জন বিধায়ককে একসঙ্গে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে। পাইলট অনুগামী একাধিক বিধায়ক সেই ভিডিও টুইটও করেছেন। এরই মধ্যে সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছে কংগ্রেসের জোটসঙ্গী ভারতীয় ট্রাইবাল পার্টি।

সচিন পাইলটের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মেটানোর পক্ষপাতী কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। সোমবারই দলের মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা জানান, কোনও সমস্যা থাকলে দলে আলোচনা করে মেটানো যেতে পারে। সচিন পাইলট ও অন্য বিদ্রোহী কংগ্রেস বিধায়কদের জন্য দলের দরজা সব সময় খোলা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবারও ফের একটি বৈঠক ডেকেছে কংগ্রেস। সেই বৈঠকে যোগ দিতে বলা হয়েছে পাইলটকে। রাজস্তানে দলের তরফে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অবিনাশ পান্ডে এদিন বলেন, ‘সচিন পাইলটকে আমরা দ্বিতীয় সুযোগ দিতে চাই। আজকের বৈঠকে তাঁকে থাকতে বলা হয়েছে। আমি আশাবাদী, দলের সব বিধায়কই আজকের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন এবং দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করবেন। রাজস্থানের সার্বিক উন্নতির জন্য আমরা কাজ করে যাব।’

 

Related Articles

Back to top button
Close